১৫০ কিমি খাল ও ১০০ কিমি ড্রেনে কমবে চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা

প্রতিনিধি

0
103
Khatunganj, Ctg
চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জ বাজার।

১৫০ কিলোমিটার খাল পুনরায় খনন; ১০০ কিলোমিটার নতুন ড্রেন নির্মাণ; খালের পাশে ৮৬ কিলোমিটার দীর্ঘ প্রতিরোধ দেওয়াল নির্মাণ করা হলে চট্টগ্রাম নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসন হবে বলে চট্টগ্রাম ওয়াসার মাস্টারপ্ল্যানের খসড়ায় উল্লেখ করা হয়েছে।

এ খসড়ায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে, জলাবদ্ধতা নিরসনে নগরীর ৫০টির বেশি স্থানে ক্রস ড্রেনেজ কালভার্ট নির্মাণ; ৩৩ কিলোমিটার বন্যা নিয়ন্ত্রক বাঁধ এবং ২১টি খালের উপর নতুন কালভার্ট তৈরি করতে হবে। আর এসব করতে হলে বিভিন্ন সেবা সংস্থার ১৩৯টির বেশি সার্ভিস লাইন পুনঃনির্মাণ করা জরুরি।

Khatunganj, Ctg
চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জ বাজার।

এছাড়া ব্যবহার অনুপযোগী ২৭৮টি কালভার্টের শনাক্ত করা হয়েছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই পানিতে তলিয়ে যায় এমন ১১টি স্থান চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে মুরাদপুর, হালিশহর, বাকলিয়া, আগ্রাবাদ, চকবাজার, চাক্তাই-খাতুনগঞ্জ অন্যতম।

মাস্টারপ্ল্যানের খসড়ায় বলা হয়েছে, নগরীর পাহাড়ি এলাকা হওয়ার কারণে ভূমি উচু নিচু অবস্থায় আছে। ফলে ড্রেনেজ সিস্টেম ভালোভাবে করা যাচ্ছে না। এছাড়া নগরীতে বৃষ্টি হলে পানি জমানোর কোন জায়গা নেই। আর এতে সড়কের উপর পানি জমে থাকে।

নগরীর জলাবদ্ধতার জন্য সুইস গেট নির্মাণ, সবগুলো খাল পরিষ্কার করে পানি নিষ্কাশন, সিটি কন্ট্রোল ম্যাপ তৈরিসহ ১৭ দফা অগ্রাধিকার ভিত্তিক কাজের সুপারিশের মাধ্যমে ‘স্যুয়ারেজ ও ড্রেনেজ মাস্টারপ্ল্যান’ খসড়াতে তুলে ধরা হয়েছে।

এসব প্রস্তাবনা বাস্তবায়নের জন্য চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনকে (চসিক) আলাদা ড্রেনেজ ও সুয়োরেজ বিভাগ করার প্রস্তাব দিয়েছেন নগর পরিকল্পনাবিদরা।

চট্টগ্রাম নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে স্যানিটেশন ও ড্রেনেজ মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন কমিটির সদস্য পানি উন্নয়ন বোর্ডের সাবেক প্রধান প্রকৌশলী মো. হুমায়ন কবির বলেন, ২০১৫ সালের ৪ জানুয়ারি থেকে মাস্টারপ্ল্যানের পর্যালোচনা শুরু হয়েছিল। এ প্রকল্পের খসড়া প্রতিবেদন বিভিন্ন সেবা সংস্থা এবং তাদের প্রতিনিধির কাছে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। প্রয়োজনীয় সংযোজন বা বিয়োজনের জন্য মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হচ্ছে। প্রায় ৩০ মাসের এ পর্যলোচনা আগামী ৪ জুলাই পর্যন্ত চলবে। প্রতিটি কাজের জন্য নির্দিষ্ট সংস্থাকে দায়িত্ব ভাগ করে দিতে মাস্টারপ্ল্যানে সুপারিশ করা হয়েছে।

wasa
চট্টগ্রামে জলজট ও জলাবদ্ধতা নিরসনে স্যুয়ারেজ ও ড্রেনেজ মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন শীর্ষক সেমিনারে আলোচকরা।

চট্টগ্রাম বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) প্রকৌশল বিভাগের ডিন অধ্যাপক ড.মো. হযরত আলী বলেন, বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে চট্টগ্রাম ওয়াসার ‘চট্টগ্রাম পানি সরবরাহ উন্নিতকরন ও স্যানিটেশন’ প্রকল্পের আওতায় এ মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়ন হচ্ছে।

চসিক মেয়র আ.জ.ম. নাছির উদ্দিন বলেন, মাস্টারপ্ল্যান করা হলে দীর্ঘমেয়াদী প্রক্রিয়ায় এটি বাস্তবায়ন করতে হবে। পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য মতে নগরীতে প্রায় ২৮ লাখ মানুষের কথা বলা হলেও প্রকৃতপক্ষে প্রায় ৬০ লাখ মানুষ এ শহরে বাস করে। ২৮ লাখ মানুষ ধরে মাস্টারপ্ল্যান করা হলে পুরো প্রক্রিয়াটি ভেস্তে যাবে। তাই এখানে বসবাসকারীদের প্রকৃত সংখ্যা নির্ধারণ করার পর মাস্টারপ্ল্যান করা হলে তা বাস্তবসম্মত হবে।

এই খসড়ার সমালোচনা করে নগর বিশেষজ্ঞরা বলেন, হালদা ও কর্ণফুলী নদীকে বাঁচানো, ইন্ডাস্ট্রিয়াল বর্জ্য ফেলার জায়গা, ইটিপি ও সুয়ারেজ প্লানের বাস্তবায়ন, ড্রেনের পানি নিষ্কাসন, মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় ভূমির ব্যবস্থা সম্পর্কে খসড়ায় কিছু উল্লেখ করা হয়নি।

মাস্টারপ্ল্যান অনুযায়ী বর্জ্য এবং আবর্জনা সরাসরি হালদা বা কর্ণফুলী নদীতে গিয়ে পড়বে। এতে হালদা ও কর্ণফুলী নদীতে মাছের উৎপাদন ব্যাহত হবে বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা। খসড়া বাস্তবায়নের আগে এই বিষয়টিকে প্রাধান্য দিয়ে খসড়া তৈরি করার পরামর্শ দেন তারা।

প্রসঙ্গত, চট্টগ্রামে স্যানিটেশন ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়নে ১৯৯৫ সালে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ); ১৯৮৪ ও ২০০৯ সালে চট্টগ্রাম ওয়াসা এবং ১৯৭২ ও ২০১৩ সালে পানি উন্নয়ন বোর্ড পৃথক পরিকল্পনা গ্রহণ করেছিল। কিন্তু সমন্বয়হীনতার কারণে কোনোটিই আলোর মুখ দেখেনি। আগের স্যুয়ারেজ মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়ন সম্ভব না হওয়ায় ১৮০ কোটি ডলারের খরচ এবং উন্নয়ন অংশীদারী প্রতিষ্ঠানের অসহযোগিতাকে দায়ী করা হয়।

অর্থসূচক/দেবব্রত/এমই/