রাবি প্রশাসনের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের বৈঠক, সান্ধ্যকোর্স নিয়ে সিদ্ধান্ত হয়নি

0
44
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

ruরাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের হামলার পর অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দেওয়া ক্যাম্পাস খোলাসহ বিভিন্ন দাবির বিষয়ে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বৈঠক শেষ হয়েছে। এ উভয় পক্ষই ক্যাম্পাস দ্রুত খুলে দেওয়ার ব্যাপারে একমত হলেও চালুকৃত সান্ধ্য কোর্সের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি। তবে এ আলোচনা অব্যাহত থাকবে বলে জানা গেছে।

গত বুধবার ও বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় দুই দফায় প্রায় পাঁচ ঘণ্টা আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, উপ-উপাচার্যসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এ বৈঠকে আলোচনার বিষয় নিয়ে বিস্তারিত জানাতে আন্দোলনাকারী শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে শুক্রবার বিকেল ৪টায় রাজশাহী মহানগরীর মিয়াপাড়া সাধারণ গ্রন্থাগারে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকার কারণে সামগ্রিকভাবে শিক্ষার পরিবেশ বিঘ্নিত হচ্ছে। এছাড়াও রাজশাহী শহরের সামাজিক-অর্থনৈতিক ও অন্যান্য কর্মকাণ্ড স্থবির হয়ে পড়েছে। এমতাবস্থায় শিক্ষার স্বাভাবিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখতেই প্রশাসের সঙ্গে দুদিন ব্যাপী প্রায় পাঁচঘণ্টা আলোচনা করা হয়।

আলোচনায় শিক্ষক-ছাত্র সম্পর্ক উন্নয়নে পরিবেশ পরিষদ গঠন করে বিশ্ববিদ্যালয়ের গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিশ্চিতের জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে আহ্বান জানানো হয়। কিন্তু আন্দোলনকারীদের মূল দাবি, সান্ধ্যকোর্স চালুর ব্যাপারে প্রশাসন অনড় অবস্থানে থাকেন। সান্ধ্যকোর্স বিষয়ে কোনো ঐক্যমতে পৌঁছাতে না পারায় সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া সম্ভব হয়নি।

সংবাদ সম্মেলন থেকে ক্যাম্পাস খুলে দেওয়া ও আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের নামে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে বলা হয়, ক্যাম্পাস খোলার বিষয়ে যে সংকট তৈরি হয়েছে তার দায়ভার বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের। ক্যাম্পাস খুলে দেওয়ার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্যের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয় সংবাদ সম্মেলনে। দাবি মানা না হলে ক্যাম্পাস খোলার পর আবারও আন্দোলন চালিয়ে যেতে চায় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।

এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মুহম্মদ মিজানউদ্দিন জানান, অনেক বিষয় নিয়েই আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। কিছু বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছা সম্ভব হয়েছে, কিছু বিষয়ে হয়নি। তবে চেষ্টা করা হচ্ছে যত দ্রুত সম্ভব ক্যাম্পাস খুলে দেওয়ার। যেসব বিষয় নিয়ে ঐকমত্যে পৌঁছা সম্ভব হয়নি, সেগুলো নিয়ে আলোচনা অব্যাহত থাকবে।

সান্ধ্যকোর্সের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এটি আমার একার বিষয় নয়। অ্যাকাডেমিক কাউন্সিল, সিন্ডিকেটের মাধ্যমে সবার সঙ্গে আলোচনা করে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।’

উল্লেখ্য, বর্ধিত ফি প্রত্যাহার ও সান্ধ্যকোর্স বাতিলের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর গত ২ ফেব্রুয়ারি হামলা চালায় ছাত্রলীগ ও পুলিশ। দফায় দফায় ওই হামলায় বেশ কয়েকজন রাবার বুলেট বিদ্ধসহ আহত হন শতাধিক শিক্ষার্থী। ঘটনার পরের দিন থেকে অনিদিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

সাকি/