‘জাহাজ ভাঙা শিল্প বিকাশে ব্যবস্থা নেবে সরকার’

প্রতিনিধি

0
61

দেশের ক্রমবর্ধমান অবকাঠামো নির্মাণ ও শিল্পায়নের স্বার্থে সরকার জাহাজ ভাঙা শিল্প বিকাশে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে বলে জানিয়েছেন শিল্প মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া।

আজ শনিবার চট্টগ্রামের একটি রেস্তোরাঁয় জাহাজ ভাঙা ও রিসাইক্লিং শিল্পের সার্বিক উন্নয়ন শীর্ষক মতবিনিময় সভা এবং প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শ্রমিক-কর্মচারীদের মাঝে সনদ বিতরণ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা জানান।

bsbra_chittagongঅনুষ্ঠানের আয়োজন করে বাংলাদেশ শিপ ব্রেকার্স অ্যান্ড রিসাইক্লার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএসবিআরএ)।

মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া বলেন, জাহাজ ভাঙা শিল্পের জন্য ব্যাংক ঋণের সুদের হার কমানো এবং শুল্কায়নের ক্ষেত্রে থাকা সব ধরণের বাধা দূর করতে পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। এছাড়া এ শিল্পকে এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যে ইতোমধ্যে একটি নীতিমালা তৈরি করা হয়েছে। এটি এখন মন্ত্রিপরিষদের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।

তিনি বলেন, দেশে প্রায় ৬০০ রড তৈরির কারখানা আছে। এগুলোর কাঁচামালের ৬০ থেকে ৭০ শতাংশই আসে জাহাজ ভাঙা শিল্প থেকে। প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে এই শিল্পের সঙ্গে দেশের অন্তত এক কোটি মানুষ জড়িত।

মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া বলেন, পরিবেশবাদীদের পদক্ষেপ ও প্রস্তাবনা এ শিল্প বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখছে। তবে নজর রাখতে হবে কেউ যেন ষড়যন্ত্র করতে না পারে। সম্প্রতি বাংলাদেশে একটি জাহাজ আসার পর বলা হল- সেটি তেজস্ক্রিয় পদার্থ বহন করছে। পরে জাহাজটি ভারতে নিয়ে ভাঙা হলে তাতে কোনো তেজস্ক্রিয় পদার্থের অস্তিত্ব মেলেনি। এখন বাংলাদেশে আসা আরও একটি জাহাজ নিয়ে এই ধরনের কথা বলা হচ্ছে।

শিল্প সচিব বলেন, আশুলিয়ায় কয়েকটি তৈরি পোশাক কারখানায় আন্দোলন শুরু হয়েছে। ফলে সেখানে উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে। এসব কারখানা ক্রয় আদেশ অনুযায়ী পোশাক যথাসময়ে সরবরাহ করতে পারবে না। ফলে এসব ক্রয় আদেশ অন্য দেশে চলে যাচ্ছে। এতে ওইসব দেশ উপকৃত হবে।

চট্টগ্রাম বিভাগের পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারি পরিচালক জমির উদ্দিন বলেন, জাহাজ ভাঙা শিল্প পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের নাকি শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকবে- তা ঠিক করার জন্য পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি দেওয়া হয়েছে। তবে পরিবেশের ক্ষতি হয় এমন কোনো কার্যক্রমের অনুমোদন দেবে না পরিবেশ অধিদপ্তর।

সভায় অন্যান্যদের বক্তারা তাদের বক্তব্যে জানান, প্রতি বছর এই শিল্প থেকে প্রায় ১২০০ থেকে ১৫০০ কোটি টাকা রাজস্ব সরকারী খাতে জমা হচ্ছে।  প্রত্যক্ষভাবে প্রায় ৭০ হাজার শ্রমিক এবং পরোক্ষভাবে প্রায় দুই থেকে আড়াই লক্ষ লোকের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। এ সব প্রান্তিক শ্রমিক জীবন জীবিকা এই শিল্পের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের উপর নির্ভরশীল।

অনুষ্ঠানে বিএসবিআরএ সভাপতি মো. আবু তাহেরের সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মিয়া আব্দুল্লাহ মামুন, শিল্প মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব ইয়াসমিন সুলতানা, বিএসবিআরএ সদস্য জহিরুল ইসলাম রিংকু, আবুল কাশেম, এম রহমান।

দেবব্রত/এসএম