‘প্রতিবন্ধকতা সত্বেও ডিজিটালাইজেশনের পথে চালিত হচ্ছে দেশ’

অর্থসূচক ডেস্ক

0
60
PM Hasina
সুইজারল্যান্ডের ডাভোসে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) ‘ডিজিটাল লিডারস পলিসি মিটিং অন জব’ শীর্ষক সেশনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছবি: পিআইডি

দেশের লাখো যুবশক্তির সৃজনশীলতা এবং উদ্ভাবনী শক্তির বিকাশে বৈশ্বিক জ্ঞান এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের সুযোগকে বাংলাদেশ স্বাগত জানাবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, উন্নয়নের পথে নানামুখী প্রতিবন্ধকতা সত্বেও দেশকে ডিজিটালাইজেশনের পথে চালিত করছে আমাদের সরকার।

সুইজারল্যান্ডের ডাভোসে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) ‘ডিজিটাল লিডারস পলিসি মিটিং অন জব’ শীর্ষক সেশনে এসব কথা বলেন তিনি। ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণের সাফল্যগাঁথা উপস্থাপনের জন্য এ বছর ডব্লিউইএফের প্যানেল আলোচক হিসেবে মনোনীত হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বিশেষ অতিথির ভাষণে তিনি বলেন, দেশের লাখো যুবশক্তির সৃজনশীলতা এবং উদ্ভাবনী শক্তির বিকাশে আমরা যেকোনো বৈশ্বিক জ্ঞান এবং ব্যবসা-বাণিজ্যকে স্বাগত জানাব। নিশ্চিতভাবেই এতে করে উভয় পক্ষই লাভবান হবে।

PM Hasina
সুইজারল্যান্ডের ডাভোসে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) ‘ডিজিটাল লিডারস পলিসি মিটিং অন জব’ শীর্ষক সেশনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছবি: পিআইডি

প্রধানমন্ত্রী বলেন, তথ্য-প্রযুক্তির প্রসারের কারণে যুব সম্প্রদায়ের সঙ্গে সর্বাধুনিক প্রযুক্তির মেলবন্ধন ঘটাতে চায় বাংলাদেশ। আমাদের সমাজ এবং বহিঃবিশ্বের সঙ্গে জ্ঞান ও প্রযুক্তির সেতুবন্ধন করাই আমাদের লক্ষ্য।

তিনি বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার এক-তৃতীয়াংশের বয়স ১০ থেকে ২৪ বছরের মধ্যে। তথ্য-প্রযুক্তিসহ যেকোনো প্রযুক্তি দ্রুত গ্রহণ করতে এবং এর সঙ্গে খাপ খাওয়াতে পারে এ তরুণ সমাজ।

শেখ হাসিনা বলেন, বিশ্বে মোবাইল ফোন ব্যবহারকারীর সংখ্যা বিবেচনায় বাংলাদেশের অবস্থান ১০ম। বর্তমানে দেশের ৬ কোটি মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহার করছে; এর অধিকাংশই স্মার্টফোন ব্যবহারকারী।

তিনি বলেন, বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে প্রযুক্তি আমাদের জীবন এবং জীবনমানকে উন্নত করেছে। সবাই যেন এ পরিবর্তনের ছোঁয়া পায়- তা আমাদের নিশ্চিত করতে হবে। একইসঙ্গে আমাদের লক্ষ্য রাখতে হবে, প্রযুক্তি যেন কোনোভাবেই সমাজে বিঘ্ন সৃষ্টির কারণ না হয়। তা যেন আমাদের উন্নয়নের জন্যই ব্যবহার করা হয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, পরিবর্তিত বিশ্ব পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে ২০০৯ সালেই ‘রূপকল্প ২০২১’ এবং ‘রূপকল্প ২০৪১’ নির্ধারণ করে বাংলাদেশ সরকার। এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে তথ্য প্রযুক্তিকে শিক্ষা খাতে সম্পৃক্ত করে রোডম্যাপ প্রণয়ন করে। আইসিটিকে কেন্দ্র করে শুধু শিক্ষা খাতেই নয়; আমাদের শিশুদের ডিজিটাল কনটেন্টের মাধ্যমে দক্ষতা বৃদ্ধি এবং প্রতিদ্বন্দ্বিতার মানে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সে অনুযায়ী, ক্রমান্বয়ে মধ্যম আয়ের দেশ এবং উন্নত সমৃদ্ধ দেশে পরিণত হওয়ার দিকে এগিয়ে যাচ্ছি আমরা।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে এখন মাধ্যমিক পর্যায়ের স্কুলগুলোতে ২৩ হাজার মাল্টিমিডিয়া ক্লাশরুম রয়েছে এবং প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যায়ে আরো ১৪ হাজার মাল্টিমিডিয়া ক্লাশরুম তৈরির কাজ চলছে। প্রায় দেড় লাখ মাধ্যমিক ও হাই স্কুলের শিক্ষকদের সমন্বয়ে ‘টিচার্স পোর্টাল’ নামের একটি ওয়েব পোর্টাল গড়ে তোলা হয়েছে। যেখানে প্রায় ৮০ হাজার শিক্ষা উপকরণ সম্পৃক্ত করা হয়েছে। ২০২১ সাল নাগাদ দেশের ৯ লাখ শিক্ষককে এ পোর্টালে সম্পৃক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

শেখ হাসিনা বলেন, মুক্তপথ নামে একটি বৃহৎ ই লার্নিং প্লাটফর্ম ডেভেলপ করছে বাংলাদেশ। এর মাধ্যমে যেকোনো স্থান থেকে বাংলাদেশিরা তাদের দক্ষতা বৃদ্ধি করে কর্মসংস্থান তৈরি করে নিতে পারবেন। এটা হলো আমাদের তারুণ্যকে কর্মমুখী বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে গড়ে তোলার চেষ্টা। অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নই আমাদের লক্ষ্য; উন্নয়নের সর্বক্ষেত্রেই ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কেও সম্পৃক্ত করা হয়েছে।

প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে টিকে থাকতে কারিগরি শিক্ষার প্রতি বিশেষ গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, টেকনিক্যাল অ্যান্ড ভকেশনাল এডুকেশন ট্রেনিংকে (টিভিইটি) শিক্ষার্থীদের কাছে আকর্ষণীয় করে তোলার জন্য ‘থ্রি সিক্সটি ডিগ্রি হিউম্যান ডেভেলপমেন্ট মিডিয়া প্লাটফর্ম’ গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে বিশ্বজুড়ে কাজ করা আইটি ফ্রিল্যান্সারদের অন্যতম বড় ক্ষেত্র বাংলাদেশ। আমরা এখন নারী ফ্রিল্যান্সার গড়ে তোলার ওপর জোর দিচ্ছি। দুর্গম ও সুবিধাবঞ্চিত এলাকায় ফ্রিল্যান্সার তৈরিতে কাজ চলছে। সারাদেশে বর্তমানে প্রায় ৫ লাখ আইটি ফ্রিল্যান্সার রয়েছে। দেশব্যাপী সাড়ে ৪ হাজার ডিজিটাল সেন্টার রয়েছে। ফলে দেশের প্রতিটি অলি-গলি একটি অপরটির সঙ্গে সংযুক্ত। একইসঙ্গে কাজের নতুন নতুন ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে।

তৃণমূলে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও প্রযুক্তিগত উন্নয়নের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা স্বনির্ভর ওয়ান-স্টপ সার্ভিসকে উৎসাহিত করছি। এতে দেশব্যাপী ১০ হাজারেরও বেশি উদ্যোক্তা তৈরি হয়েছে, যাদের মধ্যে অর্ধেকই নারী।

সূত্র: বাসস

অর্থসূচক/এমই/