তুরাগ নদীর ৫ কোটি বর্গফুট জমি প্রভাবশালীদের দখলে

0
46
নদী দখল

তুরাগ নদীর দুই পাশে ৫ কোটি ২৩ হাজার বর্গফুট জায়গায় সরকারি- বেসরকারি দলের লোকদের দখলে রয়েছে বলে জানালেন বাপার সাধারণ সম্পাদক ডা. আব্দুল মতিন।

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) এবং বাংলাদেশ জাতীয় নদী রক্ষা আন্দোলনের যৌথ উদ্যোগে আমীন বাজার সেতু থেকে উত্তরার ফয়দাবাদ পর্যন্ত পরিদর্শন শেষে এক প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে এ কথা জানান বাপার সাধারণ-সম্পাদক ডা. আব্দুল মতিন।

আজ জাতীয় প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এই তথ্য জানায় ‘বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) ও জাতীয় নদী রক্ষা আন্দোলন’।

প্রতিবেদনের বিষয়বস্তু তুলে ধরে তিনি বলেন, নদী দখল ও দূষণের মোট ১০৯টি স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে দেখা গেছে ৭৭টি (৭০ দশমিক ৬৪ শতাংশ) স্থান ঢাকার আশুলিয়া, মিরপুর ও উত্তরা এলাকায় এবং বাকি ৩২টি (২৯ দশমিক ৩৬ শতাংশ) স্থান নদীর অপর পাড় অর্থাৎ সাভার, জয়দেবপুর এবং টঙ্গী এলাকা।

আর এই ১০৯টি স্থানের মধ্যে দখলও দূষণ অবকাঠামোর মধ্যে রয়েছে ৯৭টি, দূষক বহনকারী বড় ড্রেণ ও স্থাপনা রয়েছে ১২টি এবং বাসা-বাড়ি, কল-কারখানা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বাজার, ভাসমান পল্টুনের ছোট-বড় অসংখ্য ড্রেণ রয়েছে।

বাপার এই প্রতিবেদনে নদীর পানি দূষিত হওয়ার জন্য ওয়াসা, পানি উন্নয়ন বোর্ড, পৌর প্রশাসন এসব সরকারি প্রতষ্ঠিানকেই সবচেয়ে বেশি দায়ী করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও দেখানো হয়েছে যে, তুরাগ নদীর সীমানা চিহ্নিত করার জন্য যে ২ হাজার খুঁটি বসানো হয়েছে এর মধ্যে মাত্র ২৯টি খুঁটি সঠিক স্থানে রয়েছে আর বাকি সবগুলো খুঁটি নদীর সীমানার ভেতরে বসানো হয়েছে।

আশুলিয়া টঙ্গি এসব এলাকার বর্জ পদার্থগুলো ১২টি বড় গেইট দিয়ে তুরাগে প্রবেশ করে নদীকে দূষিত করছে এমন তথ্যও উঠে এসেছে এই প্রতিবেদনে। নদী পরিদর্শনে অনুসৃত দুইটি মৌলিক নীতিমালার উপর ‍ভিত্তি করে এই প্রতিবেদন করা হয়েছে বলে জানান মতিন।

নীতিমালাটি সম্পর্কে তিনি বলেন, ২০০৯ সালে হাইকোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী নদীর জমি বলতে নদীর তলা (শীতকালে যে পর্যন্ত পানি থাকে), নদীর ঢাল (বর্ষাকালে সর্বোচ্চ যে পর্যন্ত পানি থাকে) এবং নদীর পাড় ( প্লাবন ভূমির পর স্থান যার প্রস্থ হবে ৫০ মিটার) আর নদীর পানি ও জমির মধ্যে মানব সৃষ্ট যেকোনো পদার্থের মিশ্রণকেই দূষণ হিসেবে বিবেচেনা করা হয়েছে।

নদী রক্ষায় এ সময় তারা বেশ কয়েকটি দাবি তুলে ধরেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- নদীর পাড়ের মাটি, বালু ও অন্যান্য স্থায়ী–অস্থায়ী স্থাপনাগুলো উচ্ছেদ করতে হবে। সরকারি উদ্যোগে নদীতে সকল বর্জ পদার্থ ফেলা বন্ধ করতে হবে এবং সীমানা নির্ধারণী খুঁটিগুলো সঠিক স্থানে বসাতে হবে।

জেইউ/সাকি