দিনাজপুরে ধরাশায়ী ক্ষমতাসীনরা

0
34
উপজেলা নির্বাচন

উপজেলা নির্বাচনদিনাজপুর জেলায় এ পর্যন্ত ৬টি উপজেলায় দু’দফায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। দু’দফায় অনুষ্ঠিত এসব উপজেলা নির্বাচনে ১৮টি পদের মধ্যে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ মাত্র ৪টি। আর বিএনপি ও জামায়াত ১৩টি ও ওয়ার্কাস পার্টি ১টিতে জয়লাভ করেছে।

নির্বাচনে লক্ষনীয় বিষয় হলো-বর্তমান পররাষ্ট্র মন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলীর নির্বাচনী এলাকা দিনাজপুর-৪ (চিরিরবন্দর-খানসামা) সংসদীয় আসনের দুটি উপজেলার কোনটিতেই আওয়ামী লীগ প্রার্থীরা জয়লাভ করতে পারেনি। চিরিরবন্দর উপজেলার চেয়ারম্যান হয়েছেন দিনাজপুর জেলা জামায়াতের সাবেক আমীর ও রংপুর অঞ্চল জামায়াতের সহকারী পরিচালক আলহাজ্ব আফতাব উদ্দীন মোল্লা ও খানসামা উপজেলায় চেয়ারম্যান হয়েছেন স্থানীয় বিএনপি নেতা শহিদুজ্জামান শাহ।

এছাড়া জেলার কোনো উপজেলায় ভাইস-চেয়ারম্যান পদে আসীন হতে পারেনি আওয়ামী লীগ।

দিনাজপুরের ১৩টি উপজেলায় এখন পর্যন্ত অনুষ্ঠিত ৬টি উপজেলা নির্বাচনে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ তাদের ক্ষমতা ধরে রাখতে ব্যর্থ হয়েছে। জেলায় ২ জন মন্ত্রী ও একজন হুইপ, একজন সাংগঠনিক সম্পাদক সহ ৬টি আসনেই ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য থাকলেও উপজেলা নির্বাচনে চেয়ারম্যান ও ভাইস-চেয়ারম্যান পদে  জনগনের কাছ থেকে ফলাফল আনতে পারেনি।

বিএনপি-জামায়াত জোটের জয়ের মধ্য দিয়ে ৬ টি উপজেলা পরিষদ এখন আওয়ামী লীগের নাগালের বাইরে। ৬টি উপজেলার ১৮টি পদের মধ্যে বিএনপি ৭টি, জামায়াতে ইসলামী ৬টি, আওয়ামী লীগ ৪টি এবং ওয়ার্কাস পার্টি ১টিতে বিজয়ী হয়েছে।

এর মধ্যে বিএনপির ৭টি হলো- চেয়ারম্যান পদে-কাহারোল, খানসামা ও ঘোড়াঘাটে বিজয়ী। ভাইস-চেয়ারম্যান পদে-খানসামা, চিরিরবন্দর ও বিরামপুরে বিজয়ী। মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে-বীরগঞ্জে বিজয়ী।

জামায়াতে ইসলামীর ৬টি হলো-চেয়ারম্যান পদে-চিরিরবন্দরে বিজয়ী। ভাইস চেয়ারম্যান পদে-কাহারোল, বীরগঞ্জ, ঘোড়াঘাটে বিজয়ী। মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে-কাহারোল ও খানসামায় বিজয়ী।

আওয়ামী লীগের ৪টির মধ্যে-চেয়ারম্যান পদে-বীরঞ্জ ও বিরামপুরে বিজয়ী। ভাইস চেয়ারম্যান পদে কোথাও বিজয়ী হতে পারেনি। মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে-চিরিরবন্দর ও বিরামপুরে বিজয়ী হয়েছে।

ওয়ার্কাস পার্টি ঘোড়াঘাটে মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে বিজয়ী হয়েছে।

বিএনপি-জামায়াত জোটের এই ৬টি উপজেলাতেই একাধিক প্রার্থী থাকার পরেও বিজয় ছিনিয়ে এনেছে। কোথাও কোথাও বিএনপির প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত আবার কোথাও বিএনপির প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপিরই বিদ্রোহী প্রার্থীদের দেখা গেছে। সেক্ষেত্রে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীর সংখ্যা কম ছিল। তৃণমূলদের ভোটে তাদের একক প্রার্থী নির্ধারণ করা হয়। আওয়ামী লীগের নেতাদের শক্ত অবস্থানের কারণে বিদ্রোহী প্রার্থী ঠেকিয়ে এবং বিএনপির অভ্যন্তরীন কোন্দল ও জোটগত সমঝোতা না হওয়ার সুযোগে ওই ৪টি পদ রক্ষা সম্ভব হয়েছে।

সরকারে থেকেও আওয়ামী লীগের নেতাদের জনগনের সাথে যোগাযোগের সেতুবন্ধন সৃষ্টি করতে না পারা এবং কিছু সংসদ সদস্যদের বিশেষ ব্যাক্তিদের বিশেষ ক্ষেত্রে বিশেষ দাপট আওয়ামী লীগের এ ভরাডুবির কারণ।

সাকি/