পুন:তফসিলে ব্যাংকের মুনাফা বেড়েছে

0
60
ব্যাংকের মুনাফায় প্রবৃদ্ধি

ব্যাংকের মুনাফায় প্রবৃদ্ধিচলতি মৌসুমে ব্যাংকিং খাতের কোম্পানিগুলোর লভ্যাংশ ঘোষণা শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার পর্যন্ত তালিকাভুক্ত ৩০ ব্যাংকের মধ্যে ৬ টি লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। ব্যাংকগুলোর পরিচালনা পর্ষদের বৈঠকে অনুমোদন পেয়েছে ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত হিসাব বছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন।

লভ্যাংশ ঘোষণাকারী ব্যাংকগুলো হচ্ছে-ইস্টার্ন ব্যাংক লিমিটেড (ইবিএল), ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক লিমিটেড (ইউসিবিএল), ব্র্যাক ব্যাংক লিমিটেড, আল আরাফা ইসলামি ব্যাংক লিমিটেড, পূবালী ব্যাংক লিমিটেড ও ট্রাস্ট ব্যাংক লিমিটেড। এদের সবারই নিট মুনাফা ও শেয়ার প্রতি আয় বা ইপিএস বেড়েছে।

গত বছরের শেষভাগে বাংলাদেশ ব্যাংক খেলাপী ঋণ পুন:তফসিলের বিশেষ সুযোগ দেয়। বছরভর রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সংঘাতে অনেক শিল্প প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় এ সুযোগ দেওয়া হয়। জানা গেছে, প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদেরকে এ সুবিধা দেওয়ার কথা থাকলেও বেশিরভাগ ব্যাংক এ সুযোগের অপব্যবহার করেছে। তারা গণহারে ঋণ পুন:তফসিল করেছে, যাতে ব্যাংকের ব্যালান্সশীট তুলনামূলক ভাল দেখানো যায়। এভাবে বেশিরভাগ বড় ঋণ পুন:তফসিল করে নেওয়ায় প্রকৃত পরিমাণের চেয়ে অনেক কম প্রভিশনিং করেই পার পেয়েছে তারা। এতে নিট মুনাফা বেশি দেখানো সম্ভব হয়েছে। চলতি বছর ব্যবসায় নতুন গতি আনতে না পারলে এবং  জোর করে পুন:তফসিল করা ঋণের কিস্তি আদায় ব্যাহত হলে গত বছরের ধাক্কা আগামি দিনে লাগবে। তাতে মুনাফার এ ধারা হোঁচট খেতে পারে।

ব্র্যাক ব্যাংক লিমিটেডের পরিচালনা পর্ষদ শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ২০ শতাংশ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। এর মধ্যে ১০ শতাংশ নগদ ও ১০ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ। আগের বছর ব্যাংকটি ১৫ শতাংশ লভ্যাংশ দিয়েছিল।

গত বছর ব্যাংকটি শেয়ার প্রতি ৩ টাকা ২০ পয়সা আয় করেছে। অবশ্য এটি সহযোগী প্রতিষ্ঠানের আয়সহ। শুধু মূল ব্যাংকের শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস)দাঁড়িয়েছে ২ টাকা ৪৬ পয়সা। আগের বছর ব্যাংকটির ইপিএস ছিল ১ টাকা ৭৪ পয়সা। এক বছরের ব্যবধানে ব্যাংকটির ইপিএস ৭৪ পয়সা বা ৪১ শতাংশ বেড়েছে।

ইস্টার্ন ব্যাংক লিমিটেড ২০১৩ সালে বিনিয়োগকারীদের জন্য  ২০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। ব্যাংকটি শেয়ার প্রতি ৪ টাকা ২০ পয়সা আয় করেছে। সাবসিডিয়ারির লোকসানের কারণে প্রকৃত ইপিএস দাঁড়িয়েছে ৪ টাকা ১৫ পয়সা। আগের বছর আয় করেছিল ৩ টাকা ৯১ পয়সা। ব্যাংকটির শেয়ার প্রতি আয় বেড়েছে ২৪ পয়সা বা প্রায় ৬ শতাংশ।

ইউনাইটেড কর্মাশিয়াল ব্যাংক লিমিটেড শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ২০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। আগের বছর ব্যাংকটি লভ্যাংশ দিয়েছিল ১০ শতাংশ।

আলোচিত বছরে ব্যাংকটি শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) করেছে ৩ টাকা ৬৬ পয়সা। আগের বছর ব্যাংকটি ১ টাকা ৯০ পয়সা আয় করেছিল। আগের বছরের তুলনায় ইউসিবিএলের ইপিএস বেড়েছে ১ টাকা ৭৬ পয়সা বা প্রায় ৯৩ শতাংশ।

আল-আরাফা ইসলামী ব্যাংক লিমিটেডের লভ্যাংশের পরিমাণ কমেছে। এই বছর ব্যাংকটি শেয়ারহোল্ডারদের জন্য সাড়ে ১৩ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। আগের বছর ব্যাংকটি শেয়ারহোল্ডাদের ১৭ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ দিয়েছিলো।

সমাপ্ত বছরে ব্যাংকটি শেয়ার প্রতি আয় করেছে ২ টাকা ৪৬ পয়সা। আগের বছর ব্যাংকটির ইপিএস ছিল ২ টাকা ৩৮ পয়সা। আগের বছরের তুলনায় ব্যাংকটির আয় ৮ পয়সা বা সাড় ৩ শতাংশ বেড়েছে।

পূবালী ব্যাংক লিমিটেড ২০১৩ সালের জন্য ১০ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। সে বছর ব্যাংকটি শেয়ারহোল্ডাদের ১০ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ দিয়েছিলো।

সমাপ্ত বছরে ব্যাংকটি শেয়ার প্রতি আয় করেছে ২ টাকা ৯০ পয়সা। আগের বছর ব্যাংকটির ইপিএস ছিল ১ টাকা ৯২ পয়সা। এক বছরের ব্যবধানে ব্যাংকটির আয় বেড়েছে ৯৮ পয়সা বা প্রায় ৫০ শতাংশ।

ট্রাস্ট ব্যাংক লিমিটেড ২০১৩ সালের জন্য ১২ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। আগের বছর ১০ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ দিয়েছিল ব্যাংকটি।

আলোচিত হিসাব বছরে কোম্পানিটি শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) করেছে মাত্র ৮৫ পয়সা। আগের বছর ব্যাংকটি শেয়ার প্রতি ৫৫ পয়সা আয় করেছিল। এক বছরের ব্যবধানে এর ইপিএস ৩০ পয়সা বা প্রায় ৫৫ শতাংশ বেড়েছে।