রপ্তানি বাড়ছে কার্পেট তৈরির কাঁচামালের,বেশি হচ্ছে জার্মানিতে

0
78
কার্পেট
রপ্তানি বাড়ছে কার্পেট তৈরির কাঁচামালের,বেশি হচ্ছে জার্মানিতে

কার্পেটচলতি অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে (জুলাই২০১৩-জানুয়ারি ২০১৪) বাংলাদেশ থেকে কার্পেট তৈরির কাঁচামাল রপ্তানি বেড়েছে। বিশ্ববাজারে কার্পেট সূতার চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় পণ্যটির রপ্তানি বেড়েছে। আর এই তালিকায় প্রথম স্থানে রয়েছে জার্মানি। চলতি অর্থবছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে অর্থাৎ জুলাই থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত সময়ে দেশটিতে ২৬ লাখ ৭০ হাজার ৯৭৮ মার্কিন ডলারের কার্পেট পণ্য রপ্তানি হয়েছে।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) বলছে, চলতি অর্থবছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে অর্থাৎ জুলাই থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত সময়ে বাংলাদেশ কার্পেট পণ্য রপ্তানি করেছে ৭১ লাখ ৪৩ হাজার ৬৩৮ মার্কিন ডলার। যা গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ৫৮ দশমিক ৩১ শতাংশ বেশি। যার পরিমাণ ছিলো ৪৫ লাখ ১০ হাজার মার্কিন ডলার।

আলোচ্য সময়ে পণ্যটি রপ্তানির কৌশলগত লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিলো ৫৮ লাখ ৭০ হাজার মার্কিন ডলার। তবে বিশ্ববাজারে পণ্যটির চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় লক্ষ্যমাত্রার ২১ দশমিক ৬৪ শতাংশ বেশি রপ্তানি হয়। এর আগে গত মাসে অর্থাৎ জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ে ৫৯ লাখ ৯০ হাজার মার্কিন ডলার। যা গত বছরের একই সময়ে ছিলো ৪১ লাখ ৩০ হাজার মার্কিন ডলার।

২০১২-১৩ অর্থবছরে এই পণ্যটির রপ্তানি হয়েছে ৮৪ লাখ ৬০ মার্কিন ডলার। আর চলতি বছর পণ্যটির রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১ কোটি ৫ লাখ ৮০ হাজার মার্কিন ডলার। তবে ধারাবাহিকভাবে রপ্তানি বৃদ্ধির কারণে এই লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

জানা যায়, আশির দশকে বাংলাদেশে কার্পেট শিল্পের যাত্রা শুরু হয়। তবে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে বেশি দূর এগিয়ে যেতে পারেনি। কিছু দিনের মধ্যেই বন্ধ হয়ে যায় হাতেগোনা প্রতিষ্ঠানগুলো। তার পর থেকে দেশ কার্পেট আমদানি নির্ভর হতে থাকে।

তবে কার্পেট তৈরির কাঁচামাল রপ্তানি চলতে থাকে। যা এখন নতুন সম্ভাবনা হিসেবে আশা জাগিয়ে যাচ্ছে।

কথা হয় পল্টনের গ্রামীণ কার্পেট হাউসের মালিক নিজাম উদ্দিনের সঙ্গে। তিনি বলেন, বাংলাদেশের কার্পেট তৈরির সূতা বিশ্ববাজারে চাহিদা বেশি। এই জন্য রপ্তানিও ভালো। তিনি জানান, এখন প্রায় ৯০ শতাংশ কার্পেটই বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। এর মধ্যে বেশির ভাগ আসে মালেশিয়া, সোদি আরব ও তুরস্ক থেকে। তবে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলেই আবার হয়ত এই শিল্পের সুদিন ফিরে আসত বলে মনে করেন তিনি।

বাংলাদেশের কার্পেট পণ্য রপ্তানি হয় অস্ট্রিয়া, অস্টেলিয়া, বেলজিয়াম, কানাডা, সুইজারল্যান্ড, চিন, জার্মানি, ডেনমার্ক, স্পেন, ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, হাঙ্গেরি, ইন্দোনেশিয়া, ইতালি, ভারত, জাপান, কোরিয়া, মেক্সিকো, মালেশিয়া, নেদারল্যান্ড, নরওয়ে, নিউজিল্যান্ড, হল্যান্ড, যুক্তরাষ্ট্র, ভিয়েনামসহ বিশ্বের ২৮টি দেশে। তবে এর মধ্যে বেশি রপ্তানি হয় জার্মানিতে।

আর ১৩ লাখ ৬২ হাজার ৬০৫ ডলার রপ্তানি হয় যুক্তরাষ্ট্রে। এছাড়া তুরস্ক ৬ লাখ ৩১ হাজার ২৩৩ ডলার, জাপান ৫ লাখ ২৬ হাজার ৩৩৬ ডলার, অস্ট্রেলিয়া ৩ লাখ ৩৩ হাজার ২০৩ ডলার রপ্তানি হচ্ছে।