সন্ত্রাসী অর্থায়ন ঠেকাতে গো-এএমএল সফটওয়ার চালু

0
42
b bank

b bankমানিলন্ডারিং, সন্ত্রাসে অর্থায়ন এবং সন্দেহজনক লেনদেন সম্পর্কে তাৎক্ষণিক তথ্য পেতে গো-এএমএল সফটওয়ার চালু করলো বাংলাদেশ ব্যাংক।

সোমবার বিকেলে বাংলাদেশ ব্যাংকের জাহাঙ্গীর আলম কনফারেন্স হলে এ সফটওয়ারের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আতিউর রহমান।

বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) প্রধান ও বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর আবু হেনা মোহাম্মদ রাজী হাসানের সভাপতিত্বে  অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে  উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর নাজনীন সুলতানা, বিএফআইইউ এর উপ-পরিচালক ও বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ম. মাহফুজুর রহমান, বাংলাদেশ ব্যাংকের বিএফআইইউ –এর মহাব্যবস্থাপক দেব প্রসাদ দেবনাথ, সিআইডি’র ডিআইজি সাইফুল ইসলাম এবং দুদকের পরিচালক মনিরুজ্জামান প্রমুখ। এছাড়াও অনুষ্ঠানে বিভিন্ন ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. আতিউর রহমান বলেন, মানিলন্ডারিং ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন বর্তমানে শুধুমাত্র কোনো একটি দেশের অভ্যন্তরীণ সমস্যা নয় বরং বর্তমানে এটি একটি আন্তর্জাতিক সমস্যা। বাংলাদেশে মানিলন্ডারিং ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধে বাংলাদেশ ব্যাংক বাংলাদেশ আর্থিক গোয়েন্দা ইউনিট (বিএফআইইউ) দেশের কেন্দ্রীয় সংস্থা হিসেবে কাজ করছে।

বিএফআইইউ রিপোর্ট প্রদানকারী সংস্থা থেকে প্রাপ্ত রিপোর্ট বিশ্লেষণ ও সংরক্ষণ করবে। এসব তথ্য ভাল করে যাচাই-বাছাই করে যদি কোনো লেনদেন সম্পর্কে সন্দেহ হয় সেক্ষেত্রে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানো হবে। এর ফলে মানিলন্ডারিং এবং সন্ত্রাসে অর্থায়ন বন্ধ হবে এবং বাংলাদেশ একটি সন্ত্রাসবিহীন শীর্ষ অর্থনৈতিক দেশ হিসেবে উঠে আসবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

তিনি আরও বলেন, মুদ্রাপাচার ও আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধে বিভিন্ন পদক্ষেপের কারণে সম্প্রতি বাংলাদেশ আইসিআরজি প্রক্রিয়া হতে অব্যাহতি পেয়েছে। এফএটিএফ এর ‘গ্রে-লিস্ট’ থেকেও আমরা বেরিয়ে আসতে সক্ষম হয়েছি। এতদিন এ লিস্টে থাকায় এলসি খোলার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের এক শতাংশ পর্যন্ত চার্জ দিতে হতো। এখন এই চার্জ অর্ধেকের নিচে নেমে আসবে বলে তিনি জানান। এ নিয়ে এখন থেকে ব্যাংকগুলো বিদেশি ব্যাংকগুলোর সঙ্গে কার্যকর ‘নেগোসিয়েশন’ করার দক্ষতা দেখাতে পারবে বলে তিনি আশা করেন।

সাইফুল ইসলাম বলেন, সন্ত্রাসের প্রধান উৎস হলো টাকা। আর এ টাকা সংক্রান্ত তথ্য সহজে কেউ প্রকাশ করতে চায় না। এ সফটওয়ারে সব ধরনের তথ্য থাকার ফলে সিআইডি’র তদন্ত কাজ অনেক সহজ হবে। টাকার উৎস এবং লেনদেন সনাক্ত করা সম্ভব হলে বলে তিনি জানান।

মনিরুজ্জামান বলেন, এ সফটওয়ার চালুর ফলে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে তথ্যের আদান প্রদান সহজ হবে। ফলে টাকার গতিবিধি সহজেই সনাক্ত করা যাবে। এর ফলে দুদক যেসব তদন্ত করে তা তাড়াতাড়ি সম্পর্ণ করা সম্ভব হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

দেবপ্রসাদ এ সফটওয়ারের সার্বিক দিক তুলে ধরে বলেন, ২০০২ সাল থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকে এন্ট্রি মানিলন্ডারিং ইউনিট চালু হয়। এ সফটওয়ারে তথ্য প্রদানের জন্য জাতীয় নীতির সাথে সামঞ্জস্য রেখে বিভিন্ন তথ্য প্রদানকারী সংস্থার জন্য আলাদা আলাদা গাইডলাইন প্রস্তুত করা হয়েছে। সেই ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠানগুলো যে ডাটা দেবে তা যাচাই-বাছাই করে তথ্য প্রস্তুত করা হবে।

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে বিশ্বের ১৮টি দেশ এ সফটওয়ার ব্যবহার করছে। গত বছর পাইলট প্রকল্প হিসেবে বাংলাদেশের সাতটি ব্যাংকে অন্তর্ভুক্ত করে এ প্রকল্প চালু করা হয়। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে সব ব্যাংকে এ সফটওয়ারে রিপোর্ট প্রদানের জন্য বলা হয়েছে বলে তিনি জানান।