ক্রেতা বাড়লেই বাড়ে সবজির দাম

নিজস্ব প্রতিবেদক

0
146
ছবি: সংগৃহিত

সারাদেশে বাড়ছে শীত; একইসঙ্গে মাঠ ভরছে শীতকালীন সবজিতে। সেই সতেজ সবজির বড় অংশই প্রতিদিন আসছে রাজধানীর বাজারে। আর শীতকালীন তাজা সবজি কিনতে প্রতিদিনই বাজারে ভিড় করছেন রাজধানীবাসী। অর্থনীতির সহজ হিসাব, চাহিদা বাড়লে, বাড়ে দাম। তাই রাজধানীর বাজারগুলোতে ক্রেতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রায় সব সবজির দামই বাড়ে।

আজ শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটির দিনে রাজধানীর কারওয়ান বাজার, হাতিরপুল ও কাঁঠালবাগান বাজার ঘুরে দেখা গেছে কয়েকটি পণ্য ছাড়া প্রায় সব ধরনের সবজির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। তবে সপ্তাহের ব্যবধানে কাঁচা মরিচের দামে কিছুটা কমেছে। গত সপ্তাহে কাঁচা মরিচ প্রতি কেজি ১০০ টাকা দরে বিক্রি হলেও আজকের বাজারে বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকা দরে। এছাড়া আলু এবং পেঁপে বাদে অন্য সব সবজি ও তরকারি বিক্রি হচ্ছে ৩০ টাকা থেকে ৬০ টাকার মধ্যে।

ছবি: সংগৃহিত
ছবি: সংগৃহিত

রাজধানীর কাঁচা বাজারের বিক্রেতারা বলেন, সপ্তাহের যেকোনো দিনের তুলনায় ছুটির দিনে চাহিদা একটু বেশি থাকে। ফলে অন্য দিনের ঘাটতি ছুটির দিনে পুষিয়ে নেয় তারা।

তবে সরবরাহ বাড়ার পরও সবজির দাম না কমায় ক্রেতারা হতাশ। ক্রেতাদের দাবি, পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকলেও দাম কমায় না ব্যবসায়ীরা। বরং যেদিন বাজারে ক্রেতার সংখ্যা বেড়ে যায়, সেদিন সব ধরনের সবজির দাম বাড়ায় বিক্রেতারা।

বাজার ঘুরে দেখা গেছে, কালো বেগুন ৪০ টাকা, সাদা বেগুন ৩০ টাকা, প্রতি কেজি শিম (কালো) ৫০ টাকা, শিম (সাদা) ৩৫ টাকা,  টেমেটো ৫০ টাকা, গাজর ৫০ টাকা, ঢেঁড়স ৬০ টাকা, ঝিঙ্গা ৫০ টাকা, করলা ৪০-৫০ টাকা, কাকরোল ৫০ টাকা, শশা ৫০ টাকা, আলু ৫০ টাকা এবং পেঁপে ২৫-৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

এছাড়া শীতকালীন সবজির মধ্যে কেজি প্রতি মূলা ৩০ টাকা, জালি ৩৫-৪০ টাকা, কচুর লতি ৫০ টাকা, কচুরমুখী ৪০ টাকা, পটল ৫৫-৬০ টাকা, বরবটি ৬০ টাকা, কাঁচাকলা ৩০-৩৫ টাকা, শালগম ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্রতিটি ফুলকপি ৩৫-৪০ টাকা, বাঁধাকপি ৩০-৩৫ টাকা; লেবু হালি প্রতি ২০ টাকা, আঁটি প্রতি পালং শাক ২০ টাকা, লালশাক ১৫ টাকা, পুঁইশাক ৩০ টাকা এবং লাউশাক ২৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

সরবরাহ থাকার পরও দাম অপরিবর্তিত থাকার ব্যাপারে কারওয়ান বাজারের সবজি ব্যবসায়ী আরিফ অর্থসূচককে বলেন, সপ্তাহের অন্য দিনে দাম কিছুটা কম থাকে। তবে শুক্রবারে দাম কিছুটা বেড়ে যায়। কারণ এদিন ক্রেতার সংখ্যা বাড়ে। আর সপ্তাহের অন্য দিনগুলোর ঘাটতি শুখ্রবারে পুষিয়ে নিতে হয়।

তিনি আরও বলেন, চাকরিজীবীদের বেশিরভাগই শুধু শুক্রবারে বাজারে আসেন। অনেকেই পুরো সপ্তাহ কিংবা মাসের বাজার করতে এদিনে আসেন। তাই ছুটির দিনে চাহিদা বেশি থাকে। ফলে এদিন আমরা একটু বেশি লাভ করি।

এদিকে ক্রেতারা বলছেন, সরবরাহ সব সময়ই থাকে; তবে চাহিদা বেশি থাকার ফলে দাম না কমিয়ে উল্টো চাহিদার সঙ্গে দামও বাড়ায় তারা। পান্থপথের বাসিন্দা আনোয়ার হোসেন অর্থসূচককে বলেন, দাম বৃদ্ধির কথা বলে লাভ নেই। আমরা তো ব্যবসায়ীদের কাছে জিম্মি। কারণ তারা যে দাম বলে আমাদের সে দামেই কিনতে হয়। আর চহিদার সঙ্গে সবজির দামও বাড়ায় ব্যবসায়ীরা।

এদিকে নিত্য প্রয়োজনীয় মুদি পণ্যের দামেও তেমন কোনো পরিবর্তন নেই। কেজি প্রতি দেশি মসুর ডাল ১২০ টাকা, ভারতীয় মসুর ডাল ৯৫ টাকা, মুগ ডাল ১০০ টাকা, বুটের ডাল ১০০ টাকা, মাসকলাই ১৩০ টাকা এবং ছোলা ৮৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া বোতলজাত সয়াবিন তেল প্রতি লিটার ১০২ টাকা এবং খোলা সয়াবিন তেল কেজি প্রতি ৮০-৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

মানভেদে দেশি পেঁয়াজ কেজি প্রতি ৩৫-৩৮ টাকা, ভারতীয় পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ২৫-২৮ টাকা, দেশি আদা ১৮০ টাকা, বিদেশি আদা ৫০-৬০ টাকা, দেশি রসুন ১৪০-১৫০ টাকা এবং ভারতীয় রসুন ১৭০-১৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ১৩০ টাকা; লেয়ার মুরগি প্রতি কেজি ১৬৫-১৭০ টাকা; দেশি মুরগি প্রতি কেজি ৩৫০ টাকা; পাকিস্তানি লাল মুরগি কেজি প্রতি ৩২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। প্রতি কেজি গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৪২০ টাকা এবং খাসির মাংস ৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

মাছের বাজার ঘুরে দেখা গেছে, আকার ভেদে প্রতি কেজি রুই মাছ ২৫০-৩৫০ টাকা; কাতলা ২০০-৩০০ টাকা; তেলাপিয়া ১৪০-১৬০ টাকা; সিলভার কার্প ১৪০-১৮০ টাকা; পাঙ্গাস ১১০-১৫০ টাকা; টেংরা ৮০০ টাকা; চাষের কৈ ২০০-২৫০ টাকা ও দেশি মাগুর ৬০০-৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া প্রকার ভেদে চিংড়ি ৪০০ টাকা থেকে ১০০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ইলিশ কেজি প্রতি (মাঝারি) ১০০০ থেকে ১২০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া ৫০০ গ্রামের প্রতিটি ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ৫০০ টাকা থেকে ৬০০ টাকায়।

অন্যদিকে প্রতি কেজি স্বর্ণা চাল ৩৮ টাকা; পারিজা চাল ৪০ টাকা; মিনিকেট ৪৬-৪৮ টাকা; বিআর আটাশ ৪০-৪২ টাকা; নাজিরশাইল ৪৮-৫৫৫ টাকা; বাশমতি ৫৬ টাকা; কাটারি ভোগ ৭৪-৭৬ টাকা; হাস্কি নাজির ৪০ টাকা এবং পোলাও চাল মানভেদে ৯৫ টাকা থেকে ১০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

অর্থসূচক/মুন্নাফ/এমই/