‘চট্টগ্রামে হবে লেদার ভিলেজ’

প্রতিনিধি

0
124
Leather Products
চামড়াজাত পণ্য উৎপাদন।

চামড়ার বাজার ভালো থাকা সত্ত্বেও চামড়া শিল্পের বিকাশে বেশ পিছিয়ে আছে চট্টগ্রাম। চট্টগ্রামে মাত্র দুইটি লেদার প্রতিষ্ঠান থাকলেও দেশের ক্রমবর্ধমান চামড়ার চাহিদার বেশ বড় অংশ পূরণ হয় এখান থেকে। যেহেতু চট্টগ্রামে অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলা হচ্ছে সেহেতু চামড়া শিল্পের বিকাশে চট্টগ্রামে একটি লেদার ভিলেজ গড়ে তোলার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার।

আজ চট্টগ্রামে বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে আয়োজিত ৩ দিন ব্যাপী উন্নয়ন মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান (সচিব) পবন চৌধুরী।

পবন চৌধুরী বলেন, দেশের অর্থনীতি অনেকাংশে নির্ভর করে থাকে চট্টগ্রামের উপর। এই চট্টগ্রাম থেকে যেমন রাজস্ব আদায় হয় বেশী তেমনি আমদানি ও রপ্তানির জন্য চট্টগ্রাম বন্দরের উপর নির্ভরশীল আমাদের দেশের অর্থনীতি। কিন্তু চামড়া শিল্পের জন্য এই অঞ্চলের অনেক সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও এই খাতে চট্টগ্রাম বেশ পিছিয়ে পড়েছে।

development-fair-7
চট্টগ্রামের উন্নয়ন মেলার একটি স্টলে দর্শনার্থীর ভিড়।

তিনি বলেন, একসময় চামড়া শিল্পে চট্টগ্রাম অনেক অবদান রেখেছে। বর্তমানে আমার জানা মতে চট্টগ্রামে মাত্র ২ টি লেদার কারখানা আছে তাও স্বল্প পরিসরে। কারণ ইটিপি না থাকায় এখানের অনেক লেদার ফ্যাক্টরি বন্ধ হয়ে গেছে। এই জন্য আমরা দেশের চামড়ার বাজারের কথা চিন্তা করে এই শিল্পের বিকাশে অর্থনৈতিক অঞ্চলে ৩০০ থেকে ৫০০ একর জায়গা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। সেখানে তৈরি করা হবে লেদার ভিলেজ। দেশে লেদার শিল্পের বিকাশে অনেক বিদেশী রাষ্ট্র আগ্রহ দেখিয়েছে এবং তারা এই খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী বলে জানান এই কর্মকর্তা।

তিনি আরও বলেন, চট্টগ্রামের আনোয়ারা, মিরসরাইসহ অনেক অঞ্চলে অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার কাজ শুরু হয়েছে। যার মধ্যে বেশীরভাগ চট্টগ্রাম অঞ্চলে প্রতিষ্ঠিত হবে। এই সব অঞ্চলে অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলা শেষ হলে চট্টগ্রামের অর্থনীতিতে বেশ পরিবর্তন আসবে বলে আশা করছেন বোদ্ধারা। তাছাড়া অর্থনৈতিক অঞ্চল হলে এখানকার চাকরির বাজারে প্রায় ২ থেকে আড়াই লক্ষ লোকের কর্মসংস্থান হবে।

তাছাড়া দেশের বেকার মানুষের কর্মসংস্থানের জন্য সরকার কাজ করে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেন পবন চৌধুরী।

leather footware
প্রক্রিয়াজাত চামড়া থেকে তৈরি হয় বিভিন্ন জুতা, বেল্টসহ নানান পণ্য। ফাইল ছবি

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মো. সামসুল আরেফিন বলেন, চট্টগ্রামের এই উন্নয়ন মেলার মাধ্যমে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান তাদের বিষয়ে আগত দর্শনার্থীদের জানাবেন। তাছাড়া দর্শনার্থীরা মেলায় আসা প্রতিষ্ঠানের সম্পর্কে জানতে পারবেন।

তিনি বলেন, চট্টগ্রামের আইন শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে সিএমপি ও জেলা পুলিশের সাথে কাজ করে যাচ্ছে জেলা প্রশাসন। মানুষের নিরাপত্তা যাতে বিঘ্নিত না হয় সে দিকে বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে। নগরীতে ভেজাল, দুর্নীতি রোধসহ অন্যান্য বিষয়ে বিশেষ পদক্ষেপ নিচ্ছে জেলা প্রশাসন।

এছাড়া অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন বিভাগীয় কমিশনার মো. রুহুল আমিন, চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি মোহা. শফিকুল ইসলাম, চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার নূর এ আলম মিনা, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ চট্টগ্রাম জেলা কমান্ডার সাহাব উদ্দিন, নগর কমান্ডার মোজাফফর আহমেদ।

এর আগে সকালে উন্নয়ন মেলা উপলক্ষে ৯টায় নগরীর সার্কিট হাউস থেকে একটি শোভাযাত্রা বের হয়। শোভাযাত্রাটি এম এ আজিজ স্টেডিয়াম সংলগ্ল মেলা প্রাঙ্গণে এসে সমাপ্ত হয়। মেলায় ৯৫টি সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ১০৭টি স্টল অংশ নিয়েছে।

আগামী ১১ই জানুয়ারি পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত মেলা চলবে।

দেবব্রত/কাঙাল মিঠুন