বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণে হাইকোর্টের স্থিতাবস্থা জারি

0
30
Orion Group
বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণে হাইকোর্টের স্থিতাবস্থা জারি

Orion Groupবুড়িগঙ্গার ওপরে ওরিয়ন গ্রুপের ১০২ মেগাওয়াট ক্ষমতার তেলভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের অবকাঠামো নির্মাণে স্থিতাবস্থা জারি করেছে হাইকোর্ট। বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলাম ও মো. আশরাফুল কামালের বেঞ্চ বুধবার আদালত অবমাননার একটি অভিযোগের সম্পূরক আবেদনের শুনানি করে এই আদেশ দেয়।

এরই সাথে অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) চেয়ারম্যান ও পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে তলব করেছে আদালত। আগামি ৮ এপ্রিল তাদেরকে আদালতে হাজির হয়ে রায় বাস্তবায়নের ব্যর্থতার বিষয়টি ব্যাখ্যা করতে হবে।

এর আগে গত ৩ মার্চ মাসে কালের কণ্ঠে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন ‘ফতুল্লায় বুড়িগঙ্গা খেয়ে ওরিয়নের বিদ্যুৎ কেন্দ্র’ শিরোনাম যুক্ত করে এই আবেদনটি করা হয়। আদালতে আবেদনকারীর পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট মনজিল মোরশেদ।

মনজিল মোরশেদ বলেন, দেশে নদী রক্ষায় হাইকোর্ট রায় দিয়েছিল। এই রায় বাস্তবায়ন না করায় আদালত অবমাননার রুলও দেওয়া হয়। এরপরও দায়িত্ব পালন না করায় দুই সরকারী কর্মকর্তাকে তলব করেছে হাইকোর্ট।

ওরিয়ন গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান ডিজিটাল পাওয়ার অ্যান্ড অ্যাসোসিয়েটস লিমিটেড ওই বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি নির্মাণ করেছে বলে জানা গেছে। ২০১২ সালের ১ আগস্ট প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে এ বিষয়ে চুক্তি করে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড।

“১০২ মেগাওয়াটের তেলভিত্তিক এই কেন্দ্র নির্মাণের জন্য পরিবেশের চূড়ান্ত অনুমতি নেয়ারও প্রয়োজন মনে করেনি ওরিয়ন। এ ধরণের বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনে এনভায়রনমেন্টাল ইমপ্যাক্ট অ্যাসেসমেন্ট (ইআইএ) বাধ্যতামূলক হলেও পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমোদন নেয়া হয়নি।”

কালের কণ্ঠে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার কাশিপুরে বুড়িগঙ্গা নদী দখল করে ওরিয়ন গ্রুপ ওই বিদ্যুৎকেন্দ্রটি নির্মাণ করেছে।

হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের করা একটি রিট আবেদনে বেশ কিছু নির্দেশনাসহ ঢাকার চার নদী রক্ষায় ২০০৯ সালের ২৫ জুন একটি রায় দেয় হাইকোর্ট। আপিল বিভাগও ওই রায় বহাল রাখে।  রায় বাস্তবায়ন না করায় আদালত অবমাননার আবেদন করলে ২০১১ সালের ১২ জুলাই বিআইডব্লিউটিএ চেয়ারম্যান ও পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার রুল দেয় হাইকোর্ট।

উল্লেখ্য, চলতি মার্চ মাস থেকেই বুড়িগঙ্গার ওপরে ওরিয়ন গ্রুপের ওই বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি পরীক্ষামূলকভাবে উৎপাদন শুরু হওয়ার কথা ছিল।