ক্রসফায়ারের বদলে এখন বন্দুকযুদ্ধ: ফখরুল

0
70
fakrul

fakrulভিন্ন মতাবলম্বীদের দমন করতে অবৈধ সরকার এখন ক্রসফায়ারের বদলে বন্ধুকযুদ্ধের নামে বিরোধী দলের  হাজার হাজার নেতা-কর্মীকে হত্যা করছে বলে জানালেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

রোববার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাব মিলনায়তনে গ্রেপ্তারকৃত সকল নেতা-কর্মীদের নি:শর্ত মুক্তি ও নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে দ্রুত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দাবিতে জাতীয়তাবাদী সেচ্ছাসেবক দল আয়োজিত এক প্রতিবাদ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ফখরুল বলেন, ক্ষমতায় টিকে থাকতে হত্যা ও গুমের পথ বেছে নিয়েছে সরকার। সারাদেশে প্রতিনিয়তই মৃতের সংখ্যা বাড়ছে। দেশ এখন এক অসভ্য জাতিতে পরিণত হয়েছে।

দেশের স্বাধীনতা, স্বার্বভৌমত্ব এবং অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখা যাবে কি না সে বিষয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে তিনি বলেন, নিজেদের স্বক্রীয়তা থাকবে নাকি অন্য কোনো আধিপত্যবাদের অধীনে আমাদের ইচ্ছা-অনিচ্ছা নির্ধারিত হবে এই প্রশ্ন এখন আমাদের সামনে এসে দাঁড়িয়েছে। এজন্য নেতা-কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে আন্দোলনের মাধ্যমে নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।

দেশের রাজনীতির ইতিহাসে দেশ এখন সবচেয়ে সংকটকালীন সময় অতিক্রম করছে মন্তব্য করে ফখরুল বলেন, আওয়ামী লীগ অনৈতিক, অসাংবিধানিক, বে-আইনীভাবে নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার গঠন করে জনগণের ওপর চেপে বসেছে। এতে জনগণের কোনো সম্পৃক্ততা নেই।

সরকারের বিন্দুমাত্র চক্ষুলজ্জা নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, ক্ষমতায় টিকে থাকতে তারা রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে ভোট, গণতান্ত্রিক অধিকার ও মানবাধিকার কেড়ে নেওয়ার সব ষড়যন্ত্র সমাপ্ত করেছে।

আওয়ামী লীগের পায়ের তলায় মাটি নেই উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, ভোটারবিহীন নির্বাচন করে তামাশার সংসদ তৈরি করে তারা এখন চিৎকার-চেঁচামেচি করছে।

তিনি বলেন, উপজেলা নির্বাচনের শত চেষ্টা করেও তারা ফল তাদের পক্ষে নিতে পারে নি। জনগণ তাদের বর্জন করেছে। বিএনপির আন্দোলন এখানেই সফল। এর মাধ্যমে প্রমাণ হয়েছে আওয়ামী লীগের অধীনে দেশে কোনো নির্বাচন সুষ্ঠু হতে পারে না।  বিএনপি ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য নয় মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার, স্বাধীনতা ও স্বার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য আন্দোলন করছে।

তিনি বলেন, ভয়ঙ্কর জঙ্গিদের নিরাপত্তাহীনভাবে অন্যস্থানে নেওয়া হচ্ছিল। আর এজন্য তারা পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে। আর একজন জঙ্গিকে রাতে আটক করা হলেও সকালে তাকে বন্দুকযুদ্ধের নামে হত্যা করা হয়েছে। তার কাছ থেকে আরও অনেক তথ্য পাওয়া যেত। কিন্তু তাকে যেভাবে মেরে ফেলা হলো তাতে বিষয়টি নিয়ে রহস্য সৃষ্টি হয়েছে।

কেন্দ্রীয় সভাপতি হাবিবুন নবী খান সোহেলের সভাপতিত্বে প্রতিবাদ সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন, বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা শামসুজ্জামান দুদু, বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ড. আসাদুজ্জামান রিপন, কেন্দ্রীয় প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মহিউদ্দিন মনির, ঢাকা মহনগর দক্ষিণের যুগ্ম-আহ্বায়ক জুয়েল রহমান খোকন, ঢাকা মহানগর উত্তরের যগ্ম-আহ্বায়ক জামির হোসেন প্রমুখ।

 

জেইউ