পুঁজিবাজারে মাল্টিন্যাশনালের চমক

0
61
মাল্টিন্যাশনাল, ইপিএস, লভ্যাংশ, বিএটিবিসি, ম্যারিকো, গ্ল্যাক্সো, হাইডেলবার্গ, লাফার্জ সুরমা, multinational, berger, batbc, heidelberg, marico

মাল্টিন্যাশনাল, ইপিএস, লভ্যাংশ, বিএটিবিসি, ম্যারিকো, গ্ল্যাক্সো, হাইডেলবার্গ, লাফার্জ সুরমা, multinational, berger, batbc, heidelberg, marico  পুঁজিবাজারে ঝলসে উঠেছে বহুজাতিক (মাল্টি ন্যাশনাল) কোম্পানিগুলো। মুনাফায়, লভ্যাংশে, বাজারে শেয়ারের দামে-সব কিছুতেই এদের উর্ধমুখী ধারা। তবে আয়ের প্রবৃদ্ধির তুলনায় বাজারে শেয়ারের দর বেশি বাড়ায় বেশিরভাগ শেয়ারের মূল্য-আয় অনুপাত (পিই রেশিও) আগের মত স্বস্তিজনক অবস্থায় নেই।

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত প্রধান আটটি বহুজাতিক কোম্পানির সর্বশেষ আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, এদের সাতটিরই আয় বেড়েছে। কমেছে মাত্র একটি কোম্পানির আয়। চলতি ক্যালেন্ডার (২০১৪) বছরে যে কয়টি বহুজাতিক কোম্পানি অন্তর্বর্তীকালীন বা চূড়ান্ত লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে তাদের সবার লভ্যাংশের হার আগের বছরের চেয়ে বেড়েছে। গত বছরের একটা বড় অংশ জুড়ে দেশে ব্যাপক রাজনৈতিক অস্থিরতা বিরাজ করলেও তাকে উপেক্ষা করেই মুনাফা বাড়িয়ে নিতে সক্ষম হয়েছে এসব কোম্পানি।

পুঁজিবাজারে বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর মধ্যে লভ্যাংশে সবচেয়ে বেশি চমক সৃষ্টি করেছে বিএটিবিসি। গত বুধবার কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ ৫২০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করে। তার আগে ঘোষণা করা হয়েছিল আরও ১০০ শতাংশ অন্তর্বর্তীকালীন লভ্যাংশ। এ নিয়ে ২০১৩ সালের জন্য ঘোষিত মোট লভ্যাংশের হার দাঁড়িয়েছে ৬২০ শতাংশ।

আলোচিত বছরের কোম্পানির নিট মুনাফা ও শেয়ার প্রতি আয় বা ইপিএসও বেড়েছে। ২০১৩ সালে কোম্পানির শেয়ার প্রতি আয় হয়েছে ৮১ টাকা ১৪ পয়সা। আগের বছর কোম্পানটির শেয়ার প্রতি আয় ছিল ৬৫ টাকা ৬৯ পয়সা। এক বছরের ব্যবধানে মুনাফা বেড়েছে প্রায় ২৪ শতাংশ।

বৃহস্পতিবার একই বছরে তৃতীয়বারের মত অন্তর্বর্তীকালীন লভ্যাংশ ঘোষণা করে। ঘোষণা করা হয় ৫০০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ। এর আগে গত বছরের ২৪ অক্টোবর ২০০ শতাংশ এবং ২৪ জুলাই ১৫০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছিল। তিন ধাপে কোম্পানিটি ৮৫০ শতাংশ অন্তর্বর্তী লভ্যাংশ ঘোষণা করে বিএটিবিসি।

গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত নয় মাসে কোম্পানিটি শেয়ার প্রতি আয় করে ৩৪ টাকা ৯০ পয়সা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ২২ টাকা ৮৮ পয়সা।

ওষুধ খাতের কোম্পানি গ্ল্যাক্সো স্মিথক্লাইন ২০১৩ সালের জন্য ৩০০ শতাংশ নগদগ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। আগের বছর এটি ১৫০ শতাংশ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছিল। কোম্পানির ইপিএস ২০১২ সালের ২০ টাকা ২৫ পয়সা থেকে বেড়ে ৪৫ টাকা ৩৫ পয়সা হয়।

গত ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত তৃতীয় প্রান্তিকে বার্জার পেইন্টস আয় করে ৭২ টাকা ৭৯ লাখ টাকা। যা আগের বছর একই সময়ে ছিল ৫০ টাকা ৭৭ পয়সা। ইপিএস ২১ টাকা ৯০ পয়সা থেকে বেড়ে ৩১ টাকা ৩৯ পয়সা হয়।

সিমেন্ট খাতের হাইডেলবার্গ সিমেন্ট তৃতীয় প্রান্তিক পর্যন্ত মুনাফা করেছে ১২৩  কোটি ৬৭ লাখ টাকা, যা আগের বছর ছিল ১০৮ কোটি ৭৭ লাখ টাকা। তৃতীয় প্রান্তিক শেষে হাইডেরবার্গর ইপিএস দাঁড়িয়েছে ২১ টাকা ৮৯ পয়সা, যা আগের বছর একই সময়ে ছিল ১৯ টাকা ২৫ পয়সা।

তৃতীয় প্রান্তিক শেষে লিন্ডে বিডির ইপিএস ২৩ টাকা ৬২ পয়সা থেকে বেড়ে ৩২ টাকা ৩৫ পয়সা এবং লাফৃআর্জ সুরমা সিমেন্টের ইপিএস ১ টাকা ৬ পয়সা থেকে বেড়ে ১ টাকা ২২ পয়সা হয়েছে।

একমাত্র কোম্পানি হিসেবে তৃতীয় প্রান্তিকে আয় কমেছে রেকিটবেনকিজারের। এর ইপিএস ২৩ টাকা ০৯ পয়সা থেকে কমে ২১ টাকা ৩০ পয়সা হয়েছে।