অনেক প্রার্থীরই টিআইএন নেই, নি:শ্চুপ নির্বাচন কমিশন

0
114
Upazila_Election

Upazila_Electionআয়কর আইনে সব ধরণের নির্বাচনে প্রার্থীদের কর সনাক্তকরণ নাম্বারের  (টিআইএন) বাধ্যবাধকতা থাকলেও তা মানা হচ্ছে না। আইনের প্রয়োগের অভাবে টিআইএনবিহীন অনেক ব্যাক্তিই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এমনকি তাদের কেউ কেউ নির্বাচনে জয়ীই হচ্ছেন।

প্রার্থীরা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার সব শর্ত পূরণ করছে কি-না তা দেখভালের দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের (ইসি)। সংস্থাটি প্রার্থীদের ঋণ সংক্রান্ত রিপোর্ট সংগ্রহ করলেও টিআইএন ও কর সংক্রান্ত বিষয়গুলো বরাবরই এড়িয়ে যায়। আর এ কারণে আইনলংঘন করেও নির্বাচনে অংশ নিতে পারছে টিআইএনহীন অনেক ব্যাক্তি।

নির্বাচন কমিশনে (ইসি) দেওয়া হলফনামার বিবরণীতে  দেখা গেছে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের অনেক প্রার্থী তাদের আয়কর রিটার্ন জমা দেননি। তাদের টিআইএন নেই বলেই ধারণা করা হচ্ছে। কারণ টিআইএন থাকলে প্রতিবছর আয়কর বিবরণী বা রিটার্ন জমা দিতে হয়। এটি আইনী বাধ্যবাধকতা।

উপজেলা নির্বাচন আইন ২০১৩ এর ৫০(৩) ধারায় বলা হয়েছে প্রার্থীরা হলফনামায় তাদের আয়করের হিসাব জমা দেবে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে। পাশাপাশি রেজিস্টার্ড ডাকযোগে নির্বাচন কমিশন বরাবর পাঠাবে।

এবারের উপজেলা নির্বাচনে কয়েকটি উপজেলায় দেখা গেছে সবগুলোতেই এক বা একাধিক প্রার্থী রয়েছেন যাদের টিআইএন নাম্বার নেই।

চট্টগ্রামের চকরিয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান প্রার্থী ৭ জনের মধ্যে ২ জনই আয়কর রিটার্ন জমা দেননি। ওই উপজেলার টিআইএন না দেওয়া প্রার্থীরা হলেন মোহাম্মদ ওয়ালিদ ও সরওয়ার আলম।

এছাড়া ভাইস-চেয়ারম্যান ২ জন তাদের আয়কর রিটার্ন জমা দেননি। এরা হল- সিরাজুল ইসলাম আজাদ ও জামাল হোছাইন। এদিকে মহিলা চেয়ারম্যানদের ৫ জন প্রতিদ্বন্দ্বির কেউই  আয়কর রিটার্ন জমা দেয়নি। এরা হলেন- জান্নাতুল বাকেয়া, জাহানারা পারভীন, নাঈমা মোক্তাদীর, সাফিয়া বেগম, হালেছা বেগম।

কুমিল্লার লাকসাম উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান প্রার্থী ৫ জনের মধ্যে ২ জন আয়কর রিটার্ন জমা দেয়নি। এরা হল-মো: শহীদ উল্লাহ ও রেহানা বেগম।

এছাড়া ভাইস-চেয়ারম্যান পদের ৪ জনের ৩ জন তাদের আয়কর রিটার্ন জমা দেয়নি। এরা হল- মাজেদুল ইসলাম, মো: নজরুল ইসলাম ও মো: মনিরুজ্জামান। এদিকে মহিলা চেয়ারম্যানদের ৩ জনের কেউই  আয়কর রিটার্ন জমা দেয়নি। এরা হল- মিনারা বেগম, শাহিনুর আক্তার এবং শেফালী বেগম।

এছাড়া কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার ৩ জন ভাইস চেয়ারম্যান, ৪ জন মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান, খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার ১ জন চেয়ারম্যান, ২ জন ভাইস চেয়ারম্যান, ২ জন মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান, গাজিপুরের কাপাসিয়া উপজেলার ১ জন করে চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান, চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলায় ৩ জন চেয়ারম্যান, ৫ জন ভাইস চেয়ারম্যান ও সকল মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান তাদের আয়কর রিটার্ন জমা দেয়নি।

এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার শাহ নেওয়াজ বলেন, প্রার্থী আয়কর রিটার্ন জমা দিয়েছে কি-না সেটি রিটার্নিং কর্মকর্তারা বলতে পারবে। তবে সবাই জমা দিয়েছে এমন তথ্যই আমার জানা আছে।

তিনি আরও বলেন, কেউ যদি আয়কর রিটার্ন জমা না দেয় এমন তথ্য পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) ২য় সচিব মো. আশরাফুল ইসলাম বলেন,আয়কর আইনে বলা আছে,যে কোন নির্বাচনে কাউকে প্রার্থী হতে হলে তার অবশ্যই টিআইএন নম্বর থাকতে হবে। কোনো প্রার্থী টিআইএন নম্বরধারী না হলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের। তবে কমিশন যদি আমাদেরকে এ বিষয়ে তথ্য দেয় তাহলে এনবিআরও ব্যবস্থা নিতে পারে।

তিনি আরও বলেন,নির্বাচন কমিশনের সকল আইন জাতীয় সংসদ কর্তৃক প্রণীত আর এনবিআরের আইন অর্ডিন্যান্স দ্বারা প্রণীত। তাই এ ক্ষেত্রে কমিশনের আইন অগ্রাধিকার পেয়ে থাকে।