লাফার্জ সুরমার মুনাফা বেড়েছে ৩৭ শতাংশ

0
53
lafarge surma profit growth

lafarge surma profit growthপুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত সিমেন্ট কোম্পানি লাফার্জ সুরমা ২০১৩ সালে মুনাফায় ভাল প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। আলোচিত বছরে কোম্পানিটি সহযোগী প্রতিষ্ঠান বা সাবসিডিয়ারি কোম্পানির মুনাফাসহ ২৫৪ কোটি ৬০ লাখ টাকা আয় করেছে। যা আগের বছরের চেয়ে ৬৯ কোটি ২৬ লাখ টাকা বেশি। কোম্পানির আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

সোমবার বিকালে লাফার্জের পরিচালনা পর্ষদ ২০১৩ সালের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা ও অনুমোদন করে। প্রতিবেদনে দেখা যায়, ২০১৩ সালে কোম্পানিটি সিমেন্ট উৎপাদন ও বিপনন থেকে ২০৭ কোটি ৩৬ লাখ টাকা আয় করেছে। আর তার সহযোগী প্রতিষ্ঠান লাফার্জ উমিয়াম মাইনিং প্রাইভেট লিমিটেড থেকে এসেছে ৪৭ কোটি ২৪ লাখ টাকা। সব মিলিয়ে আয় (কনসোলিডেটেড বা একত্রিত আয়) দাঁড়িয়েছে ২৫৪ কোটি ৬০ লাখ টাকা। আগের বছর তথা ২০১২ সালে কনসোলিডেটেড আয় ছিল ১৮৫ কোটি ৩৪ লাখ টাকা। এ হিসেবে আয় বেড়েছে ৩৭ দশমিক ৩৬ শতাংশ।

দেশের একমাত্র পূর্ণাঙ্গ সিমেন্ট প্রস্তুতকারক নিজস্ব খনি থেকে চুনা পাথর আহরণ করে তা দিয়ে ক্লিংকার তৈরি করে।পরে সে ক্লিংকার থেকে সিমেন্ট প্রস্তুত করা হয়। ভারতের মেঘালয়ে রয়েছে এর চুনাপাথরের খনি, যার মালিক লাফার্জের সাবসিডিয়ারি লাফার্জ উমিয়াম মাইনিং। নিজস্ব ক্লিংকার থেকে সিমেন্ট উৎপাদনের পাশাপাশি বাড়তি ক্লিংকার স্থানীয় কয়েকটি সিমেন্ট ফ্যাক্টরির কাছে বিক্রি করে থাকে লাফার্জ। বর্তমানে দেশের সিমেন্টের চাহিদার ৮ শতাংশ এবং ক্লিংকারের চাহিদার ১০ শতাংশ পূরণ করে থাকে লাফার্জ।

২০০৩ সালে দেশের শেয়ারবাজারে প্রথম গ্রিনফিল্ড কোম্পানি হিসেবে তালিকাভুক্ত হয় লাফার্জ। বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরুর দীর্ঘ ৫ বছর পর ২০০৮ সালে এটি প্রথম মুনাফার মুখ দেখে। তবে বিশাল পুঁঞ্জিভুত লোকসানের কারণে শেয়ারহোল্ডারদের কোনো লভ্যাংশ দিতে পারেনি। পরের দুই বছরে পুঁঞ্জিভুত লোকসান অনেকটা কমিয়ে আনলেও ২০১০ সালে ফের হোঁচট খায় প্রতিষ্ঠানটি।কয়েকটি পরিবেশবাদী সংগঠনের আন্দোলন ও মামলার মুখে মেঘালয়ের খনি থেকে চুনা পাথর উত্তোলন স্থগিত করা হলে প্রতিষ্ঠানটি কার্যত অস্তিত্ব সংকটের মুখে পড়ে।তবে দুই বছরের দীর্ঘ আইনী লড়াইয়ে তার সমাধান হলে ফের পূর্ণ উদ্যমে উৎপাদনে যায় এ প্রতিষ্ঠান। ফলে ২০১২ সালে ফের মুনাফা ফেরে এটি। কিন্তু ততদিনে পাহাড়সম পুঞ্জিভুত লোকসানের নিচে চাপা পড়ে।

আর্থিক প্রতিবেদন অনুসারে ২০১৩ সালে পুঁঞ্জিভুত লোকসান শুন্যের কাছাকাছি নিয়ে আসে এ প্রতিষ্ঠান। ২০১২ শেষে লাফার্জের পুঁঞ্জিভুত লোকসান ছিল প্রায় তিনশ কোটি টাকা। ২০১৩ সালের প্রথম প্রান্তিক (জানুয়ারি-মার্চ) শেষে তা কমে হয় ২৭৮ কোটি ৯৯ লাখ টাকা।

দ্বিতীয় প্রান্তিক শেষে পুঞ্জিভুত লোকসান ২৪২ কোটি ৮২ লাখে নেমে আসে।তৃতীয় প্রান্তিক তথা সেপ্টেম্বর শেষে তা আরও কমে হয় ২০৬ কোটি ৭৬ লাখ টাকা। আর ২০১৩ সাল শেষে এটি হয় শুন্যের কাছকাছি। চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে এর পুঁঞ্জিভুত লোকসানের কালো দাগ মুছে যেতে পারে।

তালিকাভুক্ত হওয়ার পর গত ১১ বছরে শেয়ারহোল্ডারেদের কোনো লভ্যাংশ দিতে পারেনি লাফার্জ। এবারও এটি লভ্যাংশ দেয়নি। তারপরও যৌথ উদ্যোগের এ কোম্পানির শেয়ার নিয়ে বিনিয়োগকারীদের ব্যাপক কৌতুহল।

উল্লেখ, ১ হাজার ১৬১ কোটি টাকা মূলধনের এ কোম্পানির অর্ধেক মালিকানা সুরমা হোল্ডিংসের।যাতে ফ্রান্সের লাফার্জের মালিকানা অর্ধেক বাকী অর্ধেকের মালিক ইতালির সিমেন্টর মলিনস। এছাড়া লাফার্জ সুরমার বাকী শেয়ারহোল্ডারদের মধ্যে স্থানীয় সিনহা গ্রুপ ৩ শতাংশ ইসলাম গ্রুপ পৌনে তিন শতাংশ, বিশ্বব্যাংকের সহযোগী প্রতিষ্ঠান আইএফসির রয়েছে প্রায় দুই শতাংশ শেয়ার। ব্যাক্তি বিনিয়োগকারীরা এর প্রায় ৩০ ভাগ শেয়ারের মালিক।

জানা গেছে, বিদেশী স্পন্সরদের অনাগ্রহের কারণে এবারও লভ্যাংশ দেয়নি কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ। বিদেশী উদ্যোক্তারা বিদ্যমান আইন ও রীতি শতভাগ পরিপালনের পক্ষে। ডিসেম্বর পর্যন্ত কিছু পুঁঞ্জিভুত লেকসান থাকায় তারা লভ্যাংশ দেওয়ার বিষয়টিকে যৌক্তিক মনে করেনি। তারা বরং পরবর্তীতে ভাল লভ্যাংশ দেওয়ার পক্ষে।