‘সাগর কন্যা কুয়াকাটায় আমরা ক’জন’

0
129
kuakata

1903366_654029727992260_897935714_nবেশ কিছুদিন ধরে বন্ধুদের মাঝে বিডি বাস লাভার গ্রুপ থেকে একটি আনন্দ ভ্রমণ করার পরিকল্পনা চলছিল। অবশেষে ভ্রমণের জন্য সময় এবং স্থান নির্ধারণ করা হলো। প্রথমে দিনাজপুর ঠিক করা হলেও পরে ঠিক করা হলো কুয়াকাটা যাওয়া হবে। বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের একটি সমুদ্র সৈকত হল কুয়াকাটা। বাংলাদেশে এটাই একমাত্র সৈকত যেখান থেকে সূর্যাস্ত ও সূর্যোদয় দুটোই দেখা যায়। পর্যটকদের কাছে কুয়াকাটা ‘সাগর কন্যা’ হিসেবে পরিচিত। বন্ধুদের সবার সাথে আলোচনা করে ঠিক করা হলো সাকুরা এসি বাসে যাওয়া হবে। কলাপাড়া, পটুয়াখালী।

h5415
কুয়াকাটা

বলে রাখা ভালো- ঢাকা থেকে কুয়াকাটার দূরত্ব ৩৮০ কি.মি । যাত্রা ঠিক করা হলো ২০ ফেব্রুয়ারি রাত ১০টা। রাত ৯ টার দিকে সাকুরা কাউন্টারে পৌঁছে দেখি বাস রেডি হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। বাস যথারীতি  রাত ১০টায় যাত্রা শুরু করলো। সাভার, নবীনগর, ধামরাই পার হয়ে গাড়ি পাটুরিয়া এসে থামলো। ঘাটে অনেক সিরিয়াল থাকা সত্ত্বেও আমাদের বাস ভিআইপি নিয়ে ফেরি তে উঠে গেলো । ১৫-২০ মিনিট লাগলো ফেরি পার হতে । ফেরি পার হয়ে বাস চললো  কুয়াকাটার উদ্দেশে । ঢাকা থেকে কুয়াকাটা যেতে ৫টি ফেরি পার হতে হয় । পাটুরিয়া, লেবুখালি, কলাপারা, মহিপুর ও আন্ধারমানিক।  এগুলোর মধ্যে পাটুরিয়া -দৌলতদিয়া মানে পদ্মা নদীটাই একটু বড় । অন্য নদীগুলো ছোট ছোট ।আন্ধারমানিক নদী এতোটাই ছোট যে পাশাপাশি ২টি ফেরি রাখলে বাস পার হয়ে যেতে পারবে ।

আমরা সকাল সোয়া ৮টার দিকে কুয়াকাটা পৌঁছালাম। কিন্তু কোনো হোটেল পেলাম না। তাই ফয়সাল ভাইয়ের বন্ধুর দোকানে ব্যাগ রেখে নাস্তা করে চলে গেলাম সমুদ্রে গোসল করতে। তবে সৈকতে এসে মনটা খারাপ হয়ে গেলো । এই সৈকতটা বেশ নোংরা । কক্সবাজারের মতো পরিষ্কার না। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত এই বিষয়টা খেয়াল করা। যাই হোক সাগরে নেমে ঘণ্টা খানেক সময় নিয়ে গোসল করলাম। পানির মধ্যে  লাফালাফি করলাম, ফুটবল খেললাম।  সজল ভাই অতিরিক্ত জামা কাপড় না আনার কারণে  ছাতার নিচে বসে আমাদের খেলা দেখতে লাগলেন আর ছবি তুলতে লাগলেন । আমাদের এই  ট্যুরে সাগর পাড়ের ক্যামেরাম্যানের দায়িত্বটা তিনিই পালন করলেন । সবাই মিলে অনেক মজা হলো। অনেকেই ঝিনুক কুড়ালো, আমিও অনেক ঝিনুক কুড়ালাম । তারপর ফিরে এসে ফ্রেশ হয়ে খুব ক্লান্ত হয়ে গিয়েছিলাম। ১ ঘণ্টা বিশ্রাম নিলাম ।

তারপর এদিক-ওদিক ঘুরতে গেলাম। কুয়াকাটাতে সাগর সৈকত ছাড়াও দেখার মতো আরও অনেক দর্শনীয় স্থান রয়েছে- যেমন: লাল কাঁকড়ার বিচ, বৌদ্ধ মন্দির, কুয়াকাটার ঐতিহাসিক কুয়া, গঙ্গামতির জঙ্গল, রাখাইন পল্লী। কুয়াকাটা বাস স্ট্যান্ড থেকে মটর সাইকেলে এ এসব জায়গায় যেতে পারবেন। এছাড়াও আপনি যেতে পারেন ফাতরার বন, কটকা বিচ। এসব জায়গায় আপনাকে বোট এ যেতে হবে। কুয়াকাটা বিচ থেকে নির্দিষ্ট সময় পর পর বোট ছেড়ে যায়। ঘুরতে ঘুরতে দুপুরের খাবারের সময় হয়ে গেলো। হোটেলে যেয়ে চিংড়ি মাছ, গরুর গোশ্ত দিয়ে দুপুরের খাওয়া সেরে নিলাম । এর পর বের হলাম কিছু কেনাকাটা করতে । কুয়াকাটার রাখাইন পল্লীতে তাঁতের তৈরী চাদর বেশ ভালো , দামেও সস্তা । আমি ২০০ টাকা দিয়ে একটি চাদর কিনলাম ।

h5452
রাখাইন নারী

এছাড়াও শামুক, ঝিনুকের  মালা কিনলাম । আমার এক বন্ধুর কাঁকড়া খাওয়ার শখ হলো। কাঁকড়া কিভাবে খায় সেটা  দেখতে তার সাথে গেলাম । এদিকে বাস ছাড়ার সময় হয়ে যাচ্ছে তাই তাড়াতাড়ি কেনাকাটা সারতে গেলাম । শুঁটকি মার্কেটে গেলাম। এখানে কক্সবাজারের চেয়ে দাম একটু বেশিই মনে হলো । লইট্টা শুঁটকি কিনলাম ২৫০ টাকায়। বাসপাতা ১০০ টাকায় । এদিকে বিকেল ৪.৩০ বেজে গেছে। ৫টায় বাস ছেড়ে দিবে। ৫টায় বাস ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে দিল। কিন্তু বাস তো না;  মনে হলো প্লেনে উঠেছি। পাটুরিয়া ঘাট পর্যন্ত বাসের গতি ছিল ১১০-১২০ । কিন্তু দৌলতদিয়া ঘাটে এসে দেখি বিশাল লাইন বাসের । কি আর করা। ভোর ৫টা পর্যন্ত প্রায় ৫ ঘণ্টা ঘাটে বসে থাকতে হলো । ফেরি পার হয়ে পাটুরিয়া আসলাম ভোর সাড়ে ৫টার দিকে। অবশেষে সেই চিরচেনা প্রাণের শহর ঢাকায় পৌঁছলাম ২২ ফেব্রুয়ারি সকাল ৭টায় ।

h5453
রাখাইন মার্কেটের পাশের মন্দির

কিভাবে যাবেন কুয়াকাটায়: ঢাকার গাবতলী এবং সায়েদাবাদ থেকে কুয়াকাটার উদ্দেশে সকালে ও রাতে বাস ছেড়ে যায়। সাকুরা ও হানিফের গাড়িগুলো ভাল। ভাড়া পড়বে ৬০০-৭০০ টাকার মতো ।

সাকুরা গাবতলী কাউন্টারের কন্টাক্ট নম্বর 01198386013; কলাপাড়া- 01198088211; কুয়াকাটা- 0119-6157183 এছাড়াও ঢাকা থেকে লঞ্চে পটুয়াখালী/বরিশাল যেয়ে সেখান থেকে বাসে কুয়াকাটা যাওয়া যায়। বরিশাল থেকে কুয়াকাটার দূরত্ব ১০৮ কি.মি।

কোথায় থাকবেন : কুয়াকাটায় অনেক হোটেল আছে ।  তবে আগে থেকে বুকিং করে গেলে ভালো ।  পর্যটন হলিডে হোমস কুয়াকাটার কন্টাক্ট নম্বর- ০৪৪২৮-৫৬০০৪, ১৭১-০১১৪৮৩