শেষ হলো একুশে গ্রন্থমেলা

0
62
boi mela

OLYMPUS DIGITAL CAMERAভাষা শহিদদের স্মৃতি গাঁথা মাসব্যাপী অমর একুশে গ্রন্থমেলা আজ শুক্রবার শেষ হয়েছে। রাত ৯টা বাজার সাথে সাথে নিভে যায় এবারের বইমেলার সকল স্টলের বাতি। হৈ-হুল্লোর, আনন্দ উচ্ছ্বাস, আড্ডা, বই দেখা, বই কেনা, কবি-লেখকদের অটোগ্রাফ, সময়কে স্মৃতি করে রাখতে ছবি তোলা নানা কর্মকাণ্ডের মধ্যদিয়ে এই মেলা শেষ হয়েছে।

যেতে দিতে না চাইলেও সময় তার স্বাভাবিক নিয়মেই চলে । যার শুরু আছে তার শেষও আছে তাই এর ধারাবাহিকতায় আজ শেষ হলো ভাষা আন্দোলনের স্মৃতির ধারক এই বই মেলা। মেলা শেষ হয়ে যাওয়া বই প্রেমী মানুষগুলোর যেন আক্ষেপের অন্ত নেই।

আবেগ-উচ্ছ্বাস আর ভালোবাসায় ফেব্রুয়ারি মাস জুড়ে মেলা প্রাঙ্গণে ছিল প্রাণচাঞ্চল্যে ভরা বইপ্রেমী মানুষের সরব উপস্থিতি। লেখক-প্রকাশক-শিশু-কিশোরসহ সর্বস্তরের মানুষের স্পন্দিত অংশগ্রহণ অমর একুশে গ্রন্থমেলার সকল আয়োজনকে স্বার্থক করেছে। পহেলা ফাল্গুন আর ভালোবাসা দিবসে মানুষের রঙিন উষ্ণতায় গ্রন্থমেলা প্রাঙ্গণ সেজেছিল বর্ণিল সাজে। বইকে কেন্দ্র করে এই মেলার আয়োজন আজ সাংস্কৃতিক নানা অনুষঙ্গের মিশ্রণে রূপান্তরিত হয়েছে এক মিলন মেলায়। দীর্ঘ আয়োজনের অভিজ্ঞতাকে পুঁজি করে এবার গ্রন্থমেলার পরিসর সম্প্রসারণ করা হয় সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে। প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানের ক্রমশ সংখ্যাবৃদ্ধি, সর্বোপরি সময়ের চাহিদার ফলে বিপণনের মাধ্যমে পাঠকের হাতে বই তুলে দেওয়া সহজতর করার লক্ষ্যে এই সম্প্রসারণ। তৎকালীন রেসকোর্স ময়দান বর্তমানের সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বঙ্গবন্ধুর বজ্রকণ্ঠের স্বাধীনতা ও মুক্তিসংগ্রামের দৃপ্ত উচ্চারণ এখনও অনুরণিত হয়। বাঙালির ঐতিহাসিক ঘটনার সাক্ষী এই উদ্যানে এবারের গ্রন্থমেলা যুক্ত হওয়ায় নতুন মাত্রা পেল।

নানা আনুষ্ঠানিকতা আর নতুন বইয়ের ঘ্রাণে বাংলা একাডেমি ও সোহরাওয়ার্দী প্রাঙ্গণ ছিল সজ্জিত। হাজারো পাঠক-লেখকের পদচারণায় মুখরিত ছিল এ মেলা প্রাঙ্গণ। আগামি ১১টা মাস বাংলা একাডেমির প্রাঙ্গণে বাজবে না আর পাঠক-লেখকের পদবাজনা। পাঠক, প্রকাশক, লেখকদের প্রাণের মিলন মেলা আজ রাত ৯টায় শেষ হয়ে গেল।

আজকে মেলার শেষ দিন হওয়ায় শেষবারের মতো একটু হলেও ঢুঁ মেরে গেল সবাই। মানুষের পদচারণা এমনই ছিল যে পা ফেলার জায়গা ছিল না।

এবারের মেলা ছিল এক অগোছালো ও প্রস্তুতির মেলা। হঠাৎ সোহরাওয়ার্দীতে মেলা হওয়ায় তেমনভাবে গুছিয়ে উঠতে পারেনি বাংলা একাডেমি। বাংলা একাডেমির অনেক স্টল বন্ধরেখেই চালু করেছে মেলা। এ নিয়েও রয়েছে অনেকের আপত্তি। মেলার মিডিয়া সেন্টারে ওয়াইফাই সংযোগ দেওয়ার কথা থাকলে দেওয়া হয়নি।

মেলা নিয়ে প্রতি সপ্তাহে সংবাদ সম্মেলন করার কথা থাকলেও মেলা চলার পর একটি সংবাদ সম্মেলন করা হয়।

এ রকম নানা অসংঙ্গতির মধ্য দিয়েই মেলা শেষ হলো। তবে কর্তৃপক্ষের প্রত্যাশা এ বছরের সকল ভুল-ভ্রান্তি থেকে সংশোধিত হয়ে আগামি বছর এর চেয়ে ভালো করার।

বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান বলেন, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে যাওয়ায় এবারের বই মেলা অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে অনেক ভালো হয়েছে। অনেকে হয়তো বলেছিল সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মেলা করা ঠিক হয় নাই।

তিনি বলেন, এ বছর সোহরাওয়ার্দীতে মেলা হওয়ায় সবাই স্বাচ্ছন্দে বই কিনতে পারছে। ১৪ ফেব্রুয়ারি ও একুশে ফেব্রুয়ারি যে পরিমাণ লোক হয়েছিল বাংলা একাডেমিতে হলে যেকোনো দুর্ঘটনা ঘটতে পারতো। সোহরাওয়ার্দীতে হওয়ায় এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেনি। তবে মহাপরিচালক আগামি বছরের মেলা এর চেয়ে অনেক ভালো হবে বলে জানান।

বিশিষ্ট লেখক আনিসুল হক বলেন, প্রতিদিনের মতো মেলায় আসার পর যখন মনে পড়ল আজ ফেব্রুয়ারি মাসের শেষ দিন তখন থেকে মনটা খুব খারাপ লাগছে। পাঠক লেখক প্রাণ কেন্দ্র হল বই মেলা।

তিনি বলেন, শুভ কামনা রইল সকল পাঠকদের, আগামি বছর মেলা অনেক সুন্দর, নান্দনিক হোক এ প্রত্যাশা।

বাংলাদেশ জ্ঞান ও সৃজনশীল প্রকাশক সমিতির সভাপতি ও আগামি প্রকাশনির স্বত্বাধিকারী ওসমান গনি বলেন, মেলার সার্বিক অবস্থা অনেক ভালো হয়েছে। এবারের মেলা সোহরাওয়ার্দীতে হওয়ায় আরো ভালো হয়েছে। এ উদ্যান বঙ্গবন্ধ শেখ মজিবুর রহমানের অগ্নিঝড়া ভাষণ দিয়েছিলেন। ভাষার চেতনা ও স্বাধীনতার গর্ব এ দুয়ে মিলে মেলা করেছে প্রাণবন্ত।

তিনি বলেন, আমাদের প্রকাশকরা গত বারের চেয়ে বেচা-বিক্রি ভালো করেছে। আগামি বছর মেলা অনেক সুন্দর ও নান্দনিক হবে।

এসএস/ এআর