বিমসটেক দেশগুলোকে আঞ্চলিক সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

0
63

Third_Bimstec‘ধারাবাহিক উন্নয়নে অংশীদারিত্ব’ প্রতিপাদ্য নিয়ে গত শনিবার থেকে শুরু হওয়া তৃতীয় বিমসটেক শীর্ষ সম্মেলনের শেষ দিনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আঞ্চলিক যোগাযোগ ও সহযোগিতা বৃদ্ধির আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি একই সাথে এর মাধ্যমে সদস্য দেশগুলোর অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে বাংলাদেশও ‘সোনার বাংলা’ গড়ে তেলার স্বপ্ন পূরণের পথে এগিয়ে যাবে বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

আজ মিয়ানমারের রাজধানী নাইপিদোতে অনুষ্ঠিত এই সম্মেলনে রাষ্ট্র প্রধানদের বৈঠকে শেখ হাসিনা। এর আগে সকালে নাইপিদো আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে হয়ে গেছে সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। শুরুতেই মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট ইউ থেন সেইন জোটের রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানদের স্বাগত জানান। এর পর শীর্ষ নেতারা সাতটি ক্রিস্টাল বলে স্পর্শ করলে তাতে ভেসে ওঠে সাত দেশের এরপর সংক্ষিপ্ত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও ফটোসেশনের মধ্য দিয়ে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে শুরু হয় মূল সম্মেলন।

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, ভুটানের প্রধানমন্ত্রী সেরিং টোবগে, ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং, নেপালের প্রধানমন্ত্রী সুশীল কৈরালা, শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট মহিন্দা রাজাপাকসে, থাইল্যান্ডের বিশেষ দূত ও বিমসটেকের মহাসচিব সিহাসাক ফুয়াংকেটকো এবং মিয়ানমারে এডিবির মিশন প্রধান পুটু কামায়ানা উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিমসটেকের লক্ষ্য পূরণে বাংলাদেশের অঙ্গীকারের কথা আমি পুনর্ব্যক্ত করছি। আমাদের সবাইকে আমাদের সাধারণ লক্ষ্যে পৌঁছে দেওয়ার সম্ভাবনা এই জোটের আছে। বিশেষ করে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হওয়ার জন্য বাংলাদেশের ‘ভিশন ২০২১’ বাস্তবায়নে এই জোট ভূমিকা রাখতে পারে বলে আমি মনে করি।

ঢাকায় বিমসটেকের স্থায়ী সচিবালয় প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সব যৌথ সিদ্ধান্ত ও লক্ষ্য বাস্তবায়নে কার্যকর গতি আসবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন।আর এজন্য বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকাকে বেছে নেওয়ায় জোটভুক্ত দেশগুলোকে ধন্যবাদ জানান তিনি।

প্রসঙ্গত সম্মেলনে ঢাকায় সংস্থাটির স্থায়ী সচিবালয় স্থাপন বিষয়ে সমঝোতা স্মারকসহ একাধিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। অন্য যে স্মারকগুলো সাক্ষরের কথা রয়েছে তার মধ্যে উল্লেখ যোগ্য হচ্ছে, ভারতে আবহাওয়া ও জলবায়ু বিমসটেক সেন্টার প্রতিষ্ঠা সংক্রান্ত সমঝোতা স্মারক  এবং ভুটানে বিমসটেক কালচারাল ইন্ডাস্ট্রিজ কমিশন ও বিমসটেক কালচারাল ইন্ডাস্ট্রিজ অবজারভেটরী প্রতিষ্ঠা সংক্রান্ত সমঝোতা স্মারক (এমওইউ)।

উল্লেখ্য বাংলাদেশ সরকার সচিবালয়ের জন্য ইতোমধ্যেই ঢাকায় জমি বরাদ্দ করেছে। আরেক সদস্য দেশ ভারত ইতোমধ্যে আশ্বাস দিয়েছে যে তারা সচিবালয় স্থাপনের ৩২ শতাংশ খরচ বহন করবে ভারত।

সম্মেলনের শেষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঢাকায় বিমসটেকের স্থায়ী সচিবালয় প্রতিষ্ঠা সংক্রান্ত সমঝোতা স্মারক করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, আঞ্চলিক জোট গঠনের মাধ্যমে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানো এবং সম্পর্ক জোরদার করার লক্ষ্য ১৯৯৭ সালে বিসটেক গঠন করে বাংলাদেশ, ভারত, শ্রীলঙ্কা ও থাইল্যান্ড। পরে মিয়ানমার, নেপাল ও ভুটান যোগ দিলে নাম পরিবর্তন করে  বে অব বেঙ্গল ইনিশিয়েটিভ মাল্টি সেক্টরাল টেকনিক্যাল আ্যান্ড ইকোনমিক কো-অপারেশন (বিমসটেক) করা হয়। বিমসটেকে রূপান্তরিত হওয়ার পর সদস্য দেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতার জন্য ১৪টি বিষয় নির্ধারণ করা হয়।

আঞ্চলিক জোটটির প্রথম শীর্ষ সম্মেলন ২০০৪ সালে ব্যাংককে এবং দ্বিতীয় শীর্ষ সম্মেলন ২০০৮ সালে ভারতের নয়াদিল্লীতে অনুষ্ঠিত হয়। পরবর্তী সম্মেলন ২০১২ সালে মিয়ানমারে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও বিভিন্ন কারণে দেশটির সরকার সে সম্মেলন পিছিয়ে দেয়। নির্ধারিত সময়ের দুই বছর পরে এখন বিমসটেক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

বঙ্গোপসাগরের তীরবর্তী সাত দেশের শীর্ষ নেতাদের উপস্থিতিতে মিয়ানমারের রাজধানী নে পি দওয়ে শুরু হয়েছে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় আঞ্চলিক জোট বিমসটেকের তৃতীয় শীর্ষ সম্মেলন। নে পি দওয়ে আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে মঙ্গলবার স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ৮টায় শুরু হয় এ সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানের শুরুতেই মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট থেইন সেইন এই জোটের রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানদের স্বাগত জানান। স্বাগত বক্তব্যের পর শীর্ষ নেতারা সাতটি ক্রিস্টাল বলে স্পর্শ করলে তাতে ভেসে ওঠে সাত দেশের পতাকা। এ সময় জোটভুক্ত দেশগুলোর পরিচিতি ও জোটের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিয়ে একটি ভিডিও প্রদর্শন করা হয়। এরপর সংক্ষিপ্ত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও ফটোসেশনের মধ্য দিয়ে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে শুরু হয় মূল সম্মেলন।

এবারের সম্মেলনে ঢাকায় বিমসটেকের স্থায়ী সচিবালয় প্রতিষ্ঠা এবং ভারতে আবহাওয়া ও জলবায়ু বিষয়ক বিমসটেক সেন্টার প্রতিষ্ঠার বিষয়ে দুটি মেমোরিণ্ডাম অব অ্যাসোসিয়েশন এবং ভুটানে বিমসটেক কালচারাল ইন্ডাস্ট্রিজ কমিশন ও বিমসটেক কালচারাল ইন্ডাস্ট্রিজ অবজারভেটরি প্রতিষ্ঠায় একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হবে।

এছাড়া জোটের শীর্ষ নেতারা গত শীর্ষ সম্মেলনের পর অর্জিত অগ্রগতি পর্যালোচনা করবেন এবং সংস্থার যৌথ অঙ্গীকারের বিভিন্ন দিক নিয়ে মতবিনিময় ও ভবিষ্যৎ করণীয় নির্ধারণ করবেন। দুপুরে বিমসটেক সরকারপ্রধানরা হাজির হবেন যৌথ সংবাদ সম্মেলনে। এই সম্মেলনে যোগ দেয়ার পাশাপাশি প্রতিবেশী দেশগুলোর সরকার প্রধানদের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকেও অংশ নেয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার।

১৯৯৭ সালে গঠিত বে অব বেঙ্গল ইনিশিয়েটিভ ফর মাল্টিসেকটরাল টেকনিক্যাল অ্যান্ড ইকনোমিক কো-অপারেশনের প্রথম শীর্ষ সম্মেলন ২০০৪ সালে ব্যাংককে এবং ২০০৮ সালে নয়া দিল্লিতে দ্বিতীয় শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

বাংলাদেশ, ভারত, মিয়ানমার, শ্রীলঙ্কা, থাইল্যান্ড, নেপাল ও ভুটানের এই জোটের এ অঞ্চলে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, জ্বালানি, পরিবহন ও যোগাযোগ, পর্যটন, কৃষি, পরিবেশ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, আন্তঃযোগাযোগ, সন্ত্রাস ও আন্তঃদেশীয় অপরাধ ও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় কাজ করার কথা। সফর শেষে রাতে রাত ৮টায় মিয়ানমার ছেড়ে ঢাকার উদ্দেশে রওয়ানা হওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর।