দ্বিতীয় ধাপের নির্বাচনে সহিংসতা ও জাল ভোট বেশি ছিল: ইডব্লিউজি

0
32
Ewg

Ewgপ্রথম ধাপের উপজেলা নির্বাচন থেকে দ্বিতীয় ধাপের উপজেলা নির্বাচনে অনিয়ম, সহিংসতা, জাল ভোট ইত্যাদির ঘটনা অনেক বেশি হয়েছে বলে জানালেন ইলেকশন ওয়ার্কিং গ্রুপ (ইডব্লিউজি)।

রোববার বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবের কনফারেন্স লাউঞ্জে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় পর্যায়ের উপজেলা নির্বাচন পর্যবেক্ষণের প্রাথমিক বিবৃতিতে ইডব্লিউজি এ তথ্য জানায়।

অনুষ্ঠানে ইলেকশন ওয়ার্কিং গ্রুপের পরিচালক মো. আব্দুল আলিম বলেন, উপজেলা নির্বাচনে প্রথম ধাপের চেয়ে দ্বিতীয় ধাপে অনেক বেশি অনিয়ম হয়েছে। আর এই অনিয়মের মাত্রা প্রথম ধাপের উপজেলা নির্বাচন থেকে অনেক বেশি হয়েছে।

ইডব্লিউজির পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী নির্বাচনের দিন ভোট গ্রহণ কার্যক্রম দক্ষ ও পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত নির্বাচন কর্মকর্তাদের মাধ্যমে যথাযথভাবে সম্পন্ন হলেও বেশ কিছু কেন্দ্রে ব্যাপক সহিংসতা, ভোটারদেরকে ভয়-ভীতি প্রদর্শন এবং জাল ভোট প্রদানের প্রচেষ্টাকে কেন্দ্র করে অনেক ক্ষেত্রেই ভোট গ্রহণ কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হয়েছে। ইডব্লিউজি পর্যবেক্ষণকৃত ভোটকেন্দ্রসমূহে ভোট প্রদানের গড় হার দেখিয়েছে ৬৩ দশমিক ১ শতাংশ।

অনুষ্ঠানে নির্বাচন পর্যবেক্ষনের কিছু চিত্র তুলে ধরে আব্দুল আলিম বলেন, ইডব্লিউজি কর্তৃক পর্যবেক্ষণকৃত উপজেলার মধ্যে ১৯টি উপজেলার পর্যবেক্ষণকৃত ভোটকেন্দ্রে ১৩১টি সহিংসতার ঘটনা এবং ১৮টি উপজেলায় ভোটারদেরকে ভয় দেখানোর ১৪১টি ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ কার্যক্রম বাধাগ্রস্থ হয়েছে।

তাদের পর্যবেক্ষকদল ১৬টি উপজেলার পর্যবেক্ষিত ভোটকেন্দ্রসমূহে মোট ৯০টি নির্বাচনী প্রচারণার ঘটনা লিপিবদ্ধ করেছেন যা আইন বহির্ভূত। নির্বাচনী  আইন ভঙ্গের কারণে ইডব্লিউজি ২৭টি ঘটনা লিপিবদ্ধ করেছে যেখানে নির্বাচনী  আইন ভঙ্গের দায়ে সংশ্লিষ্টদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এছাড়া ৭১টি ঘটনা ঘটেছে যেগুলোতে ভোটারদেরেকে ভোট প্রদানে বাধা দেওয়া অথবা প্রতিরোধ করার চেষ্টা করা হয়েছে যাতে সংশ্লিষ্ট ভোট কেন্দ্রগুলো সাময়িকভাবে বা নির্দিষ্ট সময়ের আগেই বন্ধ ঘোষণা করা হয়।

প্রতিবেদনে তিনি আরও উল্লেখ করা হয়, ভোট কেন্দ্রগুলোতে পুরুষ ভোটারের তুলনায় নারী ভোটারদের উপস্থিতি বেশি ছিল। কিন্তু নারী ভোটারদের ভোট গ্রহণ করতে মাত্র ৪৬ দশমিক ৩ শতাংশ ভোটকক্ষে নারী ভোট গ্রহণ কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল।

এই প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, ভোট গ্রহণ কার্যক্রম সমাপ্ত ঘোষণা করার সময়ে ভোট কেন্দ্রগুলোতে ভোটারদের লম্বা লাইন দেখা গেছে। পর্যবেক্ষণকৃত প্রতিটি কেন্দ্রে গড়ে এই সংখ্যা ছিল ৩৯ জন। বেশিরভাগ কেন্দ্রে উপস্থিত এসব ভোটারদেরকে ভোট দিতে দেওয়া হলেও ৩ দশমিক ৮ শতাংশ কেন্দ্রে  যথাসময়ে উপস্থিত ভোটারদেরকে ভোট প্রদান করতে না দিয়ে ভোট গ্রহণ কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করা হয়। যা নির্বাচনী আইনের পরিপন্থী।

ভোট গণনার সময় ৮ দশমিক ৫ শতাংশ ভোট কেন্দ্রে প্রার্থীর এজেন্টগণ গণনা প্রক্রিয়ার প্রতিবাদ করেছিল।

এ সময় সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, জাতীয় নির্বাচন পর্যবেক্ষণ পরিষদের চেয়ারম্যান প্রফেসর নজরুল আহসান কালিমুল্লাহ, স্থায়ী কমিটির সদস্য নুরুন নবী প্রমুখ।

জেইউ