রাজনীতিতে শিশুদের ব্যবহার না করার অনুরোধ বিএসএএফের

0
56
Sishu

Sishuরাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে শিশুদের ব্যবহার না করার জন্য রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন বাংলাদেশ শিশু অধিকার ফোরাম (বিএসএএফ)।

এছাড়া রাজনৈতিক সহিংসতাসহ সবধরনের নির্যাতন থেকে শিশুদের সুরক্ষার জন্য কয়েকটি প্রয়োজনীয় দিক তুলে ধরে রাজনৈতিক দল, অভিভাবক ও সরকারকে পদক্ষেপ গ্রহণের অনুরোধ জানান তারা।

সোমবার বেলা সাড়ে ১১টায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে বাংলাদেশ শিশু অধিকার ফোরাম (বিএসএএফ) আয়োজিত ‘সাম্প্রতিক শিশু পরিস্থিতি : উদ্বেগ ও আমাদের করণীয়’ বিষয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা এসব অনুরোধ জানান।

সম্মেলনে আয়োজক সংগঠনের চেয়ারপার্সন মো. এমরানুল হক চৌধুরী বলেন, শিশুদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করানো জাতিসংঘ শিশু অধিকার সনদ, বাংলাদেশের সংবিধান ও রাষ্ট্রীয় অন্যান্য আইনের পরিপন্থী।

তিনি বলেন, ২০১৩ সালে শিশুরা যেভাবে রাজনৈতিক সহিংসতায় শিকার হয়েছে তা বাংলাদেশে শিশু অধিকার প্রতিষ্ঠা তথা শিশু অধিকারকে ভয়াবহ করে তুলেছে।

এ সময় তিনি রাজনৈতিক সহিংসতায় শিশু মৃত্যুর কয়েকটি ঘটনা তুলে ধরে বলেন, ২০১৩ সালের শুরুতেই রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে শিশুদের ব্যবহারের যে মাত্রা দেখা গেছে এতো বিপুল সংখ্যক শিশু হতাহতের ঘটনা তারই বহি:প্রকাশ মাত্র।

তিনি শিশুদেরকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সংশ্লিষ্ট না করা, শিশু সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান যেমন বিদ্যালয়, মাদ্রাসা, এতিমখানা ইত্যাদি স্থানে রাজনৈতিক সভা মিছিল না করা, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে শিশুদের শিক্ষা কার্যক্রম যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয় সে বিষয়ে সকল রাজনৈতিক দলগুলোকে একটি ঐকমত্য পৌঁছানো, শিশু অধিকার সংগঠনগুলোর রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে মতবিনিময় করা যাতে তারা শিশুদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে ব্যবহার না করে, সংবাদপত্র টিভিতে সহিংসতা থেকে শিশুদের রক্ষার ব্যাপক সচেতনতামূলক অনুষ্ঠান প্রচার করা, প্রতিটি শিশু কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্র, কিশোর সংশোধনাগার নিয়মিত মনিটরিং করা এবং শিশুদের সুযোগ সুবিধা নিশ্চিত করা, যৌন হয়রানি, ধর্ষণ রোধে পর্ণগ্রাফি অ্যাক্ট ২০১২ এর ব্যাপক প্রচার ও কার্যকর প্রয়োগ, টেক্সটবুকে শিশুদের উপযোগী যৌন শিক্ষা বিষয়ে নিবন্ধ সঙ্কলন করা, যৌনতা বিষয়ে গোপনীয়তার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে, পরিবারে এ বিষয়ে আলোচনার মাধ্যমে নেতিবাচক ও ইতিবাচক বিষয়গুলো সম্পর্কে শিশুদের অবহিত করার বিষয়ে রাজনৈতিক দল, অভিবাবক ও সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। এছাড়া পর্ণো ওয়েবসাইট বন্ধে সরকারকে দ্রত ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানান তিনি।

সংগঠনের পরিচালক আবদুছ সহিদ মাহমুদ বলেন, ২০১৩ সালে পত্র পত্রিকা পর্যালোচনা পূর্বক আমরা জানতে পেরেছি, এ বছর নানা কারণে প্রায় ৫ শতাধিক শিশু অস্বাভাবিক মৃত্যুবরণ করেছে। মৃত্যুর কারণ হিসেবে পারিবারিক কলহসহ ধর্ষণ, খুন, যৌণ হয়রানি ইত্যাদি বিষয়গুলো উল্লেখযোগ্য।

তিনি বলেন, এ ধরনের সামাজিক ক্রটির কারণে দেশে শিশুর অবস্থান, তার সঠিক ও পূর্ণাঙ্গ তথ্য মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের কাছেও পাওয়া যায় না। এ কারণে শিশুদের নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন।

৭ কোটি শিশুর স্বাভাবিক ভবিষ্যত নিশ্চিত করা প্রয়োজন উল্লেখ করে এ বিষয়টির প্রতি নজরদারি বাড়ানো এবং কাজ করার জন্য সরকারের প্রতি অনুরোধ করেন তিনি।

এমআর/কেএফ