লাকসামে রেললাইনে সবজির হাট

0
35
luksam

luksamলাকসাম পৌরশহরের দৌলতগঞ্জ বাজারের ওপর দিয়ে বয়ে গেছে লাকসাম-নোয়াখালী রেললাইন। এই রেললাইনের ওপরে বসে তরি-তরকারির বিক্রি করছে এক শ্রেণির ব্যবসায়ীরা। এছাড়া, ওই রেলপথ ঘেঁষে গড়ে উঠেছে অসংখ্য অবৈধ স্থাপনা। ফলে প্রায় সময়ই এই পথে দুর্ঘটনা ঘটছে।

লাকসাম রেলওয়ে থানা সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ১৭ আগষ্ট দৌলতগঞ্জ বাজারের রেলগেইট এলাকায় নোয়াখালী থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী আন্তঃনগর উপকূল এক্সপ্রেস ট্রেনের ধাক্কায় ঘটনাস্থলে মারা যান চানাচুর বিক্রেতা সুধীর রঞ্জন সাহা (৫০)। একই বছর ৩১মে একই স্থানে ট্রেনের ধাক্কায় মারা যান ফল ব্যবসায়ী মো. আবুল কালাম (৫০)।

রেলওয়ের এক কর্মচারি জানায়, রেললাইনের ওপর তরি-তরকারি ও মাছ বিক্রেতারা নিয়মিত পানি ফেলায় রেললাইনের স্লিপারগুলো নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। তাছাড়া, রেললাইনের ওপর বাজার বসায় রেলপথের প্রায় ২ হাজার ৫০০ গজ জায়গা জুড়ে কোনো পাথর নেই। ফলে অত্যন্ত ঝুঁকি নিয়ে ট্রেন চলাচল করছে। এতে যেকোন সময় বড় ধরণের ট্রেন দুর্ঘটনার আশংকা রয়েছে।

লাকসাম রেলওয়ে জংশন সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ২৫মে যোগাযোগমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের ট্রেনে করে নোয়াখালী যান। ওই সময়  দৌলতগঞ্জ বাজারে লাকসাম-নোয়াখালী রেলপথের আশ-পাশে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে প্রায় শতাধিক অবৈধ স্থাপনা ভেঙ্গে দেন। কিন্তু কয়েকদিন যেতে না যেতেই আবার তৎপর হয়ে উঠে অবৈধ দখলদাররা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক দোকানদার জানায়, এখানে স্থাপনা তুলে ব্যবসা করতে রাজনৈতিক নেতা এবং রেলওয়ের কতিপয় লোকদের টাকা দিতে হয়েছে। তাঁরা দোকানদারদের কাছ থেকে জনপ্রতি ২-১০ হাজার টাকা নিয়েছেন। এছাড়া, প্রতিদিন পৌরসভার ইজারাদারদের খাজনাও দিচ্ছি। কাকে টাকা দিতে হয়েছে জানতে চাইলে উচ্ছেদের ভয়ে তাদের নাম বলতে ওই দোকানদারেরা অপারগতা জানান।

খাজনা আদায় সম্পর্কে ইজারাদার রবিউল হোসেন বলেন, শহরের দৌলতগঞ্জ বাজারের নোয়াখালী রেল গেইট হতে কবুতর বাজার এবং ব্যাংক রোড পর্যন্ত তারা কয়েকজন মিলে পৌরসভার কাছ থেকে ১৪ লাখ ৫৯ হাজার টাকায় ইজারা নিয়েছেন। তাই তারা খাজনা আদায় করছেন।

রেলওয়ের লাকসাম ভূমি কার্যালয়ের কানুন-গো মো. আবদুল হালিম ভূঁইয়া অর্থসূচককে বলেন, রেলওয়ের জায়গায় অবৈধ দখলদারদের অনেকবার উচ্ছেদ করা হয়েছে। অনেকের বিরুদ্ধে মামলাও হয়েছে। কিন্তু রাজনৈতিক তদবিরের কারণে আমরা কিছুই করতে পারি না। রেলওয়ের জায়গা কিংবা রেললাইন ইজারা দেওয়ার এখতেয়ার পৌর কর্তৃপক্ষের নেই। এটি সম্পূর্ণ অবৈধ।

রেলওয়ের কতিপয় কর্মচারির বিরুদ্ধে অবৈধ দখলদারদের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে তিনি আরও বলেন, এই ব্যাপারে তিনি কিছু জানেন না। তবে বিষয়টি খতিয়ে দেখবেন।

লাকসাম পৌরসভার মেয়র মো. মফিজুর রহমান এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, রেললাইন বা রেলওয়ের জায়গা তিনি ইজারা দেননি। রেললাইন ও আশপাশের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে পৌরসভার খাজনা আদায় সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, পৌর এলাকার যেকোনো স্থানে ব্যবসা করলে নিয়ম অনুযায়ী পৌরসভাকে খাজনা দিতে হবে।