বিদ্যুতের দাম ১৫ দশমিক ৯০ শতাংশ বৃদ্ধির প্রস্তাব ডেসকোর

0
92

BERC_33বিদ্যুতের দাম ১৫ দশমিক ৯০ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাব করেছে ঢাকা ইলেকট্রিক সাপ্লাই কোম্পানি (ডেসকো)। আর এই প্রস্তাব গ্রহণ করেনি বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরী কমিশন। সংস্থাটি মনে করছে খুচরা মুল্য ২ দশমিক ০১  শতাংশ বাড়ানো যেতে পারে।

বুধবার কাওরান বাজারে এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন কার্যালয়ে শুনানী অনুষ্ঠিত হয়। শুনানীতে অংশ  নেন বিইআরসি চেয়ারম্যান এআর খান, কমিশন সদস্য ড. সেলিম মাহমুদ, প্রকৌশলী দেলওয়ার হোসেন, জ্বালানী বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক শামসুল আলমসহ অন্যান্য।

খুচরা বিদ্যুৎ মুল্যাহার পরিবর্তনের প্রস্তাব মুল্যায়ন প্রতিবেদন থেকে এসব কথা জানা গেছে।

ডেসকো ঢাকার মিরপুর, গুলশান, টঙ্গীসহ সংশ্লিষ্ট এলাকায় বিদ্যুৎ সেবা দিয়ে থাকে।

প্রতিষ্ঠানটি খুচরা বিদ্যুতের মূল্য ৮ শ্রেণীতে ১৯ ধাপে মূল্য বাড়ানোর প্রস্তাব করেছে। এর মধ্যে আবাসিক খাতে শুন্য থেকে ৭৫ ইউনিট  পর্যন্ত প্রতি ইউনিট ৩ টাকা ৩৩ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৪ টাকা, ৭৬ থেকে ২০০ ইউনিট পর্যন্ত ৪ টাকা ৭৩ পয়সা থেকে ৫ টাকা ৭০ পয়সা,  ২০১ থেকে ৩০০ ইউনিট পর্যন্ত  ৪ টাকা ৮৩ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৬ টাকা, ৩০১ থেকে ৪০০ ইউনিট পর্যন্ত ৪ টাকা ৯৩ পয়সা থেকে ৬ টাকা ৫০ পয়সা,  ৪০১ থেকে ৬০০ ইউনিট ৭ টাকা ৯৮  পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৮ টাকা ৫০ পয়সা, ষষ্ঠ ধাপে ৬০১ থেকে উর্ধ্বে ৯ টাকা ৩৮ পয়সা থেকে বাড়িয়ে তা ১০ টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

বিশেষকরে কৃষি কাজে ব্যবহৃত সেচ পাম্পের জন্য তা করা হয়েছে (ফ্লাট রেট) ২ দশমিক ৫১ থেকে বাড়িয়ে ৩ টাকা, (বাণিজ্যিক ও অফিস )ফ্লাট রেট ৯ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১০ দশমিক ২৫, তা অফ-পিক আপ সময়ে ৭ দশমিক ২২ থেকে বাড়িয়ে ৮ দশমিক ৭৫, পিক সময়ে ১১ দশমিক ৮৫ থেকে বাড়িয়ে তা করার প্রস্তাব করা হয়েছে ১৩ দশমিক ২৫ টাকা।

ক্ষুদ্র শিল্পের জন্য ফ্লাট রেট ৬ দশমিক ৯৫ থেকে ৮ দশমিক ১০, অফ পিক সময়ে ৫ দশমিক ৯৬ থেকে ৭ দমমিক ১০, পিক সময়ে ৮ দশমিক ৪৭ থেকে ১০ দশমিক ১০ পয়সা করা হয়েছে।

তাছাড়া রাস্তার বাতি ও পানির পাম্পের জন্য করা হয়েছে ৬ দশমিক ৪৮ থেকে ৭ দশমিক ২৫ টাকা।

আবেদনে উল্লেখ করা হয়, বিইআরসি দ্বারা বিদ্যুতের পাইকারি মূল্য বৃদ্ধি, বেতন ভাতা, পরিচালনা ব্যয়, বৈদ্যুতিক মালামাল ও সরঞ্জামাদির মূল্য বৃদ্ধিসহ মুদ্রাস্ফিতির কারণে প্রতিষ্ঠানটি ধাপে ধাপে আর্থিক সক্ষমতা হারাচ্ছে বলে দাবি করা হয়। এই অবস্থায় ডেসকোকে লোকসানের হাত থেকে বাঁচাতে বাস্তবতার নিরিখে দর বৃদ্ধি করা প্রয়োজন বলে মনে করে প্রতিষ্ঠানটি।

এই আবেদনে ২০১২-১৩ অর্থবছরে সিস্টেম লস দেখানো হয়েছে ৮ দশমিক ৪৪ শতাংশ। ডেসকো তাদের আবেদনে চলতি অর্থবছরের জন্য ৮ দশমিক ৪৩ শতাংশ লস ধরে প্রস্তাব পেশ করেছে। এই প্রস্তাব অনুযায়ী কারিগরি মূল্যায়ন কমিটির বিশ্লেষণে চলতি অর্থবছরের জন্য প্রতিষ্ঠানটির গড় সিস্টেম লস ৮ দশমিক ৪৩ শতাংশ বিবেচনা করে রেভিনিউ হিসেব করা হয়েছে।

প্রতিটি গ্রাহক শ্রেণীকে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ট্যারিফ নির্ধারণের কথা বলা হয়েছে। আর এই লক্ষ্যে প্রবিধানমালা মোতাবেক আবাসিক, বাণিজ্যক, ক্ষুদ্র শিল্প, ১১কেভি, ৩৩ কেভি, ১৩২ কেভিসহ রাস্তার বাতি ও পানির পাম্প ব্যবহারকারী শ্রেনীর জন্য শ্রেণীভিত্তিক কস্ট অব সার্বিস নিরুপনের জন্য প্রতিষ্ঠানটিকে নির্দেশ প্রদানের সুপারিশ করা হয়েছে।

অপচয় খাতে সংগৃহীত অর্থ আলাদা অ্যাকাউন্টে জমা হতে পারে। যা পরবর্তি ট্যারিফ আবেদনের সময়  এই অর্থ কোনো কোনো খাতে ব্যয় করা হয়েছে তার বিস্তারিত বিবরণ কমিশনে দাখিল করতে হবে বলা সুপারিশ করা হয়।

শুনানিতে অংশগ্রহণকারীরা বলেন, কোনো ক্রমেই বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি করা উচিত হবে না। এই বৃদ্ধির পরিকল্পণা করা হয়েছে গরীবকে টার্গেট করে। তাই এই প্রস্তাব বিবেচনা না করে উৎপাদন ব্যয় কিভাবে কমানো যায় সেই দিকে নজর দেওয়ার পরামর্শ আসে।

বিইআরসি চেয়ারম্যান এআর খান বলেন, চতুর্থ দফা আলোচনা হয়েছে। আরও আলোচনা হবে। তবে গরীব জনগণের বিষয় প্রাধান্য দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।