সাত মাসে ঘাটতি ১০ হাজার কোটি টাকা : শঙ্কায় এনবিআর

0
60
NBR_Taka

NBR_Taka১ লাখ ৩৬ হাজার ৯০ কোটি টাকার বিশাল লক্ষ্যমাত্রাকে সামনে রেখে ২০১৩-১৪ অর্থবছর শুরু করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। কিন্তু দেশের চলমান অর্থনৈতিক সংকট ও রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে রাজস্ব আদায়ে বড় ধরনের ধাক্কা খায় প্রতিষ্ঠানটি। বিশাল লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে প্রথম সাত মাসে (জুলাই-জানুয়ারি) রাজস্ব ঘাটতি  প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা। ক্রমবর্ধমানভাবে বেড়ে চলা এই ঘাটতির সমন্বয় নিয়ে  উদ্বিগ্ন প্রতিষ্ঠানটির শীর্ষ কর্মকর্তারা।

এনবিআর সূত্র জানায়, ২০১৩-১৪ অর্থবছরে প্রথম সাত মাসে (জুলাই-জানুয়ারি) ৬৯ হাজার ৩০৬ কোটি টাকা লক্ষ্যমাত্রা বিপরীতে আদায় হয়েছে ৫৯ হাজার ৫৪৫ কোটি  টাকা। যেখানে ঘাটতি রয়েছে ৯ হাজার ৭৬১ কোটি টাকা। তবে গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ৪ হাজার ৬৫৮ কোটি টাকা বেশি হওয়ায় এখন পর্যন্ত প্রবৃদ্ধি রয়েছে ৯.৯৬ শতাংশ।

সূত্র আরও জানায়, এনবিআরের রাজস্ব আদায়ের চারটি উৎস আয়কর, মূসক, শুল্ক ও অন্যান্য কর খাত। বছরের প্রথম সাত মাসে প্রত্যেকটি খাতেই রয়েছে লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় বিশাল অংকের ঘাটতি। এরমধ্যে আয়কর খাতেই লক্ষ্যমাত্রা থেকে ৪ হাজার ১৮৮ কোটি টাকা পিছিয়ে এনবিআর। এসময়ে ২২ হাজার ৪৮৯ কোটি টাকার লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আদায় হয়েছে ১৮ হাজার ৪৩১ কোটি টাকা। আর আমদানি-রপ্তানি পর্যায়ের কর শুল্ক খাতে ২০ হাজার ৯৫৭ কোটি টাকার বিপরীতে আদায় হয়েছে ১৮ হাজার ৩৫১ কোটি টাকা। এখাতে মোট ঘাটতি ২ হাজার ৬০৬ কোটি টাকা।

মূল্য সংযোজন কর (মূসক) খাতে ২৫ হাজার ১২৭ কোটি টাকার বিপরীতে আদায় হয়েছে ২২ হাজার ৫০৭ কোটি টাকা ও অন্যান্য কর খাতে ৩৪০ কোটি টাকা আদায় হয়েছে। এখাতে ঘাটতি ২ হাজার ৫১০ কোটি টাকা। আর ভ্রমণ ও অন্যান্য খাতে ৭৩৩ কোটি লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আদায় হয়েছে মাত্র ৩৫৩ কোটি টাকা। এখাতে ঘাটতিও আদায়ের চেয়ে অনেক বেশি ৩৮০ কোটি টাকা।

এদিকে রাজস্ব আদায়ে ক্রমাগত ঘাটতির কারণে বাজেটের বিশাল লক্ষ্যমাত্রা পূরণে শঙ্কায় পড়েছে এনবিআরের কর্মকর্তারা। বছরের প্রথম ছয় মাসে সাড়ে আট হাজার কোটি টাকা ঘাটতি থাকলেও জানুয়ারি মাসে ঘাটতি না হওয়ার আশা করছিলেন তারা। কিন্তু এ মাসে ঘাটতির তালিকায় আরও দেড় হাজার কোটি টাকা যোগ হওয়ায় নতুন করে শঙ্কায় পড়েছেন তারা।

আর তাই আগামী রোববার মূল্য সংযোজন কর (মূসক), আয়কর ও শুল্ক বিভাগের কর্মকর্তাদের নিয়ে বৈঠকে বসছেন এনবিআরের চেয়ারম্যান গোলাম হোসেন। বৈঠকে অর্থবছরের বাকি রাজস্ব ঘাটতি কমিয়ে আনতে নানা পরিকল্পনা নির্ধারণ, আদায় বাড়াতে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের অভিযান পরিচালনা করা ও বাজেটে লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে রাজস্ব কাটছাঁট ইত্যাদি বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে।

এ বিষয়ে এনবিআরের সদস্য বশির উদ্দিন আহমেদ জানান, ঘাটতির বিষয়ে আমরা অবগত। ঘাটতির পরিমাণ কত হতে পারে তা বলা মুশকিল। তবে বাজেটে রাজস্ব আহরণের যে লক্ষ্যমাত্রা দেয়া হয়েছে তা কমিয়ে দেয়া হবে। ঘাটতির কারণ হিসেবে ব্যাংক, ইন্স্যুরেন্স, মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানি থেকে আদায় কমে গেছে। তাছাড়া রাজনৈতিক কারণে অর্থবছরের চার মাস ব্যবসা বাণিজ্য বন্ধ ছিল। এর পরও ঘাটতির অঙ্কটা বড় হবে না ।