জীবন বাঁচাতে মায়ের বিরুদ্ধে মামলা!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

0
72
বাল্যবিবাহ। ছবিটি সংগৃহীত।

‘যদি তোর ডাক শুনে কেউ না আসে/তবে একলা চলো রে’ এই মতে একলাই চলেছেন শারমিন। নিজের জীবন বাঁচাতে মায়ের বিরুদ্ধে মামলা পর্যন্ত  করে দিয়েছেন তিনি। কিশোরী অবস্থায় বিয়ের পিঁড়িতে বসার জন্য তাকে নানাভাবে হেনস্থা করা হয়েছিলো। এমনকি কথিত বরের সাথে এক ঘরে আটকে রেখে নির্যাতন করা হয়েছিলো। এই ঘটনা ঘটিয়েছে নিজের পরিবারই। তার বিয়ে দেয়ার জন্য নিজের মা’ই এ কাজ করেছে।

অথচ বয়সটা কতো শারমিনের? মাত্র পনেরো। এসএসসি পরীক্ষা দেবে। সে নিজেই বুঝতে পেরেছিলো এই বিয়েটা কতোটুকু ক্ষতিকর তার জন্য।

বাল্যবিবাহের হাত থেকে নিজেকে বাঁচিয়ে আলোড়ন তুলেছে এই কিশোরী।
বাল্যবিবাহের হাত থেকে নিজেকে বাঁচিয়ে আলোড়ন তুলেছে এই কিশোরী।

ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্রী শারমিন। পিতা সৌদিপ্রবাসী হওয়ায় মায়ের কথামতো চলতে হতো তার। সব কিছু মেনে নিলেও মায়ের এই অন্যায় আব্দার কিছুতেই মানতে পারছিলো না সে।

‘আমার বয়স মাত্র পনেরো, আমি জানি আমি বিয়ের জন্য কোনোভাবেই উপযুক্ত না। এটা আইন বিরুদ্ধাচরণ। কিশোরী বয়সে একজন বয়স্ক লোকের সাথে আমার সংসার করা সম্ভব ছিল না। এজন্য আমাকে আটকে রেখে শারীরিক এবং মানসিকভাবে নির্যাতন করা হয়েছিলো।’ বলছিলো শারমিন।

বন্দী অবস্থা থেকে কোনোমতে বেরিয়ে এসেই স্কুলের বন্ধু,সাংবাদিক এবং থানা পুলিশের সহায়তা নিয়ে এই অন্যায়ের বিরুদ্ধাচরণ করেন। নারী অধিকার নিয়ে আন্দোলনকারীরা এবং বিভিন্ন সংগঠন তাঁর সাথে যোগাযোগ করে।

শারিরীক ও মানসিক নির্যাতনের দায়ে মামলা ঠুকে দিয়েছে মা ও কথিত বরের বিরুদ্ধে। আর তাকে সহযোগিতা হাত বাড়িয়েছে আইন ও সহায়তা কেন্দ্র। আপাতত তার মা ও সেই লোকটি  এখন পুলিশের কাছে আছে বলে বিবিসির এক প্রতিবেদনে প্রকাশ হয়েছে।

 

বড় হয়ে আইন নিয়ে পড়াশোনা করতে চায় শারমিন। অসহায় নারীদের নিয়ে কাজ করার পাশাপাশি বাল্য বিয়ে বন্ধের জন্য কাজ করে যেতে চান।

অর্থসূচক/ কাঙাল মিঠুন