৩৪ বছরে ২ লাখ কোটি টাকা বিদেশে পাচার

0
69
quitybd_Moneyloundarin

Equitybd_Moneyloundaring১৯৭৬ সালের পর থেকে ৩৪ বছরে বাংলাদেশ থেকে প্রায় এক লাখ ৯৭ হাজার ৬০০ কোটি টাকা বিদেশে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ থেকে পাচার হয়ে যাওয়া এ অর্থসম্পদ বা পুঁজি ২০১০ সালে দেশে-বিদেশের ঋণের প্রায় ৯৯ শতাংশ।

যুক্তরাজ্যভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ‘ট্যাক্স জাস্টিস নেটওয়ার্ক’-এর গবেষণায় এসব চিত্র উঠে আসে।

শনিবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে অনলাইন নলেজ সোসাইটি, আলো, ইক্যুইটিবিডিসহ প্রায় ১৫টি সংগঠন আয়োজিত ‘রাজস্ব আয় বৃদ্ধিতে বহুজাতিক কোম্পানির কর ফাঁকির কৌশল রোধ করতে হবে’ শীর্ষক এক সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা এসব কথা জানান।

গ্লোবাল ফিন্যান্স ইনটিগ্রিটি’র ২০১২ সালের বাংলাদেশ সম্পর্কিত প্রতিবেদনে পাওয়া তথ্যে জানা যায়, পাচার করা অর্থ ২০১২-১৩ অর্থবছরে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) মোট রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রার সমান। এই টাকা ৫৫ হাজার কোটি টাকা বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) প্রায় দ্বিগুণ।

এসময় সংবাদ সম্মেলনে ইক্যুইটিবিডি’র আহসানুল করিম বাবর মূলপ্রবন্ধ উপস্থাপন কালে বলেন, যুক্তরাজ্যভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ‘ট্যাক্স জাস্টিস নেটওয়ার্ক’-এর গবেষণায় উঠে আসে যে, ১৯৭৬ সালের পর থেকে ৩৪ বছরে বাংলাদেশ থেকে প্রায় এক লাখ ৯৭ হাজার ৬০০ কোটি টাকা বিদেশে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

সম্মেলনে বক্তারা আরও বলেন, ব্রিটিশ-আমেরিকান টোবাকো কোম্পানি বাংলাদেশ লি. তাদের বিএটিবি ব্রিস্টল ও পাইলট ব্র্যান্ডের  সিগারেটে মূল্যস্তরের অসত্যতা ঘোষণা করে ২০০৯ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত মোট এক হাজার নয়শ ২৪ কোটি টাকা রাজস্ব ফাঁকি দিয়েছে।

এছাড়া, বাংলাদেশের চার সেলফোন অপারেটর তিন হাজার ১০০ কোটি টাকা অপারেটর সিম রিপ্লেসমেন্টের নামে রাজস্ব ফাঁকি দিচ্ছে বলেও জানান বক্তারা।

কর ফাঁকি রোধের উপায় প্রসঙ্গে বক্তারা বলেন,  তথ্য আদান-প্রদানের ক্ষেত্রে আন্তঃদেশীয় চুক্তি সম্পাদন করা যেতে পারে। রাজস্ব ফাঁকি দিতে ব্যবসা ও কর্মস্থলে নগদ অর্থের ব্যবহার বা লেনদেন বন্ধ করা যেতে পারে।

ডেভেলপমেন্ট সিনার্জি ইনস্টিটিউটের প্রধান নির্বাহী মনোয়ার মোস্তফা বলেন, কর ফাঁকি রোধ করা সম্ভব হলে এ দেশের জিডিপির প্রবৃদ্ধি আরও বৃদ্ধি পাবে।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ইক্যুইটিবিডি’র সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আমিনুল হক, ইক্যুইটিবিডির চিফ মডারেটরের রেজাউল করীম চৌধুরী প্রমুখ।

এমআর