দিনাজপুরে রেকর্ড পরিমাণ লিচু ফলনের আশা কৃষকদের

0
60

Lichuমধু মাসের অন্যতম ফল লিচু। আর লিচুর জেলা হিসেবে পরিচিত দিনাজপুর। কদিন বাদেই আসবে মধুমাস। তাই এখন দিনাজপুরের প্রতিটি বাড়ির বসতভিটায় বা আঙ্গিনার লিচু গাছে মুকুল আসতে শুরু করেছে। মুকুলের সঙ্গে ফুলে ফুলে মৌমাছির গুঞ্জন আর ঝিঁ ঝিঁ পোকার ঝিঁ ঝিঁ শব্দে এলাকা মুখরিত হয়ে উঠেছে।

দিনাজপুরের লিচুর মধ্যে চায়না থ্রি, বেদেনা, বোম্বাই ও মাদ্রাজি উল্লেখযোগ্য। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে কারণে এবার সকল প্রজাতির লিচুর বাম্পার ফলনের আশা করছে চাষিরা।

জেলার লিচু চাষিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রতিবছর দিনাজপুরের লিচু দেশের বিভিন্ন জেলা-উপজেলায় সরবরাহ করা হয়ে থাকে।

দিনাজপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সূত্রমতে, গত ২০০৯ সালে দিনাজপুরে লিচু চাষের জমির পরিমাণ ছিল এক হাজার ৫০০ হেক্টর। ২০১০ সালে তা এসে দাঁড়ায় এক হাজার ৭৮০ হেক্টরে, ২০১১ সালে এক হাজার ৯৫৬ হেক্টর এবং ২০১২ সালে ২ হাজার ৫০০ হেক্টর। এরপর থেকে প্রতিবছর লিচুর ফলন ভালো হলেও চাষের জন্য কোন জমির পরিমাণ বাড়েনি।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আনোয়ারুল আলম জানান, চলতি বছর দিনাজপুর জেলায় দুই হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে লিচু চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, লিচু বাগানগুলোতে ফুল আসা থেকে লিচু আরোহণ পর্যন্ত ৩-৪ মাস লিচু বাগানের সঙ্গে সম্পৃক্তদের কর্মব্যস্ততা বেড়ে যায়। ফুল আসার ১৫ দিন আগে এবং ফুল আসার ১৫ দিন পরে সেচ দিতে হয়। সেই অনুযায়ী গাছে মুকুল আসার সঙ্গে সঙ্গেই মুকুলকে টিকিয়ে রাখতে লিচু চাষি ও ব্যবসায়ীরা স্প্রে করে চলেছে। এছাড়াও মুকুল যাতে ঝড়ে না পড়ে সেজন্য গাছের গোড়ায় নিয়মিত পানি ও সার দিয়ে যাচ্ছে।

দিনাজপুরের যেসব স্থানে লিচু চাষ হয় তার মধ্যে বিরলের মাধববাটী ও সদরের মাসিমপুর উল্লেখযোগ্য। বিরল উপজেলার মাধববাটী দিনাজপুর সদর থেকে প্রায় ৯ কিলোমিটার পশ্চিমে এবং মাসিমপুর  সদর উপজেলা থেকে প্রায় ২ কিলোমিটার পূর্ব দিকে অবস্থিত।

লিচু চাষি বাবু জানান, লিচুর মুকুল আসার ১৫ দিন আগে থেকেই  শুরু করে দিতে হয় পরিচর্যা। নিয়মিত স্প্রে ও সেচ দেওয়া শুরু হয়েছে। লিচু গাছ গুলোতে মুকুল আসতেই রাজশাহী, রংপুর, চট্টগ্রাম, ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকার লিচু ব্যবসায়ীরা আসতে শুরু করেছেন। তারা আগাম লিচু বাগান ক্রয় করছেন।

দিনাজপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা সাফয়েত হোসেন জানান, কৃষি কর্মকর্তারা চাষিদের নিয়মিত পরামর্শ দিয়ে আসছে। কোন সময়ে কোন কীটনাশক, বালাইনাশক ব্যবহার করা উচিত সে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।