ভারতে এসিড দগ্ধ নারীকে পুরস্কার দিলো যুক্তরাষ্ট্র

0
162

acid attackনাম লক্ষ্মী। এসিডে দগ্ধ হয়েছেন বেশ কয়েক বছর আগেই। জীবনের অর্ধেক সময় পার করেছেন দগ্ধের যন্ত্রণায় কাতর হোয়ে। কোনো আত্মহত্যা কিংবা মরণের পথ বেছে না নিয়ে এগিয়ে গেছেন  জীবন থেকে জীবান্তরে। নিজেই কুড়িয়েছেন নিজের পাথেয়। সম্প্রতি এই সাহসী কাজের জন্য তাকে দেওয়া হয়েছে আন্তর্জাতিক সাহসী নারীর পুরস্কার।

বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এক অনুষ্ঠানে তার হাতে এ পুরস্কার তুলে দেন বর্তমান ফার্স্ট লেডি মিশেল ওবামা। খবর এনডিটিভির।

প্রতিবেদনে বলা হয়, লক্ষ্মীর বয়স যখন ১৬ বছর ছুঁই ছুঁই। তখন তার মুখে এসিড নিক্ষেপ করে তার এক বন্ধুর ৩২ বয়সী বড় ভাই। নয়াদিল্লীর ব্যস্ত খান মার্কেটে ২০০৫ সালে তাকে এসিড নিক্ষেপ করে ওই ব্যক্তি। লক্ষ্মী জানান, তার বন্ধুর বড় ভাই তাকে প্রেমের প্রস্তাব দেয়। আর সেই প্রস্তাবে সাড়া না দেওয়ায় আজ এমন পরিণতি তার।

তিনি বলেন “এসিডে আমার মুখ ঝলসে গেছে।  চেহারা হয়ে গেছে বিকৃতি। এ কারণে জীবনে অনেক দূর্ভোগ পোহাতে হয়েছে আমার । কিন্ত   একটুও দমিনি আমি। কাজ করে গেছি এসিড সন্ত্রাস নির্মূলে। এছাড়া  স্বপ্নেও ভাবিনি আত্মহত্যার পথ বেছে নিতে।

যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতের মতো দেশে যেখানে নারী ধর্ষণের ঘটনা নিত্য সেখানে এসিড নিক্ষেপের কথা নতুন নয়, অত্যন্ত স্বাভাবিক। এসিড নিক্ষেপের পর অনেক নারীই তাদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পারে। কিন্ত লক্ষ্মী তা করেনি। পরবর্তীতে এসিড নির্মূলে কাজ করে সে তার সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছে।

মন্ত্রণালয়টি আরও জানিয়েছে, ভারতে আজ পর্যন্ত যত জন নারী এসিড সন্ত্রাসের শিকার হয়েছেন তার মধ্যে লক্ষ্মী অন্যতম। তিনি হয়েছেন ভারতের মধ্যে সবচেয়ে কষ্ট সহিষ্ণু নারী। জাতীয় গণমাধ্যেমেও প্রচার করা হয়েছে তার এসিডের বিরুদ্ধে লড়াই । এমনকি এসিড বিক্রয় বন্ধে তার অভিযান গড়িয়েছে আদালত পর্যন্ত।

এস রহমান/