সাংবাদিকদের বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ করার পরামর্শ আসলামের

0
77
Md.-Aslamul-Hoque
সাংবাদিকদের বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ করার পরামর্শ আসলামের

Md.-Aslamul-Hoqueঅবৈধ সম্পদ অর্জন ও হলফনামায় প্রদত্ত সম্পদের অস্বাভাবিক বৃদ্ধির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সরকার দলীয় সংসদ সদস্য আসলামুল হক। সম্পদ বৃদ্ধির বিষয়টিকে তিনি আয়কর কর্মকর্তার ভুল বলেও  দাবি করেছেন।

সেই সাথে তার এই অবৈধ সম্পদ অর্জন ও অস্বাভাবিক সম্পদ বৃদ্ধির সংবাদ করার ক্ষেত্রে সাংবাদিকদের বস্তুনিষ্ঠ তথ্য পরিবেশনের পরামর্শ দেন।

আসলাম আজ বুধবার  দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) দেওয়া জিজ্ঞাসাবাদে তিনি তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ অস্বীকার করেন। সকাল ১০ টা থেকে দুদক  উপ-পরিচালক শেখ মেজবাহুর রহমান তাকে জেরা শুরু করেন। চলে  দুপুরের পর পর্যন্ত।

জিজ্ঞাসাবাদের পরে আসলামুল হক সাংবাদিকদের জানান তার বিরুদ্ধে আনিত কোনো অভিযোগের ভিত্তি নেই। অবৈধ ভাবে কোনো সম্পদ তিনি অর্জন করেন নি।

আর সম্পদের অস্বাভাবিক বৃদ্ধির বিষয়টিও অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, হলফনামায় সম্পদের যে বিবরনী দেওয়া হয়েছে সেখানে আয়কর কর্মকর্তা ভুল করেছেন।

তিনি জানান হলফনামায় ১৪১ একর জমির যে তথ্য দেওয়া হয়েছে তা আসলে ভুল। জমির পরিমাণ হবে ১ দশমিক ৪১ একর।

এদিকে রাজনীতিবিদদের নিয়ে সংবাদ করার আগে সংবাদকর্মীদের সঠিক তথ্য জেনে নেওয়ার পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, সম্মানীত সাংবাদিক আইয়েরা আপনারা আমাদের(রাজনীতিবিদ)নিয়ে যখন সংবাদ করবেন তখন তথ্যগুলো যাচাই করে দেখবেন। ভুল সংবাদ পরিবেশন করে আমাদের ক্ষতি করবেন না।

দুদক সূত্র জানায়, ক্ষমতার পাঁচ বছরে ঢাকা ১৪ আসন থেকে নির্বাচিত সাবেক ও বর্তমান এই সাংসদের  ঘোষিত সম্পত্তি (জমি)  বেড়েছে ৩৪ গুণের বেশি। ২০০৮ সালের হলফনামায় তিনি ও তাঁর স্ত্রী মাকসুদা হক চার একর ১৯ দশমিক ৫ শতাংশ জমির মালিক, দাম ২০ লাখ ৬৯ হাজার ৫০০ টাকা। দশম সংসদ নির্বাচনে হলফনামায় বলেছেন, স্বামী-স্ত্রী মিলে ১৪৫ দশমিক ৬৭ একর (১৪ হাজার ৫৬৭ দশমিক ৫৪ শতাংশ) জমির মালিক, দাম এক কোটি ৯২ লাখ ৯৯ হাজার ৫০০ টাকা।

এ ছাড়া আসলামুল হকের বিরুদ্ধে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে জমি দখলের অভিযোগ রয়েছে। তিনি দশম সংসদ নির্বাচনে একই আসনে বিনা প্রতিদ¦ন্দিতায় সাংসদও নির্বাচিত হয়েছেন। এছাড়া তার শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়েও বিতর্ক আছে।

এরআগে গত ২৭ ফেব্রুয়ারি তাকে তলব করে চিঠি দেয় কমিশন।

প্রসঙ্গত,গত ১২ জানুয়ারি আসলামুল হকসহ  ক্ষমতাসীন সরকারের সাবেক সাত মন্ত্রী এমপির হলফনামায় দেওয়া সম্পদ বৃদ্ধি ও অবৈধ সম্পদ অনুসন্ধানে সাত কর্মকর্তা নিয়োগ দেয় কমিশন। বিষয়টিতে ইতিমধ্যে সাবেক স্বাস্থ্য মন্ত্রী ও বর্তমান সংসদ সদস্য আ ফ ম রুহুল হক, পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ও বর্তমান সংসদ সদস্য মাহবুবুর রহমান ও সাংসদ আব্দুর রহমান বদি, সাবেক সংসদ সদস্য আব্দুল জব্বারকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে দুদক।