পাঞ্জাবে সিপাহী বিদ্রোহের ২৮২ শহীদের দেহাবশেষ উদ্ধার

0
158

panjabসিপাহী বিদ্রোহের সময়কার একটি গণকবর থেকে বেশ কিছু দেহাবশেষ উদ্ধার করা হয়েছে। ভারতের বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে বলা হয়েছে পাঞ্জাবে আজনালা শহরের একটি পুরাতন কুয়োর মধ্যে প্রায় ২৮২ টি দেহাবশেষ উদ্ধার করা হয়েছে।

ইতিহাসবিদদের পক্ষ থেকে থেকে বলা হয়েছে ওই কুয়োর মধ্যে যাদের হত্যা করা হয় তারা বেশির ভাগই বাঙ্গালি। সে সময়কার বাংলার ২৬ টি এলাকা থেকে তারা বিদ্রোহে যোগ দেয়।

ধারণা করা হচ্ছে ১৮৫৭ সালে সিপাহী বিদ্রোহের সময় কালিয়ান ওয়ালা নামের ওই কুয়োর মধ্যে ফেলে দেশি এই বিদ্রোহী সেনাদের হত্যা করে।

কথিত আছে সে সময় এমন অনেক কুয়োর মধ্যেই বিদ্রোহী সৈনদের হত্যার উদ্দেশ্যে জীবিত ফেলে দেওয়া হতো।

কুয়োটির খনন কাজ তদারককারী ইতিহাসবিদ সুরেন্দ্র কোচার সোমবার সংবাদমাধ্যমকে জানান রোববার বিকেলেই খনণ শেষ হয়। আর খনন শেষে তারা মোট ২৮২ জন ‘শহীদের’ দেহাবশেষ উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

তিনি জানান তিন দিনের খনন শেষে তারা প্রায় অক্ষত ৯০ টি খুলি, ১৭৮ টি চোয়াল, ৫০০০ হাজার দাঁত ও হাজারো হাড়গোড় উদ্ধার করা হয়েছে।

তিনি জানান হাড়গোড় ছাড়াও সেই সময়কার মুদ্রা, স্বর্ণালংকার, মেডেলসহ বেশ কিছু জিনিসপত্র উদ্ধার করা হয়েছে।

এনফিল্ড রাইফেলের টোটায় ‘গরু ও শূকরের চর্বি মিশ্রণের’ কাহিনী মুখ্য ভূমিকা রাখলেও এর সুনির্দিষ্ট রাজনৈতিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক, ধর্মীয় ও সামরিক কারণেই ১৮৫৭ সালে বিদ্রোহ করে দেশীয় সিপাহীরা।

প্রথমে সিপাহী বিদ্রোহ ব্যারাকপুর থেকে মীরাট (১০ মে, ১৮৫৮) এবং সেখান থেকে দিল্লিতে (১১ মে, ১৮৫৮) বিস্তার লাভ করে। বিদ্রোহী সিপাহীরা ১১ মে দিল্লীর লালকেল্লা দখল করে দ্বিতীয় বাহাদুর শাহ জাফরকে হিন্দুস্তানের সম্রাট বলে ঘোষণা করে। ক্রমে এ বিদ্রোহ ফিরোজপুর, মুজাফফরনগর, পাঞ্জাব, নৌসেরা, হতমর্দান, অযোধ্যা, মথুরা, রুরকী, লক্ষ্ণৌ, বেরিলী, শাহজাহানপুর, মোরাদাবাদ, আজমপুর, কানপুর, এলাহাবাদ, ফৈজাবাদ, ফতেহপুর, ফতেহগড় ও অন্যান্য বহু স্থানে ছড়িয়ে পড়ে। একক কোনো নেতৃত্বে এই বিদ্রোহ পরিচালিত না হলেও, কানপুরের নানা সাহেব, তাঁতিয়া তোপী, মঙ্গল পাণ্ডে, আজিমউল্লাহ, ভগত সিং ও ঝাঁসির রানী লক্ষ্ণী বাঈ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

তবে ১৮৫৭ সালে ২১ সেপ্টেম্বর ইংরেজ বাহিনী দিল্লী দখল করে সম্রাটকে সপরিবারে বন্দি করে এবং তার দুই পুত্র ও এক পৌত্রকে বিনা বিচারে হত্যা করে। পাঞ্জাবে হত্যা করা হয় আটক শতশত সিপাহীকে। ১৮৫৮ সালের জানুয়ারি মাসে বৃদ্ধ সম্রাটকে নির্বাসিত করা  হয় রেঙ্গুনে।