‘বাল্যবিবাহ মানবাধিকার লঙ্ঘন’

0
68
marriage

marriageবাল্যবিবাহ মানবাধিকার লঙ্ঘন। তাই শুধু আইন প্রণয়ন করে নয়, জনসচেতনতার মাধ্যমেও এর প্রতিরোধ করতে হবে বলে মত দিয়েছেন বিভিন্ন নারী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। সেই সাথে বাল্যবিবাহ বন্ধে বিদ্যমান আইনকে যথাযথভাবে যুগোপযোগী করা এবং এর সুষ্ঠু প্রয়োগ ও সর্বোপুরি ঐক্য গড়ে তোলা  জরুরি বলেও জানান তারা।

বুধবার বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে গার্লস নট ব্রাইডস বাংলাদেশ অ্যালায়েন্স আয়োজিত ‘সম্মিলিতভাবে আমরা বাল্যবিবাহ রোধ করতে পারি’ শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠকে নেতৃবৃন্দ এ মত দেন।

অনুষ্ঠানে নেতৃবৃন্দ বাল্যবিবাহের বিভিন্ন ক্ষতিকর দিকগুলো তুলে ধরে বলেন, পৃথিবীর যেসব দেশে বাল্যবিয়ের হার সবচেয়ে বেশি সেগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান চতুর্থ। বাল্যবিয়ের কারণে শতকরা ৪৫ শতাংশ কম ওজন ও খর্বাকৃতির শিশুর জন্ম হয়। যেসব কিশোরী মা হয় তারা দ্রুত তাদের জীবনী শক্তি হারিয়ে ফেলে। বাল্যবিয়ের শিকার অপরিণত মায়েরা সন্তান জন্ম দিতে গিয়ে শতকরা ৫ জন মৃত্যুর শিকার হচ্ছে।

১৮ বছরের আগে বাংলাদেশে প্রায় ৮০ শতাংশ কিশোরী মা হয় জানিয়ে বক্তারা বলেন, আর এই জন্যই ১৫-১৯ বছর বয়সী কিশোরীদের মৃত্যুর প্রধান কারণ গর্ভধারণজনিত জটিলতা।

তবে, সবচেয়ে বেশি জরুরি সচেতনতা সৃষ্টি করা এমন অভিমত দিয়ে বক্তারা বলেন, অভিভাবকসহ সমাজের সকল মানুষ যদি শিশুবিবাহের ভয়াবহ পরিণতি সম্পর্কে সচেতন না হয় তাহলে কিছুতেই তা বন্ধ করা যাবে না। এ ব্যাপারে সরকারের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমের ইতিবাচক ভূমিকাকে উৎসাহিত  করতে হবে।

ওয়ার্লড ভিশনের সাবিরা চৌধুরী বলেন, যেহেতু ১৮ বছরের নিচের সবাইকে শিশু গণ্য করা হয়, সুতরাং, এই আইনকে ‘শিশু বিবাহ নিরোধ আইন বলা উচিত’।

ব্রাকের জেন্ডার জাস্টিস এন্ড ডাইভারসিটি ও মাইগ্রেশনের পরিচালক শীপা হাফিজা বলেন, বাল্যবিবাহ নারীর শারীরিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশের পথ রুদ্ধ করে দেয় যা নারীর ক্ষমতায়নকে অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিয়েছে। প্রচেষ্টার অন্ত নেই আমাদের, তবু দেশের ৬৪ ভাগ বিয়ে বাল্যবিবাহ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

পপুলেশন কাউন্সিল কান্ট্রি ডিরেক্টর ড. ওবায়দুর রহমান বলেন, শিক্ষা কার্যক্রমে বাল্যবিবাহের কুফল সংযুক্ত করা অত্যন্ত জরুরি।

নারী ও শিশু মন্ত্রণালয়ের সচিব তারিক-উল-ইসলাম বলেন, সব মহলের মতামতের ভিত্তিতেই আইন চূড়ান্ত হয়ে সংসদে যাবে। আইন প্রণযণের পুরো প্রক্রিয়া অনুসৃত হবে এবং অবশ্যই প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন লাগবে। বিয়ের বয়স নারী-পুরুষের একই করা যায় কি না, সে বিষয়ে আমরা বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নেব।

ব্লাস্টের প্রতিনিধি তাফসি রাবেয়া বলেন, আইনে আদালতের শরণাপন্ন হওয়ার বিষয়টি জটিল মনে হয়। বাল্যবিবাহ বিষয়ক মামলার বিকল্প নিষ্পত্তির ব্যবস্থা থাকা দরকার।

আইসিডিডিআরবি-র গবেষক রুচিরা তাবাসসুম বলেন, বিবাহের ক্ষেত্রে নারীর মতামতের উপর গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়টি আইনে অন্তর্ভুক্ত হওয়া দরকার।

আইন ও সালিশ কেন্দ্রের সানাইয়া ফাহিম আনসারী বলেন, বিয়ের বয়স ছেলে-মেয়ে উভয়ের সমান হওয়া দরকার। সবাইতো ১৮ বছরে ভোটদানের উপযুক্ত হয়। নারী ও পুরুষের জন্য দুই রকম বয়স আমাদের মানষিক দৈন্য প্রকাশ করে। এটা নারী-পুরুষের সাম্য প্রতিষ্ঠায় বাধা।

তিনি বলেন, জোরপূর্বক ধর্ষণ বলার কোনো মানে হয় না। ধর্ষণ যে পরিস্তিতিতেই হোক এটা ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ।

গোল টেবিল বৈঠকে প্ল্যান, ব্রাক, কেয়ার, পপুলেশন কাউন্সিল, দি হোয়াইট রিবন অ্যালায়েন্স, ওয়ার্ল্ড ভিশন, আইসিডিডিআরবি, এফপিএবি, মেরিস্টোপ বাংলাদেশ, ইফার্ডের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

 

জেইউ