হলের দাবিতে আবারও রাজপথে জবি ছাত্র-শিক্ষক, পুলিশের বাধা

0
63
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়হলের দাবিতে আবারও রাজপথে নেমেছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থীরা। রোববার সকালে  আগের ঘোষণা অনুযায়ী জবির বেদখলে থাকা ‘শহীদ আজমল হোসেন’ হল উদ্ধারে ক্যাম্পাস থেকে বের হয় হাজারো শিক্ষার্থী।

সকালে বেশ কয়েকজন শিক্ষকও যোগ দেন শিক্ষার্থীদের এই হল উদ্ধার অভিযানে। কিন্তু ক্যম্পাস থেকে বেড়িয়ে পুলিশের বাধার মুখে পড়ে ছাত্র-শিক্ষেকদের এই মিছিল।

প্রত্যক্ষ দর্শীদের সাথে কথা বলে জানা যায় রোববার সকাল থেকে ক্যাম্পাসের ভাস্কর্য চত্বরে শত শত শিক্ষার্থী জড় হতে থাকে। এর কিছু পরেই হল দখলেনর জন্য ক্যম্পাস থেকে বের হয় তারা।

ক্যম্পাসের সামনে, বাংলাবাজার মোড় আর আশে পাশের এলাকা হলের দাবির  শ্লোগানে শ্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে।

এদিকে শিক্ষার্থীদের এই দাবিবে অন্যায্য বলে হল দখলকারীরাও শ্লোগান দিতে থাকে। দুই পক্ষের মুখোমুখি অবস্থানের ফলে আশঙ্কা দেখা দেয় সংঘর্ষ ও সহিংসতার।

পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে একটা সংঘর্ষের আশঙ্কায় শিক্ষার্থীদের এখানে আটকে দেওয়া হয়েছে।

শিক্ষার্থীরা জানান, শহীদ আজমল হোসেন হলটি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের পার্শ্ববর্তী ১৬ ও ১৭ নম্বর রমাকান্ত নন্দী লেনে অবস্থিত। এই হলের এক অংশে অবসরপ্রাপ্ত একটি পুলিশ পরিবার বাস করতেন। অপর একটি অংশে কয়েকটি সমিতির কার্যালয় খুলেছে স্থানীয়রা। এই হলটি পুনরুদ্ধার করে তবেই তারা বাড়ি ফিরবে।
এরপর তারা দুপুরে হলের নামে ব্যানার সম্বলিত সাইনবোর্ডটি হলের একাংশে লাগায়। পরে তা আইনশৃংখলা বাহিনী সরিয়ে নেয়।

এর আগে গত রোববার বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন ইসলামপুর এলাকায় সাংসদ হাজী সেলিমের দখলে থাকা তিব্বত হল দখলমুক্ত করতে গেলে পুলিশের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষ হয়। এতে তিন শতাধিক শিক্ষার্থী আহত হন।
আজ আবারও পুলিশ-শিক্ষার্থীদের মুখোমুখি অবস্থানের ফলে উত্তেজনাকর পরিবেশ সৃষ্টি হযোছে পুরান ঢাকায়। এ কারণে এ এবার যাতে কোনও  অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে সেদিকে নজরদারি বাড়াতে বিশ্ববিদ্যালয়ের পার্শ্ববর্তী সবকটি সড়কপথে ব্যাপক পুলিশ ও র‌্যাব মোতায়েন করা হয়েছে।

বিক্ষোভরত ছাত্ররা জানান,   গত ২৩ ফেব্রুয়ারির মতো এবারের অভিযাত্রায় বাধা দেওয়া হলে তা প্রতিহত করা হবে। পুলিশ আমাদের ওপর নির্বিচারে লাঠিচার্জ, গুলি করবে এটা আমরা মেনে নেওয়া হবেনা। শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ের আন্দোলনে বাধা দিলে সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে। সরকারের নির্দেশে আইনশৃংখলা বাহিনী ছাত্রদের দাবি আদায়ের আন্দোলনে বাধা দিচ্ছে। তাদের এসব অসদাচরণের উচিৎ জবাবই দেওয়া হবে।

এর আগে সরকারের পক্ষ থেকে কয়েকজন মন্ত্রী হলগুলো পুনরুদ্ধারে পদক্ষেপ নেবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন।

সূত্র জানায়, পাটুয়াটুলীর ১৬ ও ১৭ নাম্বার রমাকান্ত নন্দী লেনে শহীদ আজমল হোসেন হলের অবস্থান। নব্বইয়ের দশকে হলটি বেদখল হয়ে যায়। পরে পুলিশ সদস্যরা এর দখল নেয়। এ ছাড়া হলটির একাংশ স্থানীয় একটি সমিতি দখল করে নেয়। ১৯৯৬ সালে কিছু অংশ দখল করেন মোশারফ হোসেন খান নামের স্থানীয় এক প্রভাবশালী নেতা। ২০১১ সালের ফেব্রুয়ারিতে কথিত ‘বেগম রোকেয়া’ (শহীদ পরিবার) সাইনবোর্ড টাঙিয়ে হলটির কিছু অংশ দখল করা হয়। হলটির অবকাঠামো এখনও অক্ষত রয়েছে।
তবে এই হলটিসহ জগন্নাথের আরও প্রায় ১০টি হল বেদখল হয়ে আছে। এসব হল পুনরুদ্ধারের দাবিতে গত ১৬ দিন ধরে ছাত্ররা আন্দোলন করে আসছে। প্রায় তিন দশক ধরে প্রভাবশালীদের দখলে থাকা  জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ১১টি হল এখনও উদ্ধার হয়নি। বিভিন্ন সময়ে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ চেষ্টা চালালেও হলগুলো উদ্ধার করা সম্ভব হচ্ছেনা। ২০১১ সালের ৩ অক্টোবর ড. হাবিবুর রহমান হল উদ্ধার হলেও তা আবাসন উপযোগী হয়নি।

এদিকে ৮ দফা দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির নেতৃত্বে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে রায়সাহেব বাজার মোড়ে অবরোধ সৃষ্টি করেছে শিক্ষকরা। অবরোধে পুরান ঢাকার যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে।

জগন্নাথের প্রক্টোর অশোক কুমার সাহা এ প্রসঙ্গে জানান, হল পুনরুদ্ধারের দাবিতে তারাও সংহতি প্রকাশ করছে। দীর্ঘদিন ধরে বেদখলে থাকা এই হলগুলি পুনরুদ্ধারে ব্যাপক চেষ্টা চালানো হচ্ছে। পাশাপাশি ছাত্ররাও আন্দোলন করে যাচ্ছে। কিন্তু আমরা রক্তপাত চাইনা। আমরা  সরকারের কাছে আন্তরিক সমাধান কামনা করছি।

এছাড়া আন্দোলনে পুলিশী বাধা ও লাঠিচার্জের প্রতিবাদে ন্যাশনাল হাসপাতালের সামনেও অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করছে শিক্ষার্থীরা।

এমআর/