ঝিনাইদাহে সেতুর কাজ না হওয়ায় ১৫ গ্রামের মানুষের দুর্ভোগ

0
33
Jinaidah_map
ঝিনাইদাহের মানচিত্র

Jinaidah_mapপাইল নির্মাণ করা হয়েছে সাত বছর পূর্বে কিন্তু পাটাতন হয়নি আজও। পড়ে থেকে নষ্ট হতে চলেছে দুই পাশে নির্মিত পাইল দুইটি। আর নির্মাণ কাজ শেষ না হওয়ায় খালের দুই পাড়ের মানুষের কষ্ট যাচ্ছে না। বছরের বেশীরভাগ সময় তারা বাঁশের সাকো দিয়ে পার হচ্ছেন। আর বর্ষার সময় অতিরিক্ত পানির কারণে যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। এই অবস্থা ঝিনাইদহ সদর উপজেলার ফুরসন্দী ইউনিয়নের লক্ষিপুর খালের কচাঁতলা ঘাটে।

সরেজমিনে খালপাড়ে গিয়ে কথা হয় লক্ষিপুর গ্রামের বাসিন্দা মতিয়ার রহমানের সাথে। তিনি জানান, লক্ষিপুর গ্রামের মাঝদিয়ে বয়ে গেছে এই খালটি। এই খালের উত্তরে রয়েছে লক্ষিপুরের কিছু অংশ, মুক্তারামপুর, মাড়ন্দি, ফুরসন্দি, হুদা-ধননঞ্জয়পুর, সমসপুর ও রাজরামপুর। দক্ষিণে রয়েছে লক্ষিপুরের বাকি অংশ, টিকারী, দহখোলা, দিঘিরপাড় ও বেরুইল। এছাড়া উত্তরে মাড়ন্দি আর দক্ষিণে টিকারী বাজার রয়েছে। টিকারী বাজারে রয়েছে টিকারী জে.এম.সি কলেজ, দহখোলা দাখিল মাদ্রাসা, টিকারী মাধ্যমিক বিদ্যালয়। এছাড়া উভয় বাজারে মসজিদ-মন্দির রয়েছে। মতিয়ার রহমানের ভাষায় এটি গ্রামীণ সড়ক হলেও প্রতিদিন কমপক্ষে ২/৩ হাজার মানুষ যাতায়াত করে। এছাড়া নসিমন-করিমন ও ভ্যান চলাচল করে। কৃষকেরা তাদের কৃষি পণ্য এই সড়ক দিয়ে আনা-নেওয়া করেন। টিকারী বাজারে অবস্থিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে উত্তর প্রান্তের গ্রামের শিশুরা পড়ালেখা করতে যায় এই বাঁশের সাকো পার হয়ে। অতিরিক্ত পানির কারণে বছরে ৩/৪ মাস যাবত শিশুরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যেতে পারেন না।

মতিয়ার রহমান জানান, এলাকার মানুষের এই কষ্টের কথা চিন্তা করে ১৯৯৬ সালে খালের উপর কচাঁতলা ঘাটে একটি সেতু নির্মাণ শুরু হয়। কিছুটা কাজ হয়ে আর শেষ হয়নি, পড়ে আছে ওই অবস্থায়। যে দুইটি পাইল তৈরী করা হয়েছে তা আস্তে আস্তে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। টিকারী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণীর ছাত্রী তানিয়া আফরোজ জানান, বাঁশের সাকো পার হতে গিয়ে মাঝে মধ্যেই তাদের দুর্ঘটনার স্বীকার হতে হয়। আর বর্ষার সময় স্কুল যাওয়া বন্ধ রাখতে হয়। সেতুটি নির্মাণ হলে তারা ভালোভাবে চলাচল করতে পারতো।

ফুরসন্দি ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও ফুরসন্দি গ্রামের বাসিন্দা মিয়া অহিদুর রহমান জানান, তিনি চেয়ারম্যান থাকা কালে এলাকার মানুষের কথা চিন্তা করে ওই খালের উপর একটি সেতু নির্মাণের জন্য বিভিন্ন দপ্তরে চেষ্টা করেছিলেন। এক পর্যায়ে এলজিইডি সেতুটি নির্মাণ শুরু করেন। মোট ২৬ লাখ টাকা ব্যয় ধরে সেতুটি নির্মাণ শুরু করা হয়েছিল। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ছিল মের্সস আসাদুজ্জামান। এর মালিক ছিলেন মো. আসাদুজ্জাম, তিনি ইতোমধ্যে মারা গেছেন।

অহিদুর রহমান আরো জানান, ওই প্রতিষ্ঠানের নামে কাজ বরাদ্ধ হলেও মূলত কাজটি করেন আরেক ঠিকাদার মাহাবুবুর রহমান। ওই ঠিকাদার কাজ শুরু করে দুই প্রান্তের দুইটি পাইল নির্মাণ শেষ করেন। এরপর আর কাজ করেননি। সেতুটি সেই থেকে পড়ে আছে। ঠিকাদার তার ব্যয় করা টাকার সিংহভাগ তুলে নিয়েছেন বলে শুনেছেন। তিনি খালের দুই পাড়ের মানুষের কথা চিন্তা করে দ্রুত সেতুটির নির্মাণ কাজ শেষ করার দাবি জানিয়েছেন।

এ ব্যাপারে ঠিকাদার মাহবুবুর রহমানের সাথে কথা বললে তিনি জানান, দুইটি পাইল নির্মাণ করার পর খালে পানি বেড়ে যায়। যে কারণে আর কাজ করতে পারেননি। এরপর অপেক্ষায় ছিলেন পানি সরে গেলে কাজটি শেষ করবেন। কিন্তু হঠাৎ করে সকল প্রকার মালামালের মূল্য বেড়ে যায়। এতে কাজটি শেষ করতে গেলে তার অনেক টাকা লোকসান দিতে হতো। যে কারণে তিনি কাজটি আর করেননি। তিনি ৬ লাখ টাকা ব্যয় করে ৪ লাখ টাকা বিল পেয়েছেন। কাজ না করায় বাকি টাকা জরিমানা হিসেবে দিতে হয়েছে।

বিষয়টি নিয়ে ঝিনাইদহ সদর উপজেলা এলজিইডি’র উপ-সহকারী প্রকৌশলী ফয়জুর রহমানের সাথে আলাপ করলে তিনি বলেন, সেতুটির কাজ শেষ হওয়া প্রয়োজন। সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার কাজ না করে চলে যাওয়ার পর থেকে তারা নতুন করে বরাদ্ধ চেয়ে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের নিকট আবেদন করে যাচ্ছেন। তবে সম্প্রতি বরাদ্ধ হওয়ার একটা সম্ভবনা আছে। আশা করছেন এবার বাকি কাজটা শেষ করতে পারবেন।

সাকি/