‘রিজার্ভ বাড়ালেই হবে না তা কাজে লাগাতে হবে’

0
62
monirujjaman

monirujjamanশুধু বৈদেশিক মুদ্রার ‘রিজার্ভ বাড়ালেই হবে না তা কাজে লাগাতে হবে’ এমন মন্তব্য করেছেন সাবেক অর্থসচিব এম মনিরুজ্জামান। এ সময় টাকা বিনিয়োগ না করলে রিজার্ভ বাড়বে উল্লেখ করে তিনি বলেন, রিজার্ভের পরিমাণ বেড়ে যাওয়াটা এক সময় দেশের জন্য ক্ষতির কারণ হতে পারে। রিজার্ভ বিনিয়োগ করে কর্মসংস্থান না বাড়ালে একসময় তা বিষফোঁড়া হয়ে দাঁড়াবে।

শনিবার দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে ‘রেকর্ড পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ: অর্থনীতিতে প্রভাব’ শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এমন মন্তব্য করেন। বাংলাদেশ যুব অর্থনীতিবিদ ফোরাম এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

মনিরুজ্জামান বলেন, রিজার্ভ বেড়েছে কিন্তু কিভাবে বেড়েছে কেউ তা স্পষ্ট করছে না। এ সময় বাড়তি রিজার্ভের টাকা আমদানি ও বিনিয়োগ এই দুটো কাজে লাগানোর পরামর্শ দেন তিনি। অন্যথায় এই রিজার্ভ এক সময় দেশের অর্থনীতিতে বড় ধরনের হুমকি বয়ে আনতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি বলেন, বর্তমানে দেশে জিডিপির ১৬ শতাংশ বিনিয়োগ হয়ে থাকে। কিন্তু এই পরিমাণ বিনিয়োগ দিয়ে ৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করা কখনই সম্ভব নয়। এটা সম্পূর্ণভাবে অবান্তর চিন্তাভাবনা। ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হতে হলে আমাদেরকে প্রতিবছর ৮ থেকে ৯ শতাংশ হারে জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে হবে। এজন্য বিনিয়োগ হতে হবে জিডিপির কমপক্ষে ৩০ থেকে ৩২ শতাংশ।

রিজার্ভ দিয়ে বিদেশ থেকে কি ধরনের পণ্য আমদানি বা কোন কোন খাতে বিনিয়োগ করা যেতে পারে এমন প্রশ্নের জবাবে সাবেক এই অর্থসচিব বলেন, বাইরে থেকে আমরা রিজার্ভের অর্থ দিয়ে প্রযুক্তিভিত্তিক যন্ত্রপাতি, বিভিন্ন ধরনের শিল্প কাঁচামালসহ মুনাফাভিত্তিক পণ্য আমদানি করতে পারি। বিনিয়োগের মাধ্যমে দেশে শিল্পের প্রসার ঘটাতে পারি। এতে ব্যাপকভাবে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং বেকারত্ব কমবে। এভাবে শিল্পায়নের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিকে সচল করা যাবে।

এদিকে, ইউনূস প্রসঙ্গে মনিরুজ্জামান বলেন, অর্থনীতি এবং রিজার্ভ সম্পর্কে ড. মুহাম্মদ ইউনুস কি বুঝাতে চেয়েছেন তা বাংলাদেশ না বুঝলেও উন্নত দেশগুলো ঠিকই বুঝতে পেরেছে। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ তুলে ধরেন যুব অর্থনীতিবিদ ফোরামের প্রেসিডেন্ট মির্জা ওয়ালিদ হোসেন।

এ সময় ওয়ালিদ হোসেন উল্লেখ করেন, গেল জানুয়ারির শেষের দিকে ব্যাংক খাতে আমানতে পরিমাণ বেড়ে হয়েছে ১৬ দশমিক ৪৬ শতাংশ। অন্যদিকে ঋণের পরিমাণ বেড়েছে মাত্র ৭ দশমিক ৭৩ শতাংশ। এ অবস্থায় ব্যাংক সুদের হার যেভাবে বাড়ছে কিন্তু সে পরিমাণ মুনাফা বাড়ছে না। কারণ ঋণের পরিমাণ কমে এসেছে।

এ প্রেক্ষিতে তিনি বলেন, কোনো একটি দেশে যদি ক্রমাগতহারে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বাড়ে কিন্তু সে হারে যদি বিনিয়োগ না বাড়ে তাহলে সে দেশের অর্থনীতিতে একটা স্থবিরতা তৈরি হয়। আর এটা যদি দীর্ঘ সময়ে চলতে থাকে তাহলে সেটা বিরাট ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

এদিকে, মেজর জেনারেল (অব.) আমীনও একই অবস্থান থেকে তার বক্তব্য তুলে ধরেন। এতে তিনি রিজার্ভ দিয়ে কি করা যায় সে দিকে গুরুত্ব দেন। এ প্রেক্ষিতে তিনি প্রযুক্তি খাতকে শক্তিশালী করারে জন্য আমদানির উপর গুরুত্ব দেন। এছাড়া শিল্পভিত্তিক কাঁচামাল আমদানিসহ সমুদ্র গবেষণা খাতে ব্যয় বাড়ানোর উপর জোর দেন।

অনুষ্টানে বক্তারা ক্ষুদ্র ঋণ প্রকল্প বিশেষ করে গ্রামীণ ও ব্রাক ব্যাংক সম্পর্কে বলেন, এসব ব্যাংক যদি তাদের ঋণের পরিমাণ ৫-১০ হাজারে সীমাবদ্ধ না রেখে তা ৫০ হাজার কিংবা ১ লাখে উন্নীত করে তাহলে সেই অর্থকে দরিদ্র জনগোষ্ঠী ভাল কাজে লাগিয়ে তাদের জীবনযাত্রার মান বাড়াতে পারেন।

এ সময় অন্যদের মধ্যে অনুষ্ঠানে সাংবাদিক ও কলামিস্ট সাদেক খান, কুষ্টিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. এমতাজ হোসেন, বাংলাদেশ প্রজন্ম একাডেমির সভাপতি ওয়ালিউর রহমান, অর্থনীতিবিদ শহিদুর রহমানসহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

জেইউ