ক্ষমা চাইলেন গাইবান্ধার জেলা প্রশাসক

অর্থসূচক ডেস্ক

0
93

সাঁওতালদের ‘বাঙ্গালী দুষ্কৃতিকারী’ বলার জন‌্য হাই কোর্টের তলবে হাজির হয়ে নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়েছেন গাইবান্ধার জেলা প্রশাসক মো. আব্দুস সামাদ। এই সময় সাঁওতালদের মধ্যে করা মামলার প্রথম বাদী স্বপন কুমার মুরমুও উপস্থিত ছিল।

আজ সোমবার সকালে হাই কোর্টে উপস্থিত হয়ে নিঃশর্ত ক্ষমা চান তিনি। এই একই শব্দ ব্যবহার করার জন্য গাইবান্ধার পুলিশের বিশেষ শাখার সুপারকে তলব করেছে আদালত। আগামী ২ জানুয়ারি তাকে হাই কোর্টে হাজির ওই ব‌্যাখ‌্যা দিতে হবে।

আজ সোমবার বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও বিচারপতি কৃষ্ণা দেবনাথের হাই কোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেয়।

জেলা প্রশাসক থেকে পাঠানো চিঠিতে সাঁওতালদের 'বাঙ্গালী দুষ্কৃতকারী' বলা হয়।
জেলা প্রশাসক থেকে পাঠানো চিঠিতে সাঁওতালদের ‘বাঙ্গালী দুষ্কৃতকারী’ বলা হয়।

আদালতের আদেশে বলা হয়, ‘বাঙ্গালী দুষ্কৃতিকারী’ একটি উন্নাসিক শব্দ। এ ধরনের শব্দ মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানিরা ব‌্যবহার করত। জেলা প্রশাসক ‘আইন অমান‌্যকারী’ বা অন‌্য কোনো শব্দ ব‌্যবহার করতে পারতেন। তা না করে কেন তিনি ‘বাঙ্গালী দুস্কৃতিকারী’ লিখেছেন, তার ব‌্যাখ‌্যা জানা প্রয়োজন।

আদালত ১৪ ডিসেম্বর পরবর্তী আদেশের জন‌্য রেখেছে বলে রিটকারীপক্ষের আইনজীবীরা জানিয়েছেন।

ওই উচ্ছেদের ঘটনায় করা দুটি রিট আবেদনের শুনানিতে গত ৬ ডিসেম্বর জেলা প্রশাসকের দেওয়া একটি প্রতিবেদন পর্যালোচনার পর হাই কোর্ট এই বেঞ্চ তাকে তলব করে।

উল্লেখ, গত ৬ নভেম্বর গোবিন্দগঞ্জ উপজেলায় রংপুর চিনিকলের জমিতে আখ কাটাকে কেন্দ্র করে পুলিশ ও চিনিকল শ্রমিক–কর্মচারীদের সঙ্গে সাঁওতালদের সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষে তিনজন সাঁওতাল নিহত হন। আগহত হয় পুলিশসহ উভয় পক্ষের অন্তত ২০ জন।

অর্থসূচক/কাঙাল মিঠুন