বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি; পিডিবির প্রস্তাব সাড়ে ১৫

0
103
বিএসইসিআর
বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি; পিডিবির প্রস্তাব সাড়ে ১৫

বিএসইসিআরবিদ্যুতের দাম চলতি মাসেই আরেক দফা বাড়ছে কিন্তু শেষ পর্যন্ত খুচরা পর্যায়ে কত বাড়ছে তার জন্য আর কয়েকদিন অপেক্ষা করতে হচ্ছে। কারণ গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম ১৫ দশমিক ৫০ শতাংশ বৃদ্ধির বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) প্রস্তাব মেনে নেয়নি বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। কমিশনের পক্ষ থেকে ৬ দশমিক ৬৬ বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে। এদিকে শুনানিতে উপস্থিত গ্রাহক ও ভোক্তারা বিদ্যুতের দাম আর না বাড়ানোর দাবি জানান।

এই অস্থায় কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে এর পরে আবার অধিকতর শুনানিতে দাম বাড়ার বিষয়ে চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

পিডিবির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে তাদের প্রস্তাবিত দাম বৃদ্ধি করা না হলে বছরে ৭৫০ কোটি টাকা ঘাটতি হবে।

হিসাব করে দেখা গেছে পিডিবির প্রস্তাব অনুসারে প্রতি ইউনিটে প্রায় এক টাকা করে বাড়বে বিদ্যুতের দাম। সেক্ষেত্রে থেকে খুচরা পর্যায়ে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম দাঁড়াবে ৬ টাকা ৬৪ পয়সা। আর কমিশনের প্রস্তাব অনুসারে প্রতি ইউনিটের দাম হবে ৬ টাকা ১৩ পয়সা।

মঙ্গলবার রাজধানীর বিদ্যুৎ ভবনে বিইআরসি বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) প্রস্তাবের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানীতে অংশ  নেন বিইআরসি চেয়ারম্যান এআর খান, কমিশন সদস্য ড. সেলিম মাহমুদ, ইঞ্জিনিয়ার দেলায়ার হোসেন, ক্যাব এর সভাপতি ড. সামসুল আলমসহ অন্যান্যরা।

চেয়ারম্যান ড.এ আর খান শুনানীতে শেষে সাংবাদিকদের বলেন, টেকনিক্যাল কমিটি একটি সুপারেশ করেছে। বিভিন্ন আলোচনা হয়েছে ইতোমধ্যে। তবে আরও পরামর্শ দরকার বলে মনে করেন তিনি।

তিনি বলেন, আমরা সব কিছু পরীক্ষা নিরীক্ষা করে সিদ্ধান্ত নেব। তবে কবে নাগাদ সিদ্ধান্ত হবে তা তিনি জানাননি।

খুচরা বিদ্যুত মূল্যাহার বৃদ্ধির জন্য বাংলাদেশ বিদ্যুত উন্নয়ন বোর্ড  আবাসিক খাতে প্রথম ধাপে বর্তমান মুল্য শুন্য থেকে ৭৫ ইউনিট ৩ দশমিক ৩৩ থেকে ৪ দশমিক ৭০, দ্বিতীয় ধাপে ৭৬ থেকে ২০০ ইউনিট ৪ দশমিক ৭৩ থেকে ৬ ,  তৃতীয় ধাপে ২০১ থেকে ৩০০ ইউনিট ৪ দশমিক ৮৩ থেকে বাড়িয়ে ৬ দশমিক ২৫ টাকা, চতুর্থ ধাপে ৩০১ থেকে ৪০০ ইউনিট ৪ দশমিক ৯৩ থেকে ৬ দশমিক ৫০, পঞ্চম ধাপে ৪০১ থেকে ৬০০ ইউনিট ৭ দশমিক ৯৮ থেকে বাড়িয়ে ৮ টাকা, ষষ্ঠ ধাপে ৬০১ থেকে উর্ধে্ব ৯ দশমিক ৩৮ থেকে বাড়িয়ে তা ৯ দশমিক ৪০ পয়সা করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

বিশেষ কৃষি কাজে ব্যবহৃত সেচ পাম্পের জন্য তা করা হয়েছে (ফ্লাট রেট) ২ দশমিক ৫১ থেকে বাড়িয়ে ৪ টাকা, (বাণিজ্যিক ও অফিস )ফ্লাট রেট ৯ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৯ দশমিক ৫০, তা অফ-পিক আপ সময়ে ৭ দশমিক ২২ থেকে বাড়িয়ে ৮, পিক সময়ে ১১ দশমিক ৮৫ থেকে বাড়িয়ে তা করার প্রস্তাব করা হয়েছে ১২ টাকা।

ক্ষুদ্র শিল্পের জন্য ফ্লাট রেট ৬ দশমিক ৯৫ থেকে ৭ দশমিক ৭৫, অফ পিক সময়ে ৫ দশমিক ৯৬ থেকে ৬ দমমিক ৭৫, পিক সময়ে ৮ দশমিক ৪৭ থেকে ৯ দশমিক ৭৫ পয়সা করা হয়েছে।

রাস্তার বাতি ও পানির পাস্পের জন্য করা হয়েছে ৬ দশমিক ৪৮ থেকে ৭ টাকা

গণশুনানীতে ক্যাবের পক্ষ থেকে উপস্থাপিত প্রশ্নমালায় বলা হয়, বিদ্যুত  সংকট মোকাবেলার জন্য রেন্টাল ও কুইক রেন্টাল বিদ্যুত ব্যক্তিগত খাত থেকে কেনা হচ্ছে। এ বিদ্যুত ছিল বিদ্যুত খাতের জন্য লাইফ সাপোর্ট অর্থাত কোরামিন। এ ধরনের আপাদকালীন ব্যবস্থায় আপদ বাড়ে। এতে  টেকসই সমস্যার সমাধান হয় না বলে উল্লেখ করা হয়।

তবে এসব প্রস্তাব এখনো বিবেচনায় নেয়নি কমিশন। তবে শুনানী আজ থেকে শুরু হয়ে চলবে আগামী ৬ মার্চ পর্যন্ত।

অপরদিকে শুনানীতে গণসংহতির প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি, বাসদের নেতা বজলুর রশিদ ফিরোজ, সিপিবি নেতা রুহিন হোসেন প্রিন্সসহ বাম নেতারাও অংশ নেন।

প্রসঙ্গত সকালে পিডিবি এক প্রস্তাবে খুচরা পর্যায়ে ১৫ দশমিক ৫ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাব করে পিডিবি।

উল্লেখ্য বর্তমানে গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের গড় দাম ৫ টাকা ৭৫ পয়সা। গ্রাহকের কাছে এই দামে বিদ্যুৎ বিক্রি করে আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে বলে দাবি করে আসছে ৫টি বিতরণ কোম্পানি। তার প্রেক্ষিতে পিডিবিসহ কোম্পানিগুলো বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব পাঠায়।

বিতরণকারী কোম্পানিগুলো থেকে এর আগে জানানো হয়, তারা পাইকারিপর্যায়ে যে হারে বিদ্যুৎ কিনছে গ্রাহকপর্যায়ে বিক্রি করা হচ্ছে তার চেয়েও কম দামে। এতে পিডিবির মতো এসব বিতরণকারী কোম্পানির লোকসান বেড়ে চলেছে। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য হয় বিদ্যুতের গ্রাহকপর্যায়ে মূল্য বাড়াতে হবে, অথবা পাইকারিপর্যায়ে বিদ্যুতের দাম কমাতে হবে।

তবে পাইকারিপর্যায়ে বিদ্যুতের দাম কমালে পিডিবির লোকসান আরও বেড়ে যাবে। এ কারণে বিদ্যুতের খুচরা মূল্য বাড়িয়ে লোকসান সমন্বয় করতে হবে বলে কোম্পানিগুলোর তরফ থেকে বলা হয়।

প্রসঙ্গত সর্বশেষ ২০১২ সালের ১ সেপ্টেম্বর দেশে বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয়েছিলো। সেসময়  সময় দাম বাড়ানো হয় খুচরা ১৫ শতাংশ এবং পাইকারিতে প্রায় ১৭ শতাংশ।

এর আগে ২০১১ সালে ১ ফেব্রুয়ারি পাইকারিপর্যায়ে ১১ শতাংশ এবং খুচরাপর্যায়ে ৫ শতাংশ দাম বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়। ওই বছরের ১ আগস্ট পাইকারিপর্যায়ে কার্যকর হয় ৬ দশমিক ৬৬ শতাংশ। মাত্র তিন মাসের মাথায় ১ ডিসেম্বর খুচরাপর্যায়ে ১৩ দশমিক ২৫ শতাংশ এবং পাইকারিপর্যায়ে ১৬ দশমিক ৭৯ শতাংশ দাম বাড়ানো হয়।

আর এর কাছাকাছি সময়ে ২০১০ সালের ১ মার্চ ৬ দশমিক ৭ শতাংশ দাম বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়।