বাংলাদেশ ব্যাংক ঘেরাও করবে জবি শিক্ষার্থীরা

0
50

BangladeshBank&jagannathমঙ্গলবার সকাল ১০টায় বাংলাদেশ ব্যাংকের সদরঘাট শাখার সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করবে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থীরা। একই সাথে ব্যাংক ঘেরাও কর্মসুচিও পালন করবে তারা।

জবি ক্যাম্পাস থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের শাখাটি দ্রুত সরিয়ে নিতেই তাদের এ কর্মসূচি বলে জানান শিক্ষার্থীরা।

সোমবার দুপুর দেড়টায় রায়সাহেব বাজার মোড়ে অবস্থানকালে জবি হল উদ্ধার কমিটি ছাত্র-শিক্ষক ঐক্যজোট এ ঘোষণা দেন।

ছাত্র-শিক্ষক ঐক্য জোট বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদেরকে আগামিকাল তাদের সকল ধরনের লেনদেন কর্মসুচি বন্ধ রাখার অনুরোধ জানান। জবির হল উদ্ধারের ১৬তম দিন সোমবার সকাল থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও
কর্মকর্তা-কর্মচারীরা শহীদ মিনারের সামনে মানববন্ধন করেন।

এ সময় শিক্ষক ও ছাত্রদের উপর হামলাকারী ডিসি হারুন ও ওসি মনিরুজ্জামানের প্রত্যাহারের দাবি জানান।

সমাবেশে বক্তারা স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁনের কড়া সমালোচনা করে বলেন, হারুন-মনিরুজ্জামানকে প্রত্যাহার করা হবে বললেও তা এখনও করা হয়নি। হল উদ্ধার বিষয়েও তিনি এখন নিরব ভুমিকা পালন করছেন।

জবি শিক্ষকদের সাথে মন্ত্রী ধোকাবাজি করছেন এমন সমালোচনাও করেছেন বেশ কয়েকজন শিক্ষক।

এ সময় তারা শিক্ষামন্ত্রীর উদ্দেশ্যে বলেন, আপনি যদি জবির যোক্তিক দাবি আদায় করতে না পারেন তাহলে খুব দ্রুত পদত্যাগ করেন। নতুবা আন্দেলনের মুখে আপনি মন্ত্রীত্ব ছেড়ে দিতে বাধ্য হবেন।

তারা বলেন, সরকার যদি শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলন মেনে না নেয় তাহলে জবির আন্দোলন আর ক্যাম্পাসে সীমাবদ্ধ থাকবে না। এই দুর্বার আন্দোলন সংসদ পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। তারপরও দাবি আদায় না হলে শিক্ষক-ছাত্র মিলে ঢাকা শহরকে অচল করে দেওয়া হবে।

গত ২৩ ফেব্রুয়ারী পুলিশের হামলার শিকার ইংরেজী বিভাগের শিক্ষক নাসীর উদ্দিন আহমেদ বলেন, আমার শরীরে এখনও ২০টি স্প্রীন্ট আছে, প্রয়োজনে আরও শত শত স্প্রীন্ট শরীরে প্রবেশ করবে তবু বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন আর ছাত্রদের হল আদায় না করে ঘরে ফিরবো না।

অন্যান্য শিক্ষকরা বলেন, জবির প্রত্যেকটা শিক্ষক এই আন্দোলনে গায়ের রক্ত, শ্রম ও অর্থ দেবে। তবু স্বাধীনতার মাসেই জবিকে দখলমুক্ত করা হবে।

এ সময় তারা বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সমালোচনা করে বলেন, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে সবচেয়ে কম অর্থ দেওয়া জগন্নাথকে। যা দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামো উন্নয়ন সম্ভব নয়।

অন্যদিকে, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরকে উদ্দেশ্য করে শিক্ষকরা বলেন, জবির ভেতরে বাংলাদেশ ব্যাংকের শাখা ফেলুন, ছাত্ররা একটা করে ঢিল মারলে এর অস্তিত্ব থাকবে না। আর তখন এর দায়ভার সরকারকেই বহন করতে হবে।

আন্দোলনের ১৬তম দিনে সকাল থেকেই শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের গেইটে বেশ কয়েক জায়গায় টায়ার ও কাঠ জ্বালিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়।  সকাল ১২ টার সময় কয়েকশ শিক্ষার্থী মিছিল নিয়ে রায় সাহেব মোড় এসে অবস্থান নেয়। এখানেও তারা টায়ার ও কাঠ জ্বালিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে সদরঘাট-গুলিস্তান রাস্তায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। রায়সাহেব বাজার  মোড়ে যাওয়ার সময় শিক্ষার্থীরা বাহাদুর শাহ পার্ক এলাকায়
আজমীর পরিবহণের একটি বাস ভাংচুর করে।

বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিলে সভাপতিত্ব করেন ফিনান্স বিভাগের শিক্ষক মাশরিখ মেহেদী হাসান। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও ছাত্ররা উপস্থিত ছিলেন।

জেইউ