অবশেষে কাজ শুরু করছে বেতন কমিশন, রোববার অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক

0
129
national pay and services commission

national pay and services commission আয়ুষ্কাল অর্ধেক পার করে অবশেষে কাজ শুরু করতে যাচ্ছে জাতীয় বেতন ও চাকরি কমিশন। আনুষ্ঠানিকভাবে কাজ শুরুর আগে দিকনির্দেশনা চাইতে বৈঠকে বসছে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিতের সঙ্গে। আগামিকাল রোববার রাজধানীর শাহবাগে বিসিএস প্রশাসন একাডেমিতে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। কমিশন সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

এদিকে কাজ শুরু করতে করতেই মেয়াদের অর্ধেক সময় পার করে দেওয়ায় নির্ধারিত সময়ে এ কমিশন রিপোর্ট দিতে পারবে কি-না তা নিয়ে সন্দেহ দেখা দিয়েছে। উল্লেখ, বেতন ও চাকরি কমিশন-২০১৩ এর প্রজ্ঞাপন অনুসারে চলতি বছরের ১৭ জুনের মধ্যে কমিশনের রিপোর্ট দেওয়ার কথা। গত বছরের ২৪ নভেম্বর জারি করা কমিশনের প্রজ্ঞাপনে এ সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়।

জানা গেছে, কমিশনের চেয়ারম্যান ও সদস্যদের পদমর্যাদা সংক্রান্ত জটিলতায় কমিশনের প্রায় অর্ধেক সময় পার হয়ে গেছে। মর্যাদার বিষয়টি মন:পূত না হওয়ায় ফেব্রুয়ারির প্রথম ভাগ পর্যন্ত কাজই শুরু করেনি কমিশন। এদিকে সরকারের দিক থেকেও এক ধরনের ধীরে চলো কৌশল নেওয়া হয়েছে। কারণ চলতি অর্থবছরের প্রথম ভাগের পুরোটাই কেটেছে রাজনৈতিক অস্থিরতায়। এ কারণে রাজস্ব আহরণের হার ভাল নয়। তাই নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন সহজ হবে না।

উল্লেখ, গত বছরের ৭ অক্টোবর পেশাজীবীদের এক সম্মেলনে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য ২০ শতাংশ মহার্ঘ ভাতার ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এছাড়া নতুন বেতন স্কেলের জন্য শিগগীরই বেতন কমিশন গঠনের ঘোষণাও দেন তিনি। একই দিনে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারী হয়। আর মহার্ঘ ভাতা কার্যকর করা হয় সে বছরের ১ জুলাই থেকে। প্রায় দেড় মাস পর ২৪ নভেম্বর জাতীয় বেতন ও চাকরি কমিশন গঠন করা হয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. মোহাম্মদ ফরাস উদ্দিনকে গঠিত কমিশন ১৭ ডিসেম্বর কার্যকর হওয়ার কথা। কিন্তু মর্যাদা সংক্রান্ত জটিলতায় দীর্ঘদিন কমিশনই কাজই শুরু করেনি।

জানা গেছে, অতীতে কোনো বেতন কমিশনের প্রধান ও সদস্যদের সুনির্দষ্ট কোনো মর্যাদা দেওয়া হয় নি। কমিশনের চেয়ারম্যান ও সদস্য হিসেবে নিজস্ব মর্যাদাবলে তারা কাজ করে গেছেন। কিন্তু জাতীয় বেতন ও চাকরি কমিশন-২০১৩ এর চেয়ারম্যান ও সদস্যরা সুনির্দিষ্ট মর্যাদার জন্য গো ধরে বসে থাকে। সরকার কমিশন প্রধানকে মন্ত্রী পরিষদ সচিবের মর্যাদা দিলেও তাতে তিনি তুষ্ট হননি। বরং আপীল বিভাগের বিচারপতির মর্যাদার জন্য তিনি দর কষাকষি করতে থাকেন। শেষ পর্যন্ত সরকার তাতে নতি স্বীকার করে।

কমিশনের কর্মপরিধি হিসেবে বলা হয়েছে, সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও আধা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক ও অর্থলগ্নি প্রতিষ্ঠান, বিশ্ববিদ্যালয় ও রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্পপ্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিদ্যমান বেতন, ভাতা ও অন্যান্য সুবিধা পর্যালোচনাপূর্বক সরকারের আয়-ব্যয়ের ভারসাম্য এবং দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা বিবেচনা করবে কমিশন।

সুপারিশ তৈরির সময় মা-বাবাসহ ছয়জনের একটি পরিবারের জীবনযাত্রার ব্যয় এবং দুই সন্তানের শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে ব্যয় বিবেচনায় রাখতে হবে। এর আগে ২০০৮ সালের কমিশনে অবশ্য চারজনের জীবনযাত্রার ব্যয় বিবেচনার কথা ছিল।
একটি সময়োপযোগী বেতন কাঠামো ও অবসর সুবিধা নির্ধারণ; বিশেষায়িত চাকরিজীবীদের বেতন কাঠামো নির্ধারণ এবং বাড়িভাড়া, চিকিৎসা, যাতায়াত, আপ্যায়ন, প্রেষণ, কার্যকর, মহার্ঘ্য, উৎসব ও শ্রান্তি বিনোদন ভাতা নির্ধারণের কাজ করবে কমিশন। কমিশন মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সমন্বয়ের পদ্ধতিও নিরূপণ করবে।
টাইমস্কেল, সিলেকশন গ্রেড এবং ইনক্রিমেন্টের ক্ষেত্রে বিদ্যমান অসংগতিও দূর এবং রেশন-সুবিধা যৌক্তিকীকরণ করা হবে।