চুল রপ্তানিতে নতুন সম্ভাবনা

0
133

selling-hair-for-money-500x375নারীদের চুল রপ্তানি বাড়ছে। নারীদের মাথা থেকে ঝরে পড়া চুল রপ্তানিতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে। সম্ভাবনাময় এ শিল্পের প্রসারতায় গ্রামাঞ্চলের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা এগিয়ে আসছেন। যেখানে বহু গরিব নারীর কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপবি) বলছে, চলতি অর্থবছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে অর্থাৎ জুলাই থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত সময়ে চুল রপ্তানি হয়েছে ৬৫ লাখ ৭০ হাজার মার্কিন ডলার। যা গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ২৬ দশমিক ৫৯ শতাংশ বেশি। গত অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ৫১ লাখ ৯০ হাজার মার্কিন ডলার।

এর আগের মাস তথা ডিসেম্বরে চুল রপ্তানি হয়েছিল ৫৫ লাখ ৬০ হাজার মার্কিন ডলার। যা গত অর্থবছরের একই সময়ে রপ্তানি হয় ৪৩ লাখ ৫০ হাজার মার্কিন ডলার। আর চলতি বছরের নভেম্বরে ৪৭ লাখ ৩০ হাজার, অক্টোবরে ৩৮ লাখ ৪০ হাজার ও সেপ্টেম্বরে ৩১ লাখ ৮০ হাজার মার্কিন ডলার রপ্তানি হয়েছে।

দেশের গ্রাম-গঞ্জে চুলের ব্যবসা ধীরে ধীরে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। এখন আর নারীরা চুল আচড়ানোর পরে ফেলে দেন না। যত্ন করে চুল গুছিয়ে রাখেন বিক্রির জন্য। আর তাই গ্রামের ফেরিওয়ালারা চুল কেনাকে আরও বেশি প্রাধান্য দিচ্ছেন এখন। তারা বাড়িতে বাড়িতে ঘুরে চুল কিনছেন।এ জন্য দেশের বহু স্থানে চুলের ব্যবসা কেন্দ্র গড়ে উঠেছে।

সাতক্ষীরা, যশোর, খুলনা, ঝিনাইদহ, কুষ্টিয়া, চুয়াডঙ্গা, মেহেরপুর, নড়াইল, রাজশাহী, নওগা, চট্টগ্রাম, সৈয়দপুর, রংপুর, ময়মনসিংহ, কক্সবাজার, সিলেটসহ বিভিন্ন স্থানে চুল কেনাবেচা কেন্দ্র গড়ে উঠেছে। যা ভারত, মায়ানমার, চিন, জাপান কোরিয়ায় রপ্তানি হয়।

কথা হয়, যশোর মনিরামপুরের চুল ব্যবসায়ী গোলাম মোস্তফা সঙ্গে। তিনি জানান, দেশে চুলের ব্যবসা দিন দিন জনপ্রিয় হচ্ছে। বিশেষ করে গ্রাম্য এলাকার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও হকাররা এই চুল কিনছেন।

তিনি জানান, শুধু চুল কেনাবেচার জন্য নওগাঁতে একটা হাট বসেছে। যেখানে চিন থেকে ক্রেতারা আসেন চুল কিনতে। এই চুল গ্রামের হকাররা ব্যবসায়ীদের নিকট কেজিপ্রতি দেড় থেকে দুই হাজার টাকা দামে বিক্রি করে। যা ব্যবসায়ীরা ৪ থেকে ৯ হাজার টাকা কেজি পর্যন্ত বিক্রি করে বলে জানান তিনি।

এই চুল বিমান পথে বেশির ভাগই রপ্তানি হয়। তবে স্থল বন্দর দিয়েও রপ্তানি হয়ে থাকে। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশি চুলের ভালো চাহিদা রয়েছে। চিনারা এই চুল দিয়ে বিভিন্ন ফ্যাশনের পরচুলা তৈরি করছেন। ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ভালো চাহিদা তৈরি করছে বলে জানান তিনি।

বাংলাদেশে প্রতিমাসে ১০ হাজার কেজির বেশি চুল বেচা-কেনা হয়। তবে সরকারি সহায়তা পেলে চুল ব্যবসার প্রসারতা বাড়ানো যেতো বলে মনে করেন তিনি।

জানা যায়, ব্যবসায়ীরা চুল সংগ্রহ করে বাছাই করে। এরপর তাতে তেল মাখিয়ে চুলের উজ্জলতা বৃদ্ধি করে। চুলের দৈর্ঘ্য অনুযায়ী তিনটি লেবেল করে গ্রেড নির্ধারণ করা হয়। এই চুল বাছাই প্রত্রিয়াসহ বিভিন্ন ধাপে নারীদের অংশগ্রহণ বেশি হয়। তাতে এখানে অনেকের কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হচ্ছে।

তবে চুলের ব্যবসায় জড়িতরা বলছেন, চুল ব্যবসায় সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে দেশের রপ্তানি খাতে এর প্রসারতা বাড়তো বলে মনে করেন তারা। তাছাড়া বহু গ্রাম্য নারীর কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে বলেও মনে করেন তারা।