রাজশাহীতে বিদ্রোহী প্রার্থী নিয়ে বিপাকে আ.লীগ বিএনপি

0
66
rajshahi

rajshahiআগামি ১৫ মার্চের রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে নিজেদের নির্বাচিত করতে নির্বাচনী মাঠে পুরোদমে নেমে পড়েছে প্রার্থীরা। তবে এ উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী থাকায় নিজেদের প্রার্থীকে নিজেরাই পরাজিত করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে দুই দলই। বড় দুই দলই এবার বিদ্রোহীর জ্বরে আক্রান্ত।

এ উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে ৬ জন, ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৩ জন ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৪ জন প্রার্থীসহ তিনটি পদে মোট ১৩ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। প্রতিটা পদে লড়াই হবে হাড্ডা- হাড্ডি। কেউ বসে নেই। নেই তাদের চোখে ঘুম। নির্ঘুম প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে প্রার্থীরা।

হাট-বাজার, চায়ের দোকান, মাঠ-ঘাটে সব জায়গায় ভোটের আমেজ লক্ষ্য করা গেছে এবং কে জয় লাভ করবে তার হিসাব-নিকাশের আলোচনায় ব্যাস্ত ভোটাররা। গোদাগাড়ী উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রার্থীরা দল ও জোটের সমর্থন নিয়ে উভয় পদের জন্য প্রতিদ্বন্দিতা করছেন। উপজেলা নির্বাচনে নিজেদেরকে যোগ্য ও জনগণের সহায়ক একজন প্রতিনিধি হিসেবে প্রমাণ করার জন্য প্রার্থীরা সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় ক্ষেত্রে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে সহায়তা করছেন ও জয়ী হলে সব প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করবেন বলে আশ্বাস দিচ্ছেন।

প্রতীক সম্বলিত লিফলেট হাতে নিয়ে প্রর্থীরা নিজ নিজ কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে ভোটারদের বাড়ি বাড়ি যাচ্ছেন। প্রার্থীরা ভোটরদের দ্বারে দ্বারে ঘুরে বেড়িয়ে নিজের অবস্থান ও ভোট প্রার্থনা করছেন। তারা নিজের যোগ্য প্রার্থী হিসেবে ভোটারদেরকে বোঝাতে চেষ্টা করছেন। নির্বাচনী প্রচারণায় নানা রকম প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন।

তবে ভোটারদের মাঝে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠ সৃষ্টি হয়েছে বড় দুই দলেই বিদ্রোহী প্রার্থীর ছড়া-ছড়িতে। চেয়ারম্যান প্রার্থীরা স্বদর্পে মাঠে রয়েছে।

এ উপজেলায় আওয়ামী লীগ সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থী আসাদুজ্জামান (মোটরসাইকেল), ১৯ দলীয় জোট সমর্থিত ইসাহাক আলী (দোয়াত কলম), আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী আতাউর রহমান খান (ঘোড়া), বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী হযরত আলী (কাপ পিরিচ), পৌর আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মালেক (আনারস), স্বতন্ত্র প্রার্থী অ্যাডভোকেট সালাহ উদ্দীন বিশ্বাস (ফেজ টুপি) প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন।

মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন আওয়ামী লীগ সমর্থিত হোসনে আরা আক্তার (কলস), আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী সুফিয়া খাতুন মিলি (হাঁস), বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী রওশন আরা ডলি (প্রজাপতি) ও স্বতন্ত্র জান্নাতুল ফেরদৌস (বৈদুতিক পাখা)।

এছাড়া পুরুষ ভাইস চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগ সমর্থিত খাইরুল ইসলাম (চশমা), ১৯ দলীয় জোট সমর্থিত জামায়াত নেতা অধ্যাপক কামারুজ্জামান (তালা) ও জাতীয় পার্টি সমর্থিত প্রার্থী মাহাফিজুর রহমান সুমন (মাইক) প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে।

এই উপজেলায় ২টি পৌরসভা ও ৯টি ইউনিয়নে মোট ভোটার সংখ্যা ২ লাখ ৭ হাজার ৭০৩ জন। পুরুষ ভোটার সংখ্যা ১ লাখ ৩ হাজার ২১০ জন মহিলা ভোটার সংখ্যা ১ লাখ ৪ হাজার ৪৯৩ জন। ভোটার আগামি ১৫ মার্চ ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

সাকি/