জেএমবি ছিনতাইয়ে পুলিশের ব্যর্থতাই দায়ী: স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

0
31
govt.

govt.ময়মনসিংহের ত্রিশালে পুলিশের প্রিজনভ্যানে হামলা চালিয়ে জেএমবির দুর্ধর্ষ তিন জঙ্গিকে ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় কারা কর্তৃপক্ষ ও পুলিশের ব্যর্থতাকে দায়ী করেছেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রিজনভ্যানে পুলিশি নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণে গাজীপুরের পুলিশ সুপার আবদুল বাতেনের তদারকির অভাব ছিল। এছাড়া, তিন জঙ্গির একজন কারাগারে মোবাইল ফোন ব্যবহারের সুযোগ পেত। এমনকি ঘটনার দিন প্রিজনভ্যানে তিন জঙ্গি পুলিশের মোবাইল ফোনে সহযোগীদের সঙ্গে কথা বলে তাদের অবস্থান জানান বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার যাতে পুনরাবৃত্তি না হয় সেজন্য প্রতিবেদনে বেশ কিছু সুপারিশ করা হয়েছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (পুলিশ) নাজিমউদ্দিন চৌধুরী রোববার সন্ধ্যায় প্রতিবেদনটি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব সি কিউ কে মুসতাক আহমদের কাছে জমা দেন। এ সময় কমিটির অন্যতম সদস্য ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি মাহফুজুল হক নুরুজ্জামান উপস্থিত ছিলেন। প্রতিবেদনটি পাওয়ার পর স্বরাষ্ট্র সচিব তাৎক্ষণিক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের কাছে পাঠিয়ে দেন।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানায়- তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুর্ধর্ষ জঙ্গিদের ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনাটি ছিল সম্পূর্ণ পূর্বপরিকল্পিত। দীর্ঘদিন ধরে জেএমবির সদস্যরা এই ‘অপারেশনের’ ছক এঁকেছিল। এজন্য জেএমবির শীর্ষ তিন নেতাকে আদালতে নিয়ে যাওয়ার দিন তারা বেছে নেয়।

গত ২৩ ফেব্রুয়ারি মৃত্যুদণ্ড ও যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত জেএমবির তিন সদস্যকে পুলিশ পাহারায় ময়মনসিংহ আদালতে নিয়ে যাওয়ার সময় ত্রিশালে প্রিজনভ্যানে সশস্ত্র হামলা চালিয়ে তাদের ছিনিয়ে নেওয়া হয়। এ সময় এক পুলিশ সদস্য নিহত হন। ঘটনা তদন্তের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিবকে (পুলিশ) প্রধান করে চার সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিকে তিন কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়। কিন্তু ঘটনাস্থল পরিদর্শন, প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্যসহ অধিকতর তদন্তের জন্য কমিটি আরও দু’দিন সময় নেয়।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানায়, তদন্ত দল এক সপ্তাহ ধরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং ২০ ব্যক্তির সাক্ষ্য নিয়েছে। একই সঙ্গে গাজীপুরের কারা কর্মকর্তা ও পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেছেন তারা। তদন্তকালে কমিটি কারাগারে মোবাইল যত্রতত্র ব্যবহারের প্রমাণ পেয়েছে। এজন্য পুলিশ, কারা বিভাগসহ জঙ্গিদের ২০টি মোবাইল ফোনের কললিস্ট যাচাই করেছে। কাদের সঙ্গে কথোপকথন হয়েছে, তাদের চিহ্নিত করতে সংশ্লিষ্টদের বলা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, তিন জঙ্গির মধ্যে রাকিব হাসান কারাগারে মোবাইল ফোন নিয়মিত ব্যবহার করত। একশ্রেণির দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা ও কারারক্ষীকে টাকা দিয়ে সে মোবাইল ফোন ব্যবহারের সুযোগ পেত। প্রিজনভ্যানে ওঠার পর সে ও অন্য দুই জঙ্গি পুলিশের কাছ থেকে ফোন নিয়ে তা দিয়ে ছিনতাই দলের জঙ্গিদের সঙ্গে কথা বলে। যে কারণে প্রিজনভ্যানে থাকা তিন পুলিশ সদস্যের ব্যক্তিগত মোবাইল ফোনের কললিস্ট যাচাই করে দেখতে সুপারিশ করা হয়েছে। এছাড়া তিন জঙ্গির নিরাপত্তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য পুলিশ সদস্যের মোবাইল ফোনের কললিস্ট, কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার ও হাই সিকিউরিটি কারাগারের বেশ কয়েকজনের মোবাইল ফোনের কললিস্টও যাচাইয়ের সুপারিশ করা হয়েছে। পাশাপাশি কারাগারগুলোয় স্থাপিত মোবাইল ফোন জ্যামার সার্বক্ষণিক সচল রাখতে ব্যাকআপ পাওয়ার হিসেবে জ্যামার মেশিনগুলো উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন ব্যাটারি ও সোলার প্যানেলের সঙ্গে সংযুক্ত রাখার সুপারিশ করা হয়েছে।

সুপারিশে বলা হয়, দুর্ধর্ষ অপরাধীদের কারাগার থেকে আনা-নেওয়ার সময় আরও সুরক্ষিত, আধুনিক প্রিজনভ্যান ব্যবহার এবং গুরুত্ব অনুযায়ী প্রিজনভ্যানে পর্যাপ্ত নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নেওয়ারও সুপারিশ করা হয়েছে। তিন জঙ্গি ছিনতাইয়ের ঘটনায় এরই মধ্যে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে গাজীপুর পুলিশ লাইনের হাবিলদার মেজর আইয়ুব আলী ও ফোর্স সুবেদার আবদুল কাদিরকে। এছাড়া, রিজার্ভ ইন্সপেক্টর সাইদুল করিমকে ক্লোজড করা হয়েছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব সি কিউ কে মুসতাক আহমদ বলেন, জঙ্গি ছিনতাইয়ের ঘটনায় পুলিশ ও কারারক্ষীদের গাফিলতির প্রমাণ পাওয়া গেছে।

এসএসআর/ কেএফ