বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি;দ্বিতীয় শুনানিতেও প্রস্তাব আগের মতোই

0
75
berc
বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি;দ্বিতীয় শুনানিতেও প্রস্তাব আগের মতোই

BERC_1_1বিদ্যুতের দাম ২৩ দশমিক ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি করার প্রস্তাব করেছে ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (ডিপিডিসি)। তবে এনার্জি রেগুলেটরি   কমিশন (বিইআরসি) মতে বিদ্যুতের খুচরা মুল্য ৬ দশমিক ০৩  শতাংশ বৃদ্ধি করা প্রয়োজন।

গতকাল শুনানির প্রথম দিনে পিডিবির সাড়ে ১৫ শতাংশ দাম বৃদ্ধির প্রস্তব করলে তাদের ও প্রস্তাবে প্রেক্ষিতে কমিশন ৬.৬৬ শতাংশ দাম বাড়ানো যেতে পারে বলে জানায়।

বুধবার সকালে কাওরান বাজারের বিইআরসি কার্যালয়ে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর বিষয়ে শুনানি শুরু হয়। শুনানিতে অংশ  নেন বিইআরসি চেয়ারম্যান এআর খান, কমিশন সদস্য ড. সেলিম মাহমুদ, প্রকৌশলী দেলায়ার হোসেন, জ্বালানি উপদেষ্টা সামসুল আলমসহ অন্যান্যরা।

প্রস্তাবটিতে উল্লেখ করা হয়েছে, খুচরা বিদ্যুৎ মূল্যাহার বৃদ্ধির জন্য ডিপিডিসি আবাসিক খাতে প্রথম ধাপে বর্তমান মুল্য শুন্য থেকে ৭৫ ইউনিট ৩ দশমিক ৩৩ থেকে ৪ দশমিক ১১, দ্বিতীয় ধাপে ৭৬ থেকে ২০০ ইউনিট ৪ দশমিক ৭৩ থেকে ৫ দশমিক ৮৪,  তৃতীয় ধাপে ২০১ থেকে ৩০০ ইউনিট ৪ দশমিক ৮৩ থেকে বাড়িয়ে ৫ দশমিক ৯৭ টাকা, চতুর্থ ধাপে ৩০১ থেকে ৪০০ ইউনিট ৪ দশমিক ৯৩ থেকে ৬ দশমিক ০৯, পঞ্চম ধাপে ৪০১ থেকে ৬০০ ইউনিট ৭ দশমিক ৯৮ থেকে বাড়িয়ে ৯ দশমিক ৮৬ টাকা, ষষ্ঠ ধাপে ৬০১ থেকে উর্দ্ধ ৯ দশমিক ৩৮ থেকে বাড়িয়ে তা ১১ দশমিক ৫৮ পয়সা করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

বিশেষ কৃষি কাজে ব্যবহৃত সেচ পাম্পের জন্য তা করা হয়েছে (ফ্লাট রেট) ২ দশমিক ৫১ থেকে বাড়িয়ে ৩ দশমিক ১০ টাকা, (বাণিজ্যিক ও অফিস )ফ্লাট রেট ৯ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১১ দশমিক ১২, তা অফ-পিক আপ সময়ে ৭ দশমিক ২২ থেকে বাড়িয়ে ৮ দশমিক ৯২, পিক সময়ে ১১ দশমিক ৮৫ থেকে বাড়িয়ে তা করার প্রস্তাব করা হয়েছে ১৪ দশমিক ৬৩ টাকা।

ক্ষুদ্র শিল্পের জন্য ফ্লাট রেট ৬ দশমিক ৯৫ থেকে ৮ দশমিক ৫৮, অফ পিক সময়ে ৫ দশমিক ৯৬ থেকে ৭ দমমিক ৩৬, পিক সময়ে ৮ দশমিক ৪৭ থেকে ১০ দশমিক ৪৬ পয়সা করা হয়েছে। রাস্তার বাতি ও পানির পাম্পের জন্য করা হয়েছে ৬ দশমিক ৪৮ থেকে ৮ টাকা।

প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়েছে, ১৩২ কেভিতে ডিপিডিসির(২০১২-১৩) অর্থবছর সিস্টেম লস ৯ দশমিক ৫৬ শতাংশ। প্রতিষ্ঠানটি তাদের আবেদনে ২০১৩-১৪ অর্থবছরের জন্য ৯ দশমিক ৫৫ শতাংশ সিস্টেম লস ধরে পেশ করা হয়েছে। আর স্টাফ বিশ্লেষণে ২০১৩-১৪ অর্থবছরের জন্য ৯ দশমিক ৫৫ শতাংশ  সিস্টেম লস বিবেচনায় রেভিনিউ হিসেব করা হয়েছে।

প্রতিটি গ্রাহক শ্রেণীকে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ট্যারিফ নির্ধারণের কথা বলা হয়েছে। আর এই লক্ষ্যে প্রবিধানমালা মোতাবেক আবাসিক, বাণিজ্যক, ক্ষুদ্র শিল্প, ১১কেভি, ৩৩ কেভি, ১৩২ কেভিসহ সড়ক বাতি ও পানির পাম্প ব্যবহারকারী শ্রেনীর জন্য (শ্রেণীভিত্তিক কস্ট অব সার্বিন) নিরুপনের জন্য প্রতিষ্ঠানটিকে নির্দেশ প্রদানের সুপারিশ করা হয়েছে।

এই দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে কমিশন কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ করছে কমিউস্ট পার্টি  (সিপিবি)।

উল্লেখ্য ডিপিডিসি ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের আওতাধীন ডেসকো এলাকা বাদে অন্য এলাকাসহ শীতলক্ষ্যা নদীর উত্তর পাড়ে অবস্থিত নারায়ণগঞ্জ জেলাসহ সিদ্দিরগঞ্জ, ডেমরা ও তৎসংলগ্ন এলাকায় খুচরা গ্রাহকের মাঝে বিদ্যুৎ সেবা দিয়ে থাকে।