বৈঠকে যাননি অর্থমন্ত্রী, চলতি বছরে হচ্ছে না নতুন বেতন কাঠামো

0
72

Pay_Comissionচলতি বছরের জুনে প্রতিবেদন দেওয়ার কথা থাকলেও তা পারছে না জাতীয় বেতন ও চাকরি কমিশন। খসড়া বেতন কাঠামোর প্রস্তাব তৈরি করতে তথ্য উপাত্ত সংগ্রহেই চলতি বছরের পুরোটা লেগে যাবে। এসব তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ ও পর্যালোচনা করে প্রতিবেদন জমা দিতে আগামি বছরের প্রথম প্রান্তিক পর্যন্ত লেগে যেতে পারে। তাই চলতি বছরে নতুন বেতন কাঠামোতে বেতন-ভাতা পাচ্ছেন না ১৩ লাখ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারি।

রোববার কমিশনের এক বৈঠক শেষে এমন আভাস দিয়েছেন সরকারি ‘পে কমিশন’র চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ ফরাস উদ্দিন। এসময় এফবিসিসিআই এর চেয়ারম্যান কাজী আকরাম উদ্দিনসহ জাতিয় বেতন কমিশনের অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

ড. ফরাস উদ্দিন বলেন, দেশের মানুষেরর জীবন-মানের অনেক উন্নতি হয়েছে। সে তুলনায় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারিদের বেতন বৃদ্ধি হয়নি। বেতন হওয়ার কারণে তারা নানান ধরণের অসৎ কাজে জড়িয়ে পড়েন। তাছাড়া এ খাত একই কারণে অগ্রগতির দিক থেকে বেসরকারি খাতের তুলনায় অনেক কম। তাই   কর্মকর্তা-কর্মচারিদের কাজে স্বচ্ছতা, জবাবদিহীতা ও কর্মদক্ষতা বৃদ্ধিসহ দুর্নীতি প্রতিরোধে তাদের বেতন বেসরকারি খাতের সমান পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সমান করার চেষ্টা করা হবে। এ লক্ষে তাদের পরিবারের ৬ সদস্যের সম্ভাব্য ব্যয় বিবেচনায় নেওয়া হবে। আগের বেতন কাঠামো ৪ সদস্যের পরিবারের নিরিখে করা হয়েছিল।

তিনি আরও বলেন, আমরা আজকের বৈঠকে একটি প্রশ্নমালা তৈরি করেছি। এই প্রশ্নমালার আলোকে পূর্বের কমিশন ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সাথে আলোচনা করা হবে। সকলের মতামত নেওয়ার পর মন্ত্রণালয়ের কাছে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে। তবে সব কিছু শেষ করতে ১০ থেকে ১২ মাসের সময় প্রয়োজন হবে।

এত বেশি সময় নেওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান, পূর্বের কমিশনেরও এ রকম সময় লেগেছে। সকলের সাথে আলোচনা করা সময় সাপেক্ষ ব্যাপার।

আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, বেসরকারি কর্মকর্তাদের জন্য আলাদা কমিশন ও জাতিয় বেতন কমিশনকে স্থায়ী করার সুপারিশ আমরা করব। তবে বাস্তবায়ন সরকারের বিষয়।

বৈঠকে অর্থমন্ত্রীর অংশ নেওয়ার কথা থাকলেও তিনি যোগ দেননি কেন এমন প্রশ্নের জবাবে  সংবাদ সম্মলেন কিছুই বলেন নি  জাতিয় পে কমিশনের এ চেয়ারম্যান

উল্লেখ, গত বছরের ৭ অক্টোবর পেশাজীবীদের এক সম্মেলনে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য ২০ শতাংশ মহার্ঘ ভাতার ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এছাড়া নতুন বেতন স্কেলের জন্য শিগগীরই বেতন কমিশন গঠনের ঘোষণাও দেন তিনি। একই দিনে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারী হয়। আর মহার্ঘ ভাতা কার্যকর করা হয় সে বছরের ১ জুলাই থেকে। প্রায় দেড় মাস পর ২৪ নভেম্বর জাতীয় বেতন ও চাকরি কমিশন গঠন করা হয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. মোহাম্মদ ফরাস উদ্দিনকে গঠিত কমিশন ১৭ ডিসেম্বর কার্যকর হওয়ার কথা। কিন্তু মর্যাদা সংক্রান্ত জটিলতায় দীর্ঘদিন কমিশনই কাজই শুরু করেনি। তবে জটিলতা কাটিয়ে চেয়ারম্যানকে আপীল বিভাগের বিচারপতির মর্যাদাসহ বাকী সদস্যদের পদমর্যাদা নির্ধারণ করার পর আজই প্রথম কাজ করা শুরু করেছে কমিশন।

আর কমিশনের কর্মপরিধি হিসেবে বলা হয়েছে, সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও আধা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক ও অর্থলগ্নি প্রতিষ্ঠান, বিশ্ববিদ্যালয় ও রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্পপ্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিদ্যমান বেতন, ভাতা ও অন্যান্য সুবিধা পর্যালোচনাপূর্বক সরকারের আয়-ব্যয়ের ভারসাম্য এবং দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা বিবেচনা করবে কমিশন। তারা একটি সময়োপযোগী বেতন কাঠামো ও অবসর সুবিধা নির্ধারণ; বিশেষায়িত চাকরিজীবীদের বেতন কাঠামো নির্ধারণ এবং বাড়িভাড়া, চিকিৎসা, যাতায়াত, আপ্যায়ন, প্রেষণ, কার্যকর, মহার্ঘ্য, উৎসব ও শ্রান্তি বিনোদন ভাতা নির্ধারণের কাজ করবে।

তাছাড়া টাইমস্কেল, সিলেকশন গ্রেড এবং ইনক্রিমেন্টের ক্ষেত্রে বিদ্যমান অসংগতি দূর এবং রেশন-সুবিধা যৌক্তিকীকরণ বিষয়েও কাজ করবে এ কমিশন।