চবির অধিভুক্ত ৩ মেডিকেল কলেজকে কোটি টাকা জরিমানা

প্রতিনিধি

0
71

২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষে ভর্তিতে সরকারি সিদ্ধান্ত অনুসরণ না করায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) অধিভুক্ত ৩টি বেসরকারি মেডিকেল কলেজকে এক কোটি টাকা করে জরিমানা করেছে আপিল বিভাগ। ভর্তি পরীক্ষার নম্বরের শর্ত পূরণ না হওয়া সত্বেও শিক্ষার্থী ভর্তি করায় ময়নামতি মেডিকেল কলেজ, বিজিসি ট্রাস্ট মেডিকেল কলেজ ও সাউর্দার্ন মেডিকেল কলেজকে এ জরিমানার আদেশ দেয় প্রধান বিচারপতি এস.কে. সিনহা নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ।

আদালতে মেডিকেল কলেজের পক্ষে আইনজীবী ছিলেন ফজলে নুর তাপস। শিক্ষার্থীদের পক্ষে ছিলেন এ.এম. আমিন উদ্দিন, গোলাম সরওয়ার পায়েল, ইউসুফ আলী ও সেলিনা আক্তার চৌধুরী।

অ্যাডভোকেট সেলিনা জানান, আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে জরিমানার অর্ধেক টাকা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে এবং বাকি টাকা কিডনি ফাউন্ডেশন ও ক্যান্সার ইনস্টিটিউটকে দিতে বলা হয়েছে। জরিমানার টাকা পাওয়ার পর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে এফডিআর (ফিক্সড ডিপোজিট) করতে বলা হয়েছে। এর থেকে পাওয়া লভ্যাংশ একই বিশ্ববিদ্যালয়ের দরিদ্র মেধাবী শিক্ষার্থীদের মধ্যে বৃত্তি হিসেবে বণ্টন করতে নির্দেশ দিয়েছে আপিল বিভাগ। শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় না করতেও ওই তিন মেডিকেল কলেজকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

হাইকোর্ট। ছবি সংগৃহীত
হাইকোর্ট। ছবি সংগৃহীত

২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষে এমবিবিএস/বিডিএস কোর্সে শিক্ষার্থী ভর্তির বিষয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের জারি করা শর্তে পরীক্ষায় ২০০ নম্বরের মধ্যে ১২০ নম্বর পাওয়া শিক্ষার্থীদের ভর্তি করার কথা বলা হয়েছে। এই ১২০ নম্বরের মধ্যে লিখিত পরীক্ষায় ৪০ নম্বর পেতে হবে। কিন্তু ভর্তি পরীক্ষার নম্বরের এ শর্ত পূরণ না হওয়ার পরও সরকারি সিদ্ধান্ত লঙ্ঘন করে ওই তিন বেসরকারি মেডিকেল কলেজে শিক্ষার্থী ভর্তি করানো হয়।

শর্ত পূরণে ব্যর্থ শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৩০ জনের প্রথম পর্বের (ফার্স্ট প্রফেশনাল এক্সামিনেশন) রেজিস্ট্রেশন কার্ড ও প্রবেশপত্র আটকে দেয় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এ সিদ্ধান্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে গত ১০ মে শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হলে আদালত ৭২ ঘণ্টার মধ্যে রেজিস্ট্রেশন কার্ড ও প্রবেশপত্র দিতে বলে।

হাইকোর্টের আদেশের পর শিক্ষার্থীদের রেজিস্ট্রেশন কার্ড ও প্রবেশপত্র দেওয়া হয়। শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় অংশও নেয়। কিন্তু পরবর্তীতে ওই শিক্ষার্থীদের ফল প্রকাশ আটকে দেয় কর্তৃপক্ষ। এরপর গত ১০ অক্টোবর ফলাফল প্রকাশের নির্দেশনা চেয়ে আবার রিট আবেদন করা হয় শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে।

এই রিট শুনানি গ্রহণ করে শিক্ষার্থীদের ফলাফল প্রকাশের বিষয়টি বিশেষ বিবেচনা করার নির্দেশনা দেয় আদালত। একইসঙ্গে ওই শিক্ষার্থীদের ফলাফলে কেন প্রকাশ করা হবে না- জানতে চেয়ে রুল জারি করা হয়।

এর মধ্যে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ প্রথম আদেশের বিরুদ্ধে আপিলের আবেদন করলে তার শুনানি শেষে গত রোববার আপিল বিভাগ জরিমানার আদেশ দেয় বলে জানান অ্যাডভোকেট সেলিনা।

অর্থসূচক/সুমন/এমই/