নকল সোনার মূর্তিসহ জিনের বাদশা আটক
বৃহস্পতিবার, ২৪শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » ঢাকা

নকল সোনার মূর্তিসহ জিনের বাদশা আটক

murtiমাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার টেকেরহাট বন্দর থেকে শুক্রবার রাতে নকল সোনার মূর্তিসহ ‘জিনের বাদশা’ নামে পরিচিত আজাদ হোসেন নামের এক প্রতারককে আটক করেছে পুলিশ।

পুলিশ, স্থানীয় ও প্রতারণার শিকার পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার মনিরকান্দি গ্রামের ইকরাম মাতুব্বরের স্ত্রী সাবিনা বেগমের সাথে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে প্রতারক আজাদ হোসেন যোগাযোগ করে। নিজেকে জিনের বাদশা বলে পরিচয় দেয়। এক পর্যায় সাবিনা প্রতারণার ফাঁদে পা দিয়ে ওই প্রতারক চক্রকে ২০ হাজার টাকা দেয়। তারা আরো টাকা দাবি করলে সাবিনার স্বামী পুলিশকে ঘটনাটি জানায়। শুক্রবার রাতে মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার টেকেরহাট বন্দরে সাবিনার সাথে ওই প্রতারক চক্র দেখা করতে এলে পুলিশ কৌশলে নকল সোনার মূর্তিসহ ‘জিনের বাদশা’ আজাদ হোসেনকে আটক করে।

প্রতারণার শিকার সাবিনা বেগম বলেন, “সকল সমস্যার সমাধান করে আল্লাহর প্রিয় বান্দা হবো” এমন কথা বলে ওই প্রতারক চক্র আমার কাছ থেকে মোবাইলের মাধ্যমে অনেক টাকা নিয়েছে। আমি আমার স্বামীকে বিষয়টি প্রথমে না বললেও পরে তাকে জানাই। পুরাতন সিম কার্ড বাদ দিয়ে নতুন সিম কার্ড নেওয়ার পরও প্রায়ই জিনের বাদশা আমার সাথে ফোনে বিভিন্ন রকম আলাপ করতে থাকে। এক পর্যায়ে সে আমার সাথে দেখা করতে চায়। আমিও তাকে আমার ঠিকানা বলি। কথা মতো শুক্রবার রাতে টেকেরহাট পাগল বেসে আসে। এগুলো আমি আমার স্বামীকে জানালে সে পুলিশকে খবর দেয়। পুলিশ এসে কৌশলে আজাদ হোসেনকে টেকেরহাট বন্দর এলাকা থেকে একটি নকল সোনার মূর্তিসহ আটক করে।

সাবিনা বেগমের স্বামী ইকরাম হোসেন জানান, “প্রথমে আমার স্ত্রীর কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয় জিনের বাদশা সেজে থাকা ওই প্রতারক। পরে আমি আমার স্ত্রীকে আরেকটি মোবাইল সিম কিনে দেই। সে নতুন নম্বর সংগ্রহ করে নতুন পরিচয়ে আবার আমার স্ত্রীর সাথে কথা বলতে থাকে। এক পর্যায়ে তারা আমার স্ত্রীর সাথে দেখা করতে চায়। ঘটনাটি পুলিশকে জানানো হলে কৌশলে তাকে আটক করা হয়। আমি এই প্রতারকের কঠিন শাস্তি দাবি করি। যাতে করে বাংলাদেশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা অন্য প্রতারকরা ভয় পায়।

রাজৈর থানার সেকেন্ড অফিসার আবু তালেব জানান, ঘটনাস্থলে গিয়ে গাইবান্দার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার সংরাইল গ্রামের জয়নাল উদ্দিনের ছেলে আজাদ হোসেনকে (৩৫) পাগল বেসে থাকা অবস্থায় আটক করি। এ সময় তার কাছে থেকে একটি স্বর্ণের রং করা রুপার মূর্তি উদ্ধার করা হয়। এ ব্যাপারে রাজৈর থানায় প্রতারণা মামলা হয়েছে।

রাজৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান বলেন, প্রাথমিক পর্যায়ে ওই প্রতারক অভিযোগের বিষয় স্বীকার করে। তার সাথে আরো ২ জন আছে বলে জানান। তাদেরও আটকের চেষ্টা চলছে।

এআর

 

 

 

 

এই বিভাগের আরো সংবাদ