তৃতীয় বিমসটেক সম্মেলন; সচিব পর্যায়ের বৈঠক আজ

0
63

LOGO-for-BIMSTEC‘ধারাবাহিক উন্নয়নে অংশীদারিত্ব’ প্রতিপাদ্য নিয়ে গতকাল শনিবার থেকে শুরু হয়েছে তৃতীয় বিমসটেক শীর্ষ সম্মেলন। মিয়ানমারের রাজধানী নাইপিদোতে চার দিন ব্যাপী এই সম্মেলন যোগদিতে এই আঞ্চলিক জোটটির সদস্য দেশগুলোর প্রতিনিধিরা ইতোমধ্যে সেখানে পৌছেছেন। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ওই সম্মেলনে যোগদিতে আগামিকাল সোমবার মায়ানমারের উদ্দেশ্যে দেশ ছাড়ছেন।

সম্মেলনে ঢাকায় সংস্থাটির স্থায়ী সচিবালয় স্থাপন বিষয়ে সমঝোতা স্মারকসহ একাধিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। অন্য যে স্মারকগুলো সাক্ষরের কথা রয়েছে তার মধ্যে উল্লেখ যোগ্য হচ্ছে, ভারতে আবহাওয়া ও জলবায়ু বিমসটেক সেন্টার প্রতিষ্ঠা সংক্রান্ত সমঝোতা স্মারক  এবং ভুটানে বিমসটেক কালচারাল ইন্ডাস্ট্রিজ কমিশন ও বিমসটেক কালচারাল ইন্ডাস্ট্রিজ অবজারভেটরী প্রতিষ্ঠা সংক্রান্ত সমঝোতা স্মারক (এমওইউ)।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানিয়েছে শীর্ষ সম্মেলনের পর ঢাকায় বিমসেটকের স্থায়ী সচিবালয় কার্যকর হবে বলে আশা করা হচ্ছে। বাংলাদেশ সরকার সচিবালয়ের জন্য ইতোমধ্যেই ঢাকায় জমি বরাদ্দ করেছে। আরেক সদস্য দেশ ভারত ইতোমধ্যে আশ্বাস দিয়েছে যে তারা সচিবালয় স্থাপনের ৩২ শতাংশ খরচ বহন করবে ভারত।

সূত্রটি জানিয়েছে, সম্মেলনের শেষদিন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঢাকায় বিমসটেকের স্থায়ী সচিবালয় প্রতিষ্ঠা সংক্রান্ত সমঝোতা স্মারক করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

তবে আজ সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনে সদস্য দেশগুলোর পররাষ্ট্র সচিব পর্যায়ে সভা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সচিব পর্যায়ের ওই বৈঠকেও সচিবালয় স্থাপনের বিষয়ে আলোচনা হবে বলে মন্ত্রনালয় সূত্রটি জানিয়েছে।

এদিকে গতকাল উদ্বোধনী দিনে মায়ানমারের রাষ্ট্রপ্রধান ইউ থেন সিন বিমসটেক দেশগুলোকে এই সম্মেলনে যোগ দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ জানান।

তিনি তার বক্তৃতায় বলেন, সেই ১৯৯৭ সাল থেকে শুরু হওয়া এই সংগঠনটির কার্যক্রমের মাধ্যমে এই অঞ্চলের বিনিয়োগ, প্রযুক্তি, যোগাযোগ, পর্যটন,কৃষি,পরিবেশ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, দারিদ্র হ্রাসের মতো বিষয়গুলোতে বেশ উন্নয়ন হয়েছে।

এই সময়ে কৃষি ও জ্বালানি খাতে মায়ানমারের বেশ উন্নয়ন হয়েছে উল্লেখ করে ইউ থেন সদস্য সকল দেশকে পারস্পারিক সহায়তা বৃদ্ধির আহ্বান জানান।

উল্লেখ্য, আঞ্চলিক জোট গঠনের মাধ্যমে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানো এবং সম্পর্ক জোরদার করার লক্ষ্য ১৯৯৭ সালে বিসটেক গঠন করে বাংলাদেশ, ভারত, শ্রীলঙ্কা ও থাইল্যান্ড। পরে মিয়ানমার, নেপাল ও ভুটান যোগ দিলে নাম পরিবর্তন করে  বে অব বেঙ্গল ইনিশিয়েটিভ মাল্টি সেক্টরাল টেকনিক্যাল আ্যান্ড ইকোনমিক কো-অপারেশন (বিমসটেক) করা হয়। বিমসটেকে রূপান্তরিত হওয়ার পর সদস্য দেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতার জন্য ১৪টি বিষয় নির্ধারণ করা হয়।

আঞ্চলিক জোটটির প্রথম শীর্ষ সম্মেলন ২০০৪ সালে ব্যাংককে এবং দ্বিতীয় শীর্ষ সম্মেলন ২০০৮ সালে ভারতের নয়াদিল্লীতে অনুষ্ঠিত হয়। পরবর্তী সম্মেলন ২০১২ সালে মিয়ানমারে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও বিভিন্ন কারণে দেশটির সরকার সে সম্মেলন পিছিয়ে দেয়। নির্ধারিত সময়ের দুই বছর পরে এখন বিমসটেক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

৩ মার্চ মন্ত্রী পর্যায়ের সম্মেলন ও শেষ দিন ৪ মার্চ বিমসটেকের সদস্য দেশগুলোর রাষ্ট্রপ্রধানদের নিয়ে শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, বিমসটেক সম্মেলনে ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণ, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে সহযোগিতা, সন্ত্রাস ও জঙ্গীবাদ মোকাবেলা, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন ও পর্যটন শিল্পের বিকাশসহ বিভিন্ন বিষয়কে অগ্রাধিকার দেবে বংলাদেশ।

এ ছাড়াও  সম্মেলনের মধ্যে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে পারে। ভারত-বাংলাদেশের মধ্যেও দ্বিপক্ষীয় একাধিক বৈঠক হতে পারে। এর মধ্যে একটি বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং অংশ নেবেন।

এর আগে ভারতের পক্ষ থেকে জানানো হয় উভয় দেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট অমীমাংসিত সব বিষয়ে দুই প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে আলোচনা হবে। পাশাপাশি ঢাকায় বিমসটেকের সচিবালয় স্থাপনে বাংলাদেশকে সহায়তার কথা জানান তিনি।