শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় দু:খ প্রকাশ রাবি প্রশাসনের

0
56
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

ruগত ২ ফেব্রুয়ারি বর্ধিত ফি ও সান্ধ্যকোর্স বাতিলের দাবিতে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় ভুল শিকার করে দু:খ প্রকাশ করেছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। ঘটনার প্রায় এক মাস পর হলেও শনিবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তর থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে অবশেষে এই দু:খ প্রকাশ করা হয়েছে।

জনসংযোগ দপ্তরের প্রশাসক অধ্যাপক ইলিয়াছ হোসেন স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২ ফেব্রুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ঘটে যাওয়া সম্পূর্ণ অনভিপ্রেত ও দুঃখজনক ঘটনায় পুরো বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার মর্মাহত। আমরা বিষয়টি সমাধানের জন্য আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের সাথে কয়েক দফা বৈঠক করেছি। বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম এবং তাতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে প্রশাসন আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

তবে ঘটনার পর থেকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের একটি রাজনৈতিক মহলের আন্দোলন বলে আসলেও শনিবারের ওই সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আন্দোলনটিকে ‘সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীদের’ বলে উল্লেখ করা হয়।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে অধ্যাপক ইলিয়াস হোসেন আরও বলেন, সাধারণ শিক্ষার্থীদের দাবির প্রেক্ষিতে আন্দোলন চলাকালীন সময়েই প্রশাসন বর্ধিত ফি প্রত্যাহারের ঘোষণা করা হয়েছে। সান্ধ্যকোর্স বাতিলের যে দাবি উঠানো হয়েছে তা বিশ্ববিদ্যালয় একতরফাভাবে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারবে না।

ফেইসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে নানা ধরনের মিথ্যা, বানোয়াট ও উস্কানিমূলক তথ্য ও বক্তব্য প্রচারের দ্বারা সাধারণ শিক্ষার্থীদের বিভ্রান্ত করা হচ্ছে দাবি করে তিনি বলেন, একটি বিশেষ মহলের রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়নের হীন অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে। তাদেরকে অবিলম্বে সংযত হওয়ার আহ্বান জানানো যাচ্ছে, অন্যাথায় তাদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বাধ্য হবে।

এদিকে গত শুক্রবার আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা সংবাদ সম্মলনে ক্যাম্পাস খুলে দেওয়ার স্বার্থে সান্ধ্যকোর্স আপাতত বাতিল না করে স্থগিত করার দাবি জানিয়েছিল। গত বুধবার ও বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সাথে বৈঠক হয় উল্লেখ করে সংবাদ সম্মলনে বলা হয়, বৈঠকে শিক্ষার্থীদের মতামতের কোন সমাধান মেলেনি।

এই প্রসঙ্গে রাবি উপাচার্য অধ্যাপক মুহম্মদ মিজানউদ্দিন বলেন, আমরা সকল মহলের সাথে আলোচনা শুরু করেছি। আশা করে এই সপ্তাহে একটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারবো।

উল্লেখ্য, গত ২ ফেব্রুয়ারি বর্ধিত ফি ও সান্ধ্যকোর্স বাতিলের দাবিতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে পুলিশ ও ছাত্রলীগ হামলা চালায়। ওই হামলায় অর্ধশত ছাত্র আহত হয়। মামলা হয় ছয়টি। ঘটনার পরের দিন থেকে ক্যাম্পাস অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়।

সাকি/