ধূমপানে বেশি ঝুঁকিতে শিশুরাই

0
66

passive_smoking_man_smokes_while_holding_baby-spl-1ধূমপান স্বাস্থ্য, অর্থনীতি, সংস্কৃতি থেকে শুরু করে গোটা মানবজাতির জন্যই বড় হুমকি। ধূমপান জনিত কারণে বড় রকমের স্বাস্থ্যহানীসহ মৃত্যু পর্যন্ত ঘটতে পারে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যমতে বর্তমানে বিশ্বের প্রায় দেড়’শ কোটি মানুষ ধূমপান করে। আর ধূমপানের কারণে পৃথিবীতে প্রতি বছর ৫০ লাখের বেশি  মানুষ মারা যায়।

তবে প্রত্যক্ষ এ সব ধূমপায়ীদের তুলনায় আরও বেশি স্বাস্থ্যঝুঁকিতে থাকে সংশ্লিষ্ট  পরিবাবের অধূমপায়ী সদস্যরা।

সম্প্রতি ইউরোপীয়ান হার্ট জার্নালে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে ধূমপায়ী মা-বাবার সন্তানরা বাবা-মায়ের চেয়ে বেশি স্বাস্থ্যঝুঁকিতে থাকে।

কারণ হিসাবে সাময়িকিটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিড়ি বা সিগারেটের ধোঁয়ায় চার হাজার রাসায়নিক ও বিষাক্ত পদার্থ রয়েছে। একজন পূর্ণবয়স্ক মানুষ অনেক ক্ষেত্রে এই সকল বিষাক্ত পদার্থের সাথে অভিযোজিত হতে পারে। কিন্তু শিশুদের এই বিষাক্ত পদার্থের সাথে অভিযোজন ক্ষমতা অনেক কম। তাই আশেপাশে কেউ ধূমপান করলে শিশুরাই তাতে বেশি আক্রান্ত হয় ।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পরোক্ষ এই ধূমপানের ফলে শিশুদের ধমনীর প্রাচীর পাতলা হয়ে যায়, যেটি পরবর্তীতে হৃদরোগ ও স্ট্রোকের মতো ঘটনা ঘটায়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ফিনল্যান্ড এবং অস্ট্রেলিয়ার যৌথভাবে পরিচালিত গবেষণাটি  দুই হাজারেরও বেশি শিশুর উপর পরিচালিত করা হয়। এক্ষেত্রে গবেষকরা ধূমপায়ী বাবা-মার তিন থেকে ১৮ বছর বয়সের শিশুদের অন্তর্ভুক্ত করেন।

গবেষণাটির পরিচালক অস্ট্রেলিয়ার তাসমানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. সিয়েনা গল বলেন, আমাদের গবেষণায় এটা স্পষ্টতই প্রমাণিত হয়েছে ধূমায়ীত পরিবেশে শিশুদের রক্ত ধমনীর গঠনের উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন ঘটে।

এছাড়াও আল্ট্রাসাউন্ড স্ক্যানে দেখানো হয়েছে, ধূমায়িত পরিবেশ কিভাবে একটা শিশুর জীবনকে বিপদের মধ্যে ঠেলে দেয়।

শিশুর বাল্যকালে এর কোন প্রভাব না পড়লেও প্রাপ্ত বয়স্ক হওয়ার পর পরই এর প্রভাব ঠিকই পরিলক্ষিত হয় বলেও জানায় গবেষকরা।