ব্যাংকের আয়ে আস্থা নেই বিনিয়োগকারীদের!

0
30
bank profit up, share price down

bank profit up, share price downপ্রত্যাশার চেয়ে ভাল লভ্যাংশ দিয়ে মৌসুম শুরু করেছে ব্যাংকিং খাত। গতকাল পর্যন্ত তালিকাভুক্ত ৩০ ব্যাংকের মধ্যে ৬ টি লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। আর এদের ৫ টিই লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে গত বৃহস্পতিবার। কিন্তু শেয়ার প্রতি ভাল আয় (ইপিএস) এবং লভ্যাংশ সত্ত্বেও পরবর্তী কার্যদিবস রোববার দর হারিয়েছে ৯০ ভাগ ব্যাংকের শেয়ার।

প্রকাশিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুসারে, লভ্যাংশ ঘোষণাকারী ৬ টি ব্যাংকই ২০১৩ সালে ভাল মুনাফা করেছে। অন্তত যতটা খারাপ ইপিএস আসবে বলে আশংকা করা হয়েছিল তারচেয়ে ভাল ইপিএস হয়েছে। আর সবগুলো ব্যাংকের ইপিএসই আগের বছরের চেয়ে বেড়েছে।

এদের মধ্যে ইউসিবির আয় বেড়েছে ৯১ শতাংশ, ট্রাস্ট ব্যাংকের ৫৫ শতাংশ, পূবালী ব্যাংকের ৫০ শতাংশ, ব্র্যাক ব্যাংকের ৪১ শতাংশ, ইস্টার্ন ব্যাংকের ৬ শতাংশ এবং আল আরাফা ইসলামি ব্যাংকের আয় ৩ শতাংশ বেড়েছে। কিন্তু তা সত্ত্বেও রোববার আলোচিত ব্যাংকগুলো শেয়ারের দর হারিয়েছে।

রোববার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) ৩০ টি ব্যাংকের মধ্যে ২৭ টি শেয়ারের দর হারায়। দুটি ব্যাংকের শেয়ারের দর অপরিবর্তিত থাকে। আর বাড়ে মাত্র ১ টি ব্যাংকের শেয়ারের দাম। লভ্যাংশ ঘোষণাকারী ৬ ব্যাংকের মধ্য পূবালী ব্যাংকের শেয়ারের দাম ৯ শতাংশ, আল আরাফা ইসলামী ব্যাংকের ৫ শতাংশ, ব্র্যাক ব্যাংকের ২ শতাংশ, ট্রাস্ট ব্যাংকের ১ শতাংশ এবং ইবিএলের শেয়ারের দাম দশমিক ৬ শতাংশ কমেছে। একমাত্র ইউসিবিএলের শেয়ারের দাম বেড়েছে দশমিক ৩ শতাংশ।

বিশ্লেষকদের মতে, ধারণার চেয়ে ভাল মুনাফার খবর এলেও তাতে সম্ভবত আস্থা রাখতে পারছেন নানা বিনিয়োগকারীরা। তারা মনে করছেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের দেওয়া খেলাপী ঋণ পুন:তফসিলের বিশেষ সুযোগের সুবাদে এদের মুনাফা বেড়েছে। বছরভর রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সংঘাতে অনেক শিল্প প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় এ সুযোগ দেয়। জানা গেছে,প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদেরকে এ সুবিধা দেওয়ার কথা থাকলেও বেশিরভাগ ব্যাংক এ সুযোগের অপব্যবহার করেছে। তারা গণহারে ঋণ পুন:তফসিল করেছে,যাতে ব্যাংকের ব্যালান্সশীট তুলনামূলক ভাল দেখানো যায়। এভাবে বেশিরভাগ বড় ঋণ পুন:তফসিল করে নেওয়ায় প্রকৃত পরিমাণের চেয়ে অনেক কম প্রভিশনিং করেই পার পেয়েছে তারা।এতে নিট মুনাফা বেশি দেখানো সম্ভব হয়েছে। চলতি বছর ব্যবসায় নতুন গতি আনতে না পারলে এবং জোর করে পুন:তফসিল করা ঋণের কিস্তি আদায় ব্যাহত হলে গত বছরের ধাক্কা আগামি দিনে লাগবে। তাতে মুনাফার এ ধারা হোঁচট খেতে পারে। অন্যদিকে মুনাফা বাড়লেও লভ্যাং শ ততটা বাড়েনি। এসব কারণে এক ধরনের হাতাশা আছে বিনিয়োগকারীদের। তাছাড়া ব্যাংলাদেশ ব্যাংকের কিছু নির্দেশনাকে কেন্দ্র করে ক’দিন ধরেই বাজার অস্থির। এমন পরিস্থিতিতে সাধারণভাবেই বড় মূলধনের কোম্পানিগুলোর উপর প্রভাব বেশি পড়ে।