দিনাজপুর জিলা স্কুলের শিক্ষকরা অবরুদ্ধ

0
43
Dinajpur- Zilla School

Dinajpur- Zilla School দিনাজপুর জিলা স্কুলে এসএসসি পরীক্ষা শেষ হওয়ার আগেই পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে উত্তরপত্র কেড়ে নেওয়া ও পরীক্ষার্থীদের গায়ে হাত তোলার অভিযোগে স্কুলের অফিস কক্ষ ভাংচুর ও ৪ ঘণ্টা শিক্ষকদের অবরুদ্ধ করে রাখে পরীক্ষার্থীরা।

মঙ্গলবারে দিনাজপুর জিলা স্কুলে এসএসসি পরীক্ষার্থীরা এই অবরোধ করে।

জানা যায়, আজ পদার্থ বিজ্ঞান, ইতিহাস ও ব্যবসায় পরিচিতি পরীক্ষা ছিল। দিনাজপুর জিলা স্কুলের দিনাজপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, চেহেলগাজী শিক্ষা নিকেতন, মহারাজা স্কুল, কলেজিয়েট বালিকা বিদ্যালয়সহ মোট ৮টি বিদ্যালয়ের ১ হাজার ৮৪৭ জন পরীক্ষার্থীরা পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে। দুপুরে পরীক্ষা শেষ হওয়ার ১৫ মিনিট আগেই ওই কেন্দ্রে বিভিন্ন কক্ষে দায়িত্বরত শিক্ষকরা পরীক্ষার্থীদের উত্তরপত্র কেড়ে নেয়। এ সময় কয়েকজন খাতা দিতে অনীহা প্রকাশ করলে তাদের গায়ে হাত তোলেন ও পরীক্ষার্থীদের অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করেন ওই শিক্ষরা। পরে পরীক্ষার্থীরা রুম থেকে বের হয়ে অভিভাবকদের জানালে অভিভাবক ও পরীক্ষার্থীরা এক হয়ে শিক্ষদের নিকট এর বিচার দাবি করেন। এ সময় কিছু শিক্ষার্থী উত্তেজিত হয়ে ওই বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষ ভাংচুর করে ও শিক্ষদের অবরুদ্ধ করে রাখে। সংবাদ পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলেও তাদের শান্ত করতে ব্যর্থ হয়।

এ সময় বিষয়টি জানতে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কেন্দ্র সচিব শাহীন আখতারের নিকট গেলে তিনি সাংবাদিকদের সাথে খারাপ আচরণ করেন ও ছবি তুলতে নিষেধ করেন। পরে অভিভাবকরা দায়ী শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ, মূল নম্বরের সাথে অতিরিক্ত ১০ নম্বর যুক্ত করাসহ বিভিন্ন দাবি তোলেন। এ সময় প্রধান শিক্ষক ওই কেন্দ্রের পরীক্ষার্থীদের নম্বরের বিষয়টি বিবেচনা ও দায়ী শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করার আশ্বাস দিলেও পরীক্ষার্থীরা শান্ত না হওয়ায় পুলিশ দিয়ে পরীক্ষার্থীদের কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়া হয়।

এ সময় অভিভাবকরা অভিযোগ করেন, এর আগেও এই বিদ্যালয়ে পরীক্ষার্থীদের নির্দিষ্ট সময়ের আগেই পরীক্ষার্থীদের খাতা কেড়ে নেওয়ার ঘটনা ঘটেছে।

আব্দুল ওয়াকিল নামে এক অভিভাবক জানান, দিনাজপুর জিলা স্কুলের পরীক্ষার্থীরা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের কেন্দ্রে পরীক্ষা দেয়। আর বালিকা বিদ্যালয়ের পরীক্ষার্থীরা জিলা স্কুল কেন্দ্রে পরীক্ষা দেয়। বালিকা বিদ্যালয়ের শিক্ষরা জিলা স্কুলের পরীক্ষার্থীদের সাথে খারাপ ব্যবহার করে এই কারণে জিলা স্কুলের শিক্ষকরা বালিকা বিদ্যালয়ের পরীক্ষার্থীদের সাথে খারাপ ব্যবহার করে। কিন্তু এই দু’ই প্রতিষ্ঠানের রেসারেসির কারণে পরীক্ষার্থীদের ভবিষ্যত খারাপ হচ্ছে। আমরা এর সুষ্ঠু সমাধান চাই।

সুমি আক্তার নামে এক পরীক্ষার্থী জানান, আজকে আমাদের পদার্থ বিজ্ঞান পরীক্ষা ছিল। এই পরীক্ষায় এ প্লাস না পেলে আমরা বুয়েট ও ডুয়েটে ভর্তি হতে পারবো না। কিন্তু ১০ মিনিটের আগে খাতা কেড়ে নেওয়ায় আমরা আশঙ্কা করছি এ প্লাস না পাওয়া নিয়ে।

পপি নামে এক পরীক্ষার্থী জানান, উত্তরপত্র কেড়ে নেওয়ার সময় উত্তরপত্র না দেওয়ায় শিক্ষরা আমাদের গায়ে হাত তুলেছে ও অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করেছে।

তবে এ ব্যাপারে জিলা স্কুলের প্রধান শিক্ষক শাহীন আখতারের নিকট জানতে চাওয়া হলে তিনি জানান, আমি সাংবাদিকদের সব জানাবো। কিন্তু পরে বলে তিনি তার নিজ কক্ষের দরজা বন্ধ করে দেন।

দিনাজপুর কোতয়ালী থানার অফিসার ইনচার্জ আলতাফ হোসেন জানান, ঘটনার সংবাদ পাওয়ার পরপরই ঘটনাস্থলে পুলিশ প্রেরণ করা হয়।

এদিকে কোনভাবেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আসায় অবরূদ্ধ হয়ে থাকা শিক্ষকরা একের পর এক বৈঠক করেন। দুপুর ২টায় পরীক্ষার্থীদের দেওয়া ৪ দফা দাবির মধ্যে ২টি দাবি মেনে নিয়ে পরবর্তীতে পরীক্ষার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে জানিয়ে কেন্দ্র সচিব ও জিলা স্কুলের প্রধান শিক্ষক শাহিন আখতার মাইকযোগে ঘোষনা দিলেও বিক্ষুব্ধ পরীক্ষার্থীরা আবারো ক্ষোভে ফেটে পড়ে। তারা ৪টি দাবিই মেনে নেওয়ার দাবি জানায়। এক পর্যায়ে জেলা প্রশাসকের প্রতিনিধি হিসেবে এনডিসিকে প্রেরণ করা হলে তাঁর নেতৃত্বে আবারো বৈঠক বসে। বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেয়া হয় যে, পরীক্ষার্থীদের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরনকারী শিক্ষকদের বিরূদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে, আগামি কোন পরীক্ষায় তাদের ইনভিজিলেটরের দায়িত্ব বিরত রাখা হবে এবং পরীক্ষার্থীদের দাবিগুলো লিখিতভাবে বোর্ড কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে।

কিন্তু এতেও পরীক্ষার্থীরা শান্ত হয়নি। তারা দায়িত্বে অবহেলার কারণে কেন্দ্র সচিব জিলা স্কুলের প্রধান শিক্ষক শাহিন আখতারকে বরখাস্ত করার দাবিতে বিক্ষোভ করতে থাকে। এ সময় পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিতে চেষ্টা চালায়। এরই মধ্যে জিলা স্কুলের প্রধান শিক্ষকপন্থী কতিপয় ছাত্র বিক্ষুব্ধ পরীক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালালে পুলিশ একজনকে আটক করে। পরে পরিস্থিতি বেগতিক দেখে পরীক্ষার্থী ও  সমবেত অভিভাবকদেরকে জোরপূর্বক ক্যাম্পাস থেকে বের করে দেয়। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত (বিকাল ৫টা) দিনাজপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের কিছু পরীক্ষার্থী অবস্থান নিয়ে ছিল।

সাকি/